Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০৪-২০১৬

ঘাঘট নদের দুঃখ মোচন হয় না

ঘাঘট নদের দুঃখ মোচন হয় না
ছবি মঈনুল ইসলাম এর সৌজন্যে

রংপুর, ০৪ ফেব্রুয়ারী- ঘাঘট নদের দুঃখ মোচন হচ্ছে না যেন কিছুতেই। আইন ও পরিবেশবাদীদের সতর্কবাণী শুনছে না মানুষ। কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না নদ থেকে মাটি কাটা। একদিকে মাটি কাটা বন্ধ করা হচ্ছে তো অন্যদিকে মাটি কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা।

সর্বশেষ নদটির মনোহরপুর এলাকায় সিংগীমারী রেলসেতুর নিচে মাটি কাটা শুরু হয়েছে। সেখান থেকে ট্রাকে ট্রাকে করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন দুই ব্যবসায়ী।
এর আগে গত রোববার নগরের উত্তম হাজিপাড়া এলাকায় ঘাঘট নদে বাঁধ দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

দুই দিন না যেতেই উত্তম হাজিপাড়ার আট কিলোমিটার দূরে নতুন করে শুরু হয়েছে মাটি কাটা।

অথচ ২০১০ সালের ৬২ নম্বর আইনের ৪ ধারায় বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ হতে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এখানে ৪(খ) ধারায় আরও বলা আছে, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা হতে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিংগীমারী এলাকায় রেলসেতুর ২০০ থেকে ২৫০ গজ দূরে চলছে মাটি কাটা। পরে সেই মাটি ট্রাক ও ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হয় বিক্রির জন্য। মনোহরপুরের দুই মাটি ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম ও নাসির মিয়া এই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। তাঁরা মঙ্গলবার থেকেই এভাবে মাটি কাটা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানান। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ১০টি ট্রাক ও ট্রলিতে করে মাটি নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রেলসেতুর ঠিক নিচে নদের দুই পাশ ঘেঁষে মাঝে সামান্য ফাঁকা রেখে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। আর দুই বাঁধের সংযোগ করা হয়েছে কাঠের সেতু করে। মূলত সেই সেতু দিয়েই যাওয়া-আসা করছে মাটিবাহী ট্রাক ও ট্রলিগুলো।
মনোহরপুর ও আশপাশ এলাকায় প্রায় ১০ হাজার মানুষের বাস। সেখানে নদের ওপর সিংগীমারী রেলসেতু। এভাবে মাটি কাটায় রেলসেতুটি হুমকির মধ্যে পড়েছে। তা ছাড়া বর্ষায় এলাকায় ভাঙন দেখা দিতে পারে।

মনোহরপুর গ্রামের কৃষক আজম আলী বলেন, নদের পাশে তাঁর একটি পুকুর রয়েছে। যেখানে মাছ চাষ করেন। তবে যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে সামনের বর্ষায় পুকুরটি ভেঙে যেতে পারে।

একই এলাকার কৃষক আনওয়ারুল ইসলাম বলেন, মাটি কাটা বন্ধে নিষেধ করায় তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। যেভাবে নদের পার কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে এখানকার আবাদি জমি হুমকির সম্মুখীন। একই কথা জানালেন কৃষক আমিন মিয়াসহ আরও অনেকে।

জানতে চাইলে রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল জব্বার বলেন, রেলসেতুর নিচ ও পাশ থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় রেলসেতু হুমকির মধ্যে পড়বে। তবে এভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানা নেই।

সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ফাউজুল কবির বলেন, আইন অনুযায়ী এভাবে নদী বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। কেউ করে থাকলে তা অবৈধ। নদ থেকে মাটি কাটার বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগ করলে মাটি ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম দাবি করেন, এভাবে মাটি কাটলে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এর বেশি তিনি কিছু বলেননি।

রংপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে