Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০৬-২০১৬

যে পাঁচ কারণে মার্কিনিরা দিন দিন অসহনশীল হয়ে উঠছেন?

মিজানুর রহমান


যে পাঁচ কারণে মার্কিনিরা দিন দিন অসহনশীল হয়ে উঠছেন?

নিউ ইয়র্ক, ০৬ ফেব্রুয়ারী- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বরাবরই সহনশীল ও আশাবাদী জাতি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিনকে দিন অসহনশীল হয়ে উঠছে তারা। নির্বাচনকে ঘিরে বহু জরিপে মার্কিনিদের এমন মনোভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মূলধারার রাজনীতিক না হয়েও ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বার্নি স্যান্ডার্সদের অতিরিক্ত জনপ্রিয়তাকে প্রাথমিকভাবে এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সরাসরি প্রশ্ন হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বার্নি স্যান্ডার্স কী মার্কিনিদের দিন দিন অসহনশীল ও হতাশ করে তুলছেন?

২০১৫ সালে সিএনএন/ওআরসির এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ‘পট পরিবর্তনে’ ৬৯ শতাংশ মার্কিনি হয় ‘অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ’ নয়তো ‘কোনো না কোনোভাবে ক্ষুদ্ধ’।

নভেম্বরে এনবিসি/ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক জরিপেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৯ শতাংশ মানুষ দেশটির রাজনৈতিক সিস্টেমের কারণে ক্ষুদ্ধ।

গত মাসে এনবিসি/স্কয়ার সার্ভের আরো একটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, অতীতের যেকোনো সময়ে চেয়ে মার্কিনিরা এখন বেশি ক্ষুদ্ধ। জরিপের ফলাফল অনুসারে ৬১ শতাংশ রিপাবলিকান, ৫৪ শতাংশ শেতাঙ্গ, ৪২ শতাংশ ডেমোক্রেট, ৪৩ শতাংশ লাতিন আমেরিকান এবং ৩৩ শতাংশ আফ্রিকান আমেরিকান হতাশ ও ক্ষুদ্ধ।

নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের অন্যতম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য সাধারণ মার্কিনিদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের সমালোচনা করে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী বেন কারসন বলেছেন, ট্রাম্প বহু মার্কিনিকে হতাশ করে তুলেছেন। কারণ তারা দেখছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন’ দিন দিন ধুলিস্মাৎ হয়ে যাচ্ছে।

সাধারণ ভোটারদের মনোভাব বুঝতে পেরছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও বার্নি স্যান্ডার্স। বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, ’শুধু আমি একা নই, লাখ লাখ মার্কিনি এখন ক্ষুদ্ধ’। আর হিলারি ক্লিনটনও বলেছেন, তিনি মানুষের ক্ষোভের কারণ ধরতে পেরেছেন।

নির্বাচনের আগেে উত্তপ্ত ভোটের বাজারের মধ্যেই সাধারণ ভোটারদের হতাশা ও ক্ষোভের পাঁচটি কারণ বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি।

১. অর্থনীতি
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটশনের একজন বিশেষজ্ঞ উইলিয়ামি গ্যালস্টোন বলেছেন, গত ১৫ বছরে মার্কিন অর্থনীতি মধ্যবিত্ত মার্কিনিদের জীবনমান উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সবচেয়ে বড় কারণ এটিই।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ সংকট থেকে উত্তরণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হচ্ছে। ২০০৯ সালের ১০ শতাংশ বেকারত্বের হার ২০১৫ সালে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। গত ১৫ বছর ধরে গৃহস্থালি আয় খুবই অসন্তোষজনক।

বেকারত্বের হার কমানোর জন্য সরকার নতুন নতুন যেসব চাকরি সৃষ্টি করছে, তা নিন্মমানের বলেও মনে করছেন অনেকে। গ্যালস্টোন বলেন, মুদ্রার দু’পিঠই দেখছে মানুষ। একপাশে কোটিপতি ব্যবসায়ী, ব্যাংকের হাতে সম্পদ মজুদ থাকা আর অন্যদিকে অভিবাসী সমস্যা, মন্দা বৈশ্বিক অর্থনীতি। এ দুটোই মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

২. অভিবাসী সমস্যা
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা দ্রত পরিবর্তন হচ্ছে। ১৯৬৫ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ছয় কোটি অভিবাসী প্রবেশ করেছে। এদের সবাই কিন্তু বৈধভাবে প্রবেশ করেনি। ৪০ বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখার ৮৪ শতাংশই ছিল নন-হিস্পানিক শেতাঙ্গ। পিউ রিসার্স সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে এ সংখ্যা ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫৫ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে নন হিস্পানিক শেতাঙ্গদের সংখ্যা।  ২০৫৫ সালের মধ্যে এশিয়ানরা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হবে।  

‘দ্য নেক্সট আমেরিকা’ বইয়ের লেখক পল টেইলর বলেন, এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি বড় মাইলফলক। কেউ কেউ এ পরিবর্তনকে স্বাগত জানাবে, কেউ বিরাগভাজন হবে। বয়স্ক ও শেতাঙ্গ নাগরিকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে তখন অপরিচিত মনে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রায় ১২ লাখ অবৈধ অভিবাসী আছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসী বিশেষজ্ঞ রবার্টো সুরো বলেন, অভিবাসীরা প্রায়শই ক্ষোভের শিকার হচ্ছে। সন্ত্রাস, বেকারত্ব, বিভেদের জন্য প্রায়ই অভিবাসীদের দায়ী করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৪ জন নিহত হওয়ার পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকান অভিবাসী ও মুসলিমদেরকে সরাসরি দায়ী করেছিলেন।

৩.ওয়াশিংটন
পিউ রিসার্ট সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রিপাবলিকান ও ৭২ শতাংশ ডেমোক্রেটই সরকারকে পুরোপুরি নয়, আংশিক ও মাঝে মাঝে বিশ্বাস করে। প্রতি দশজন আমেরিকানের মধ্যে ছয়জনই মনে করে, সরকারের হাতে অনেক ক্ষমতা আছে। এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্পষ্টত দুটো পক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। এক পাশে আছে ট্রাম্প আর স্যান্ডার্সের মতো কঠোর মনোভাব সম্পন্ন প্রার্থীরা। আর অন্যদিকে আছে তুলনামূলক সহনশীল প্রার্থী যারা রাজনৈতিক বিপ্লবের পক্ষে। নানা ক্ষেত্রে এসব দ্বিধা মার্কিনিদের হতাশা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

৪. বর্তমান বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে আসছে। পিউ রিচার্স সেন্টারের জরিপ বলছে, ২০১২ সালে ৩৮ শতাংশ মার্কিনিদের তাদের দেশকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ মনে করত। কিন্তু ২০১৪ সালে তা ২৮ শতাংশে এসে ঠেকেছে। ৭০ শতাংশ মার্কিনি মনে করে, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা দিনকে দিন কমছে।

যে দেশটি বরাবরই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশের মর্যাদা পেয়ে আসছে, অথচ গত ১৫ বছর ধরে সে দেশটিই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বারবার ভুল করেছে, ৯/১১-তে যে যুদ্ধ শুরু করেছে, আজও সেযুদ্ধ থেকে বের হতে পারেনি। এসব ঘটনা প্রতিটি আমেরিকানের জন্যই পীড়াদায়ক। চীনের উত্থান, তালেবান ও আইএস দমনে ব্যর্থ হওয়া মানুষের ক্ষোভকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।  

৯/১১-এর চেয়েও বড় সন্ত্রাসী হামলার আতঙ্ক ও হুমকিতে আছে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্ক টাইমস/সিবিএস-এর জরিপে পাওয়া গেছে মার্কিনিদের এ মনোভাব।

৫. বিভক্ত জাতি
ডেমোক্রেট আর রিপাবলিকানরা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আদর্শিকভাবে বেশি বিভক্ত এখন। রিপাবলিকানরাও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি রক্ষণশীল।

রাজনৈতিক ও আদর্শিক এ বিভেদের কারণে অভিবাসী সমস্যা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সমস্যার মতো বড় বড় সমস্যাগুলো নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা যাচ্ছে না। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে