Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০৪-২০১৬

আলেপ্পো ঘিরে ফেলেছে আসাদ বাহিনী

আলেপ্পো ঘিরে ফেলেছে আসাদ বাহিনী

দামেস্ক, ০৪ ফেব্রুয়ারি- সিরিয়ার নগরগুলোর মধ্যে আলেপ্পো অন্যতম। গত বছরের মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠি দায়েশ(বিবিসি বর্ণিত ইসলামিক স্টেট) কার্যত আলেপ্পো নগরীর দখল নিয়ে নেয়। গত বছরের শুরু অবধি নগরীটির একাংশের দখল দেশটির সরকারি বাহিনীর হাতে থাকলেও বছরের শেষে বিদ্রোহীরা এবং দায়েশ পুরো নগরীর দখল নিয়ে নেয়। আর সেই থেকেই শুরু হয় ঐতিহাসিক আলেপ্পো নগরী ধ্বংসের সকল পায়তারা। সিরিয়ার বিদ্রোহী ফ্রি সিরিয়া আর্মি থেকে শুরু করে অন্যান্য গোষ্ঠি পর্যন্ত ওই নগরীতে তাদের প্রশাসনিক দপ্তর খুলতে শুরু করে। কিন্তু ২০১৫ সালের শেষের দিকে রুশ বিমানবাহিনীর সহায়তায় ক্রমশ আলেপ্পো দখলের দিকে আগাতে থাকে সিরীয় সরকারি বাহিনী।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ওই রুশ বাহিনীর সহায়তায় পুরো নগরীটিকেই অবরুদ্ধ করে ফেলে সিরীয় বাহিনী। আর এই অবরুদ্ধ করার পদক্ষেপ হিসেবে আসাদ বাহিনী শুরুতেই নগরীর সঙ্গে তুরস্কের অন্যতম রসদবাহী রুটটি দখল করে নেয়। গত পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধে এই প্রথমবারের মতো সিরীয় বাহিনী কোনো অভিযানে বিশাল সফলতা পেতে যাচ্ছে। একটানা তিনদিনের লড়াইয়ের ফলে গত বুধবার পুরো নগরীটিকে অবরুদ্ধ করতে সমর্থ্য হয় আসাদ বাহিনী। আর এই অভিযানে সিরীয় বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছিল ইরান সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া বাহিনী ও আদিবাসী গোষ্ঠি নবুল ও জাহারা।

ভৌগোলিকভাবে দায়েশের জন্য এই নগরীটি শুরু থেকেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ এই শহর হয়েই মূলত তুরস্কের সঙ্গে সকল যোগাযোগ রক্ষা করতো দায়েশ। সিরীয় বাহিনী আলেপ্পোর দিকে আগাতে শুরু করলে দায়েশ ও ফ্রি সিরিয়া আর্মির সদস্যরা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তুলবার চেষ্টা করে। কিন্তু রুশ বিমানবাহিনী নগরীটির বিশেষ স্থানগুলোতে বোমা হামলা চালানো শুরু করলে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিদ্রোহী ও দায়েশ বাহিনী।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো আলেপ্পোয় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ বিমান হামলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত এবং নিহত হয়েছেন। কিন্তু আলেপ্পোর ভেতরে কোনো সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী প্রবেশ করতে না পারায় সঠিকভাবে নিরুপন করা যাচ্ছে না যে কত সংখ্যক মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে। তবে নগরীর বাইরে সিরীয় বাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ডাক্তাররা ও মানবাধিকার কর্মীরা জড়ো হয়েছেন আহত ও নিহতদের জরুরী সেবা দেয়ার জন্য।

আলেপ্পো নগরীর প্রশাসনিক অংশ তাল জাবিন শহরে এর আগে বোমাহামলা চালিয়েছিল রুশ বিমানবাহিনী। ওই হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানা যায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মারফত। কিন্তু কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে রুশ প্রশাসন। গত সপ্তাহেই জাতিসংঘের দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, রুশ বাহিনীর বিমান হামলায় তিনজন মানবাধিকারকর্মী নিহত হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ তাদের বাড়ি হারিয়েছে।

তবে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সিরীয় বিদ্রোহীরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লাতাকিয়ায় অবস্থান নিচ্ছে পরবর্তী অভিযানের জন্য। বিশ্লেষকদের মতে, লাতাকিয়াই হলো বিদ্রোহীদের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাটি। আসাদ বাহিনীর হাতে এই প্রদেশটির পতন হলে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের আর কোনো শক্তিশালী ঘাটি থাকবে না। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী গোষ্ঠি দায়েশও অকার্যকর হয়ে যাবে। এখানে উল্লেখ্য যে, আলেপ্পো যখন আসাদ বাহিনী ঘিরে ফেলছে তখন জেনেভায় বিদ্রোহী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনায় বসেছে সিরীয় প্রশাসন। আর এই আলোচনা চলাকালীন সময়েই আলেপ্পোর মতো শক্তঘাটিকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলেছে রুশ বিমানবাহিনী ও সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী।

মধ্যপ্রাচ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে