Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০৩-২০১৬

সীতাকুণ্ডে পাহাড় কাটছে সাংসদের প্রতিষ্ঠান

প্রণব বল


সীতাকুণ্ডে পাহাড় কাটছে সাংসদের প্রতিষ্ঠান

চট্টগ্রাম, ০৩ ফেব্রুয়ারী- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরা এলাকায় পাহাড় কেটে ইস্পাত কারখানা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলমের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। পাহাড়ের যে অংশ কাটা হচ্ছে, সে অংশটি টিনের প্রাচীর দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।

তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, পাহাড় কাটা হচ্ছে না। মাটি সমান করার জন্য পাহাড়ের কিছু অংশ হয়তো ছাঁটা হয়েছে। চার মাস আগে প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এ কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হয়।

সাংসদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন ইস্পাত লিমিটেড। বড় কুমিরার যে এলাকায় কারখানাটি গড়ে উঠছে, তার পাশেই গোল্ডেন ব্রিকস লিমিটেড নামের একটি ইটভাটা রয়েছে। এটিও সাংসদ পরিবারের। তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক সাংসদ দিদারুল আলম। তাঁর বাবা এম এ তাহের গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং চাচা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

অভিযোগের বিষয়ে সাংসদ দিদারুল আলম বলেন, ‘গোল্ডেন ইস্পাত করা হচ্ছে। কিন্তু ওটার সঙ্গে আমি সরাসরি জড়িত নই। আমাদের পরিবারের লোকজন দেখাশোনা করছে। যদি পাহাড় কেটে থাকে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এসি ল্যান্ড পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

সাবেক মেয়র ও তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, ‘আমরা ওখানে পাহাড় কাটিনি। কারখানা করার জন্য কিছু উঁচু–নিচু জায়গা সমতল করেছি।’

বড় কুমিরা মাজার গেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের কাছেই গোল্ডেন ব্রিকস লিমিটেড। এর পাশেই পাহাড়ি এলাকায় গোল্ডেন ইস্পাত লিমিটেড কারখানার নির্মাণকাজ চলছে। পাহাড়টির নিচ দিয়ে বয়ে গেছে ছড়া। ছড়ার ওপরে পাহাড়ের তিন দিক টিন দিয়ে ঘেরাও করে ভেতরে কারখানার নির্মাণকাজ চলছে।
গত ২৬ জানুয়ারি সরেজমিনে সেখানে শ্রমিকদের পাহাড় কাটতে দেখা যায়। কারখানার সামনে ছিল এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র)।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার মাস আগে যখন কারখানাটির নির্মাণকাজ শুরু হয়, তখন জায়গাটিতে টিনের ঘেরাও ছিল না। লোকজন মুঠোফোনে পাহাড় কাটার ছবি তোলা শুরু করলে টিন দিয়ে এলাকাটি ঘেরাওয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া ওই পাহাড় ও পাশের একটি পাহাড়ে দারোয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ ছবি তুলতে না পারে।

পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তাহের অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক সরোয়ার আলম বলেন, যে জায়গায় কারখানা হচ্ছে, সেটি পাহাড়ের পাদদেশে সমতল এলাকায়। মাটি সমান করার জন্য পাহাড়ের কিছু অংশ হয়তো ছাঁটা হয়েছে। পাহাড় কাটা হচ্ছে না।

পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার আগে আমি ওই জায়গাটি পরিদর্শন করেছিলাম। সেখানে একটি খালি জায়গা ছিল। তার পাশেই পাহাড়। আমরা পাহাড়ে হাত দিতে নিষেধ করেছিলাম। এখন যদি পাহাড় কাটে, তাহলে বিষয়টি দেখব।’

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে