Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০৬-২০১৬

চলে গেলেন চাঁদে অবতরণকারী ৬ষ্ঠ মানব

চলে গেলেন চাঁদে অবতরণকারী ৬ষ্ঠ মানব

নিউ ইয়র্ক, ০৬ ফেব্রুয়ারী- এর আগেও একবার পৃথিবী ছেড়েছিলেন মার্কিন নভোচারী এডগার মিচেল। তবে চিরস্থায়ীভাবে নয়, পৃথিবী ছেড়ে নয় ঘণ্টার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন চাঁদে। এবার চিরস্থায়ীভাবেই চলে গেলেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, শনিবার ৮৫ বছর বয়সে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ হাসপাতালে মারা যান মিচেল।

অ্যাপোলো ১৪ মিশনের সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালে চাঁদে যান মিচেল। চন্দ্রপৃষ্ঠে তিনি নয় ঘণ্টা সময় কাটান। মহাশূন্যে ভিনগ্রহের প্রাণি অর্থাৎ এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন মিচেল। ২০০৮ সালের একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, এলিয়েনরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করেছে বলে তার বিশ্বাস। আরো একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘মানুষ এই বিশাল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একা- এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই।’

এদিকে এডগার মিচেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা)।  বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তিনি অন্বেষণে বিশ্বাস করতেন। প্রেসিডেন্ট কেনেডির আহ্বানে চাঁদে মানুষ পাঠানোর কাজে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। তিনি সেই অগ্রগামী নভোচারী যার কাঁধে ভর করে আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি।’

চন্দ্র অভিযান থেকে ফিরে আসার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালে নিজের ব্যক্তিগত কাজে মনোযোগ দেয়ার কারণ দেখিয়ে নাসা থেকে অবসর নেন এডগার মিচেল। এরপর গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন তিনি। মন এবং মনের অজ্ঞাত বিষয়াদি এবং পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে পড়াশোনায় নিয়োজিত হন।

মোট ১২ জন মানুষ চাঁদে পা রেখেছিলেন। এর মধ্যে এডগার মিচেল একজন। ১৯৬৬ সালে নাসায় যোগ দেয়ার পর ১৯৬৯ সালের প্রথম লুনার মডিউলের নকশা প্রণয়নে জড়িত ছিলেন তিনি।


চন্দ্রপৃষ্ঠে এডগার মিচেল

অভিযানে দুটি আলাদা সময়ে মিচেল ও শেপার্ড চাঁদে অবতরণ করেন। এ সময় তাঁরা দুজনে মিলে ৩৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে পাথরসহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করেন। সেই সময় মার্কিন পতাকাকে পেছনে রেখে শেপার্ডের বিখ্যাত সেই ছবিটি তুলে দেন মিচেল।

নিজের চন্দ্রাভিযানের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ২০১৪ সালে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে মিচেল বলেছিলেন, ‘মহাকাশ থেকে একা, নিঃসঙ্গ পৃথিবীকে দেখতে পাওয়া একটি পরম আনন্দের অভিজ্ঞতা। তখন অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, মহাকাশে ঝুলে থাকা একটি গ্রহের পুরো প্রক্রিয়ার অংশ হচ্ছে আমাদের শরীর। যে অভিজ্ঞতাটা আমি পেয়েছিলাম তাকে প্রাচীন সংস্কৃত শাস্ত্রে ‘সমাধি’ বলে উল্লেখ করা আছে।’

জীবনের একপর্যায়ে ধর্ম ও বিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে বেশ হতাশ হয়ে পড়েন মিচেল। আর নিজের এই হতাশার কথা প্রকাশ্যেও বলতেন তিনি। ১৯৩০ সালের টেক্সাসের হেয়ারফোর্ডে জন্ম নেন এডগার মিচেল। তার মৃত্যুর পর চাঁদে পা রাখা ১২ জন মানুষের মধ্যে আর বেঁচে রইলেন আর সাতজন। এরা হলেন, বাজ অলড্রিন, অ্যালান বেন, ডেভিড স্কট, জন ডব্লিউ ইয়ং, চার্লস ডিউক, ইউগেন কারনান ও হ্যারিসন স্মিথ।

উল্লেখ্য, মার্কিন নভোচারীদের মধ্যে একমাত্র তিনিই  ভূমিতে ফিরে এসে সাংবদিকেদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। বলেছিলেন ‘এটা ছিল একটি স্বর্গীয় ভূমি, যা কিনা একত্ববাদেরই পূর্ণ বহি:প্রকাশ।’  

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে