Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.8/5 (17 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০৪-২০১৬

রাতে কেটে নেওয়া হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ

রাতে কেটে নেওয়া হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ

পটুয়াখালী, ০৪ ফেব্রুয়ারী- পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত-সংলগ্ন গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ রাতের আঁধারে একটি চক্র কেটে নিচ্ছে। গত বছরও কয়েক দফায় এভাবে গাছ কাটা হয়। এদিকে সংরক্ষিত বনের জমি দখল করতে পাশেই জায়গা চিহ্নিত করে একটি রিসোর্টের নামে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গঙ্গামতি সৈকত লাগোয়া সংরক্ষিত বনের ভেতরের বিভিন্ন জায়গায় কাটা গাছের গোড়া। বনের ভেতর দিয়ে সৈকতের দিকে নামলেই কেওড়াগাছ কেটে নেওয়ার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। এমনকি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশের খালি জমিতে ‘সানরাইজ বিচ রিসোর্ট-কুয়াকাটা’ নামে একটি সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। সাইনবোর্ডটিতে কোনো ফোন বা মুঠোফোন নম্বর নেই। এটা কারা, কখন টানিয়েছে তা কেউ বলতে পারছে না।
বন বিভাগের কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে ৩০টি কেওড়াগাছ কেটে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে গাছ কাটার বিষয়টি নজরে আসে। এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি বন বিভাগের গঙ্গামতি বিটের কর্মকর্তা পারভেজ আহমেদ বন আইনে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন। এদিকে মামলা হওয়ার পরও ২৭ জানুয়ারি রাতে আরও ৪০টি কেওড়াগাছ কেটে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আদালতে আরেকটি মামলা করা হয়। দুই মামলাতেই আবদুর রহমান সরদার নামের স্থানীয় এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। বিট কর্মকর্তা পারভেজ আহমেদ অবশ্য বলেছেন, এর সঙ্গে আবদুর রহমান একা জড়িত নন। আরও ১৫-২০ জনের একটি চক্র জড়িত আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, বড় আকারের গাছগুলো চোর বা বনদস্যুরা কাটেনি। সাইনবোর্ড যারা লাগিয়েছে, তারাই হয়তো গাছ কেটেছে। বন বিভাগের গঙ্গামতি বিটের কর্মীদের সঙ্গে কোনো না কোনো সমঝোতা করেই হয়তো ওই ৭০টি গাছ কাটা হয়েছে। এর বাইরে আরও কিছু গাছ কাটা হয়েছে। শহিদুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এমনিতেই গত কয়েক বছর জলোচ্ছ্বাস-ঘূর্ণিঝড়ে গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনের ছোট-বড় গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ৫০-৬০ হাজার গাছ জোয়ারের তোড়ে উপড়ে পড়েছে। উপড়ে পড়া গাছ ও প্রাকৃতিকভাবে মরে যাওয়া গাছের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে গঙ্গামতি বন থেকে শত শত জীবন্ত গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।

আবদুস ছত্তার হাওলাদার নামের আরেকজন বলেন, ‘রাইতের আন্ধারে ক্যারা গাছ কাটতে পারে, বন বিভাগের লোকজন চেষ্টা করলেই তো বাইর করতে পারেন।’
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘গঙ্গামতি বনাঞ্চলের ৩৩ কানি এলাকায় সাত-আটটি জায়গায় আগুন দিয়ে গাছ পুড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ আমি পেয়েছি। এ ছাড়া গাছ কেটে তা না নিয়ে পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। এসব কারণে মনে হচ্ছে, ওই চক্রটি নেওয়ার জন্য গাছ কাটেনি, বনের জমি জবরদখল করার জন্য গাছগুলো কেটেছে। বিষয়টি আমি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।’

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) অজিত কুমার রুদ্র বলেন, ‘আমি গাছ কাটার খবর শুনে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ বিভাগকে বলেছি। তবে এতটুকু বলতে পারি, সরকারি বন জবরদখল করার প্রবণতা বন্ধ করার জন্য আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেব।’

তিনি আরও বলেন, বনাঞ্চলের পাশে কীভাবে সাইনবোর্ড টানানো হলো, তা চিহ্নিত করতে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ওই এলাকার ভূমির মানচিত্রসহ প্রতিবেদন দিতে বলেছি। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর বনের সীমানা নির্ধারণ করতে যৌথ জরিপ করার জন্য ভূমি কার্যালয়ে আবেদন জানানো হবে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে