Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০৫-২০১৬

লেখালেখি ধরে রাখতে চান গুলতেকিন খান

লেখালেখি ধরে রাখতে চান গুলতেকিন খান

ঢাকা, ০৫ ফেব্রুয়ারী- লেখক হুমায়ূন আহমেদের প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খান লেখালেখি ধরে রাখতে চাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে সেজন্য সবার আশীর্বাদ চেয়েছেন।

গুলতেকিন খান কৈশোর থেকে কবিতা লিখলেও তার কবিতার বই বেরিয়েছে এই প্রথম, যার প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয় শুক্রবার বিকালে বাংলা একাডেমি কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে।

অনুষ্ঠানে গুলতেকিন খান বলেন, “আমি লিখে যাচ্ছি, সেটা আমার নিজের মতো। বই বেরিয়েছে এবার প্রথম। যদি এর দুয়েকটা লাইন, কোনো একটা কবিতা যদি কারও ভালো লাগে, তাতেই আমি খুবই খুশি হব। আমার এর বেশি কিছু চাওয়ার নাই।”

লেখালেখি ধরে রাখতে চওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন, যেন সেটা ধরে রাখতে পারি। যেটা শুরু করেছি কবিতায়।”

এবারের একুশের বইমেলার শুরুতেই এসেছে গুলতেকিন খানের প্রথম কবিতার বই ‘আজো, কেউ হাঁটে অবিরাম’।

গুলতেকিন বইটি উৎসর্গ করেছেন দাদা প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খানকে, লিখেছেন- ‘প্রথম পাঠক, পথ প্রদর্শক, আমার দাদা প্রিন্সিপ্যাল ইব্রাহীম খানকে’।


হুমায়ূনের অনেক বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষের আঁকা প্রচ্ছদে গুলতেকিনের বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক হুমায়ূন যখন উপন্যাস লিখে নাম কুড়াতে শুরু করেছিলেন, তখন তাকে বিয়ে করেন গুলতেকিন। ২৮ বছরের দাম্পত্যে চার সন্তানের বাবা-মা তারা।

২০০৪ সালে গুলতেকিনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হুমায়ূন বিয়ে করেন শাওনকে। তবে গুলতেকিনের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখতে দেখা গেছে এই লেখকের পরিবারের সদস্যদের।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মঞ্চে সাবলীল না থাকতে পারার কথা জানান গুলতেকিন খান।

“আমি এক সময় গান গাইতাম। বাসায় ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিয়ে মঞ্চে যাই। অনেক চেষ্টা করে মঞ্চে উঠে গানটা গাইলাম। গাওয়ার পর বন্ধুরা বলল, আবৃত্তিটা ভালো হয়েছে। এই হলো আমার গান গাওয়ার ইতিহাস”, হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

বই ছাপানোর জন্য তাম্রলিপির প্রকাশক তারিকুল ইসলাম রনিকে ধন্যবাদ জানিয়ে গুলতেকিন বলেন, “রনিকে ধন্যবাদ এই রকম একটা রিস্ক নেওয়ার জন্য। রনি বলেছে, কবিতার বই মাত্র পাঁচশ’ ছাপানো হয়। আমি ভাবলাম, আমি এতদিন শুনে আসছি জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিকের প্রথম সংস্করণই পাঁচ হাজার কপি ছাপা হয়!

“আমিও শঙ্কিত সেটা নিয়ে। কবিতার বই পাঁচশ’ ছাপলেও নাকি বিক্রি হয় না!”

তিনি বলেন, “আমি আসলে বই বিক্রির জন্য কবিতা লিখিনি। কারও যদি কোনো একটি কবিতার দুয়েকটি লাইনও ভালো লাগে তবেই আমি নিজেকে সার্থক মনে করব।”


বইমেলায় তাম্রলিপির স্টল

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষকের জন্য সবচেয়ে আনন্দের উপলক্ষ হলো, যখন তার ছাত্র বা ছাত্রী কোনো কিছু অর্জন করে। আর সেই অর্জনের মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে পারাটা তারচেয়ে বেশি আনন্দের।

“আজকে গুলতেকিনের বইয়ের ক্ষেত্রেও সেটা আমার হয়েছে। এ কারণে শত ব্যস্ততার মধ্যেও এখানে উপস্থিত হয়েছি।”

বইটি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শিক্ষক হিসেবে সাহিত্য সমালোচনার দিকে মনোযোগ দিতে চেয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “সাহিত্যের মাপকাঠি দিয়েও দেখলাম, এই কবিতার বইটি নিয়ে কিছু বলার নাই।”

গুলতেকিনের ওপর দিয়ে অনেক ‘ঘাত-প্রতিঘাত’ গেলেও তাকে কখনও মলিন হতে দেখেননি বলে জানান তার শিক্ষক অধ্যাপক মনজুরুল।

লেখালেখিতে নিজের ছাত্রী গুলতেকিন যেন ‘মানটা ধরে রাখতে পারে এবং আরও ‍উন্নতি ঘটাতে পারে’ সেই আশীর্বাদও করেন তিনি।

প্রকাশনা উৎসবে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, কবি গোলাম ফারুক খান, কবি তুষার দাশ, রম্যলেখক আহসান হাবিব ও গুলতেকিন খানের মেয়ে নোভা আহমেদ।

সাংবাদিক গনি আদমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের পাঠানো বক্তব্য পড়ে শোনান প্রকাশক তারিকুল ইসলাম রনি।


জাফর ইকবাল তার বক্তব্যে গুলতেকিনের ‘কী যায় আসে’ কবিতাটির শেষ চার লাইন যোগ করেন।

লাইন চারটি হচ্ছে-

ভুল করেছি বেশ করেছি

তোমার তাতে কী যায় আসে;

চরাও তুমি নিজের গরু

নিজের বোনা দুর্বাঘাসে।।

বক্তব্যে জাফর ইকবাল বলেছেন, “আমরা সবাই জানি গুলতেকিন খানের জীবন একটি অন্যরকম জীবন। আমি তাকে অনেকবার বলেছি, ভাবি তুমি তোমার নিজের জীবনকে নিয়েই লেখ। তোমার যে অভিজ্ঞতা পৃথিবীর খুব বেশি মানুষের তা হয়নি, মানুষের সেটা জানা প্রয়োজন।”

গুলতেকিন খানের কবিতাগুলো খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, “তাকে ব্যক্তিগতভাব খুব কাছ থেকে পারিবারিকভাবে চিনি বলে কি না- জানি না, তার অপূর্ব কবিতাগুলোর মাঝে দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শোনা যায়, কখনও কখনও নিজের মাঝে চাপা বেদনা অনুভব করেছি।

“আমি তাকে আর জীবনেও লিখতে বলব না। কারণ কবিতাগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়েছে, তার জীবনের কথাগুলো তো এই কবিতার মধ্যেই আছে। কঠিন গদ্যে আলাদা করে লেখার কী প্রয়োজন। তার কবিতার চারটি লাইন দিয়ে শেষ করি।”

ছয়টি বিভাগে সাজানো ‘আজো, কেউ হাঁটে অবিরাম’ বইটিতে গুলতেকিনের ৩৫টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

বিভাগগুলো হলো- ‘ভরে যাক সবার খামার’, ‘রাত্রিকে বাঁধো আজ’, ‘বাজুক স্কুলের ঘণ্টা’, ‘আস্তিজুড়ে মাখিয়েছি কাদা ধুলো’, ‘ফ্রেমে বাঁধলেই শিল্প’ এবং ‘জানতো না, জানতো না’।


হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর এক শোকসভায় গুলতেকিন (ডানে)

বইয়ের ভূমিকায় লেখা হয়েছে- সামান্যকে খুব সাধারণ করে তোলা কবি গুলতেকিন খান-এর সহজাত প্রবৃত্তি। পার্সিয়ুস থেকে লালন আর কাহলিল জিবরান থেকে বব ডিলান পর্যন্ত তার স্বচ্ছন্দ যাতায়াত। এদেশের গরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মতোই ছন্দময়তার দিকে তার ঝোঁকটির সঙ্গে অনেকেই একাত্ম হয়ে উঠবেন অনায়াসে।

এতে আরও লেখা হয়েছে- “এটি তার প্রথম কবিতার বই এ কথা জেনে অনেকেই বিস্মিত হতে পারেন, তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃদু কিন্তু সুঠাম উচ্চারণ সবাইকে আচ্ছন্ন করে তুলবে।”

লেখক পরিচিতিতে লেখা বলা হয়েছে- পেশায় শিক্ষকতা, নেশায় শিল্প ও সাহিত্য আর প্রবণতায় সর্বজীবের প্রতি শ্রদ্ধা আর মানবতা। লেখালেখিতে হাতেখড়ি হয়েছিল সেই প্রথম কৈশোরেই; ছাপার অক্ষরে প্রথম লেখা দেখে দাদা এদেশের প্রবাদ-প্রতীম শিক্ষাগুরু প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খান, পৈতৃক ভিটে ধানমণ্ডির ‘দখিন হাওয়া’য় মাথায় হাত রেখে উপহার দিয়েছিলেন নগদ পাঁচ টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের পাঠ নিয়ে ‘জীবনের প্রয়োজনে’ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা শুরু করলেও ততদিনে হারিয়েছেন লেখার খাতা, বলা হয়েছে পরিচিতিতে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে