Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (81 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০৪-২০১৬

প্রতিদিন নিধন হচ্ছে পরিযায়ী পাখি

নেয়ামতউল্যাহ


প্রতিদিন নিধন হচ্ছে পরিযায়ী পাখি

ভোলা, ০৪ ফেব্রুয়ারী- মেঘনার ডুবোচরে বিষটোপ দিয়ে প্রতিদিন শত শত পরিযায়ী পাখি নিধন করা হচ্ছে। আর সেগুলো বিক্রি হচ্ছে বাসাবাড়ি ও হোটেলে। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

জানুয়ারির শেষ সাত দিন পাখির প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রগুলো ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের নেয়ামতপুর চরের পূর্বে মেঘনার মধ্যে জেগে উঠেছে নতুন চর। প্রতিদিন সকালে এ চরে বিষ মেশানো ধান ছিটিয়ে রাখা হয়। ওই ধান খেয়ে পাখি ঢলে পড়লে সেগুলো ধরে বাসাবাড়ি ও হোটেলে বিক্রি করা হয়। এসব হাঁসের মূল্য প্রতিটি ২৫০-৩০০ টাকা।

অথচ ২০১২ সালের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করে বলেন, এ কাজে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের সাহেগোমোড় ও সুবেদারমোড় এলাকার তিনটি দল জড়িত। একটি দলের নেতা আলমগীর। আরেকটির নেতৃত্ব দেন যৌথভাবে মিলন ও লিটন। অপর দলটির দুই নেতা হলেন আলাউদ্দিন ও আলমগীর। সরেজমিনে তাঁদের পাখি ধরতে দেখা যায়। কিন্তু তাঁদের কয়েকজন পরিচয় গোপন করেন এবং এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদী ও সাগর মোহনায় রয়েছে শতাধিক ডুবোচর। যেখানে ভাটার সময় সর্বোচ্চ হাঁটুপানি থাকে। এসব নতুন চরকে লোকে লেচকির চর বা কাঁচা চর বলে। এসব চর পরিযায়ী পাখিদের নতুন বিচরণকেন্দ্র। কিন্তু সরেজমিনে ভোলার কানীবগারচর, ভোলারচর, গাজীপুরারচর, মধুপুর, মদনপুর, নেয়ামতপুরসহ ইলিশা ও সাগর মোহনায় জেগে ওঠা বেশ কয়েকটি চরে পাখি ও মাছশিকারিদের আনাগোনা দেখা যায়।

ভোলার বিভিন্ন উপজেলার কমপক্ষে ৫০ জন কৃষক ও জেলে বলেন, এসব চরে প্রতিদিন শত শত বালিহাঁস, সিঁথিহাঁস, চখাচখি হাঁস আসে। শিকারিরা প্রতিদিন অনেক পাখি ও হাঁস মেরে নিয়ে যান। চরাঞ্চল ও শহর থেকে আসা অনেক শৌখিন শিকারিও পাখি নিধন করছেন। কিন্তু জেলে ও কৃষকেরা প্রশাসন ও বন বিভাগকে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখেননি।

ভোলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র দে বলেন, ২০১৫ সালে পাখি শিকারের অপরাধে সাতজনকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরে কোনো অভিযান হয়নি।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ আবদুর রহমান বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে বিশ্বের অন্য স্থানের সঙ্গে ভোলাতেও জলচর পাখিশুমারি হচ্ছে। দিন দিন এ এলাকায় পাখির সংখ্যা কমছে।

এবার জলচর পাখিশুমারি দলের সঙ্গে ছিলেন পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। তিনি বলেন, ভোলার চারপাশে সাগর মোহনা ও মেঘনা-তেঁতুলিয়ার মধ্যে জেগে ওঠা চরগুলো অতিথি ও দেশি প্রজাতির পাখির প্রধান প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু পাখি ও মাছশিকারিরা এগুলো ধ্বংস করছেন। বন কেটে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষাবাদ চলছে। অবৈধ জাল ও ধানের সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ও পাখি শিকার হচ্ছে।

উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণে ভোলার প্রতিটি রেঞ্জে নজরদারি দল আছে। কিন্তু সর্বক্ষণ নজরদারি করতে অভিযান খরচ ও অস্ত্র দরকার। তাই সব সময় সব এলাকায় এ নজরদারি বজায় রাখতে পারছি না।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে