Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০৬-২০১৬

আটকে আছে প্রবাসীদের পাঠানো ৬০০ টন পণ্য

একরামুল হক


আটকে আছে প্রবাসীদের পাঠানো ৬০০ টন পণ্য

চট্টগ্রাম, ০৬ ফেব্রুয়ারী- খালাস নিয়ে জটিলতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা প্রায় ৬০০ টন পণ্য আটকে আছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী ও পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা ব্যাগেজ রুলের আওতায় পরিবারের জন্য শিশুখাদ্য, পোশাকসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসেন। আবার দেশে আসা প্রবাসীদের মাধ্যমেও অনেকে পণ্য পাঠান। এতে সহায়তা করে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন পরিবহন এজেন্সি। কিন্তু ব্যাগেজ রুলের সুবিধা নিয়ে অনেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পণ্য নিয়ে এসেছেন—এই অভিযোগে সম্প্রতি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার মো. রিয়াজুল কবির বলেন, নভেম্বর থেকে পণ্য খালাস বন্ধ। এ কারণে বিমানবন্দরে ৬০০ টন পণ্য আটকে আছে।

পণ্য খালাস বন্ধ রাখার কারণ জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর বলেন, বিমানবন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের চালান আমদানি বিধিমালার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হয় না। বিভিন্ন চালানে বাণিজ্যিক প্রকৃতির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাই ব্যাগেজ ঘোষণায় আমদানি হলেও তা খালাস দেওয়া বন্ধ আছে।

ব্যাগেজ রুলের সংজ্ঞার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা আছে—‘ব্যাগেজ’ অর্থ কোনো যাত্রী কর্তৃক আমদানি করা যুক্তিসংগত পরিমাণের খাদ্যদ্রব্য, পরিধেয়, গৃহস্থালি অথবা অন্যবিধ ব্যক্তিগত সামগ্রী।

পরিবহন এজেন্সিগুলোর সংগঠন সংযুক্ত আরব আমিরাত কার্গো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলম তৌহিদ বলেন, ‘কী পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা যাবে, তা কাস্টমসের ব্যাগেজ রুলে স্পষ্ট করা হয়নি। তাই ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য পাঠানো মালামালের মধ্যে বাণিজ্যিক প্রকৃতি খুঁজে তা আটকে দিতে পারে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।’ তিনি বলেন, ‘তিন মাসের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে আরব আমিরাতের পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন প্রবাসীরা। এ কারণে পুলিশ তাঁদের খুঁজছে। পুলিশের অভিযানের কারণে অনেকে দেশে চলে গেছেন। এতে বাংলাদেশিদের সম্পর্কে আরব আমিরাতে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে।’

মোক্তার হোসেন নামের এক প্রবাসী বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছি। নিজের এবং প্রবাসী আত্মীয়দের ৩৮৪ কেজি মালামাল কার্গো বিমানে করে আনা হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আমার মালামাল আটকে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, এভাবে বিমানবন্দরে আটকে থাকলে অনেক প্রবাসীর পাঠানো খাদ্যপণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

এ পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর মো. শহীদুজ্জামান ফারুকী বিমানবন্দরে আটকে পড়া পণ্য খালাস করতে রাজস্ব বিভাগের কাছে দুই দফা চিঠি দেন। সর্বশেষ ২৫ জানুয়ারি পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত বাংলাদেশিরা অর্থনৈতিক কারণে নিয়মিত বাংলাদেশে যেতে পারেন না। এ কারণে দেশে বসবাসরত পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি স্বল্প মূল্যে পাঠানোর জন্য প্রবাসীরা কার্গো ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সহায়তা নেন। কিন্তু মালামাল পাঠানোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় তা খালাসে জটিলতা হচ্ছে। এতে প্রেরণকারীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মো. শহীদুজ্জামান ফারুকী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসীদের মালামাল আটকে থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তাই পণ্য খালাসে জটিলতা দূর করতে রাজস্ব বিভাগকে চিঠি দিয়েছি।’

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে