Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০২-২০১৬

৬২ শতাংশ চলে চুক্তিতে, বকশিশ চান ৮১ শতাংশ চালক

৬২ শতাংশ চলে চুক্তিতে, বকশিশ চান ৮১ শতাংশ চালক

ঢাকা, ০২ ফেব্রুয়ারী- ঢাকার রাস্তায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার নৈরাজ্য বন্ধ হচ্ছে না। চালক-মালিকদের চাহিদা মেনে ভাড়া বৃদ্ধির পরও ৬২ শতাংশ চালক চুক্তিতে যেতে যাত্রীদের বাধ্য করছেন। মিটারে গেলেও বকশিশ দাবি করছেন ৮১ শতাংশ। যাত্রীর পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হচ্ছেন না ৭৩ শতাংশ চালক।

রাজধানীর গণপরিবহনের এই চিত্র উঠে এসেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমীক্ষায়। গত ২০ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১ হাজার ৯৩টি অটোরিকশার যাত্রীসেবা পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটি। এ সময় ১ হাজার ১৬০ জন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে তারা। গত রোববার যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের সমীক্ষার ফলাফল গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পাঠায়। মালিক-চালকদের মনঃপূত ভাড়া কার্যকরের পরও ‘কেমন চলছে অটোরিকশা?’ শিরোনামে সমিতির গণপরিবহনে ভাড়া-নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটির সদস্যরা এই সমীক্ষা চালান।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বাহন হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসে নামমাত্র খরচে পরিচালিত হচ্ছে অটোরিকশা। এরপরও মালিক, চালক ও সরকার মিলে যাত্রী স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে গত বছর ১ নভেম্বর থেকে একলাফে এর ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ সময় মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেছিলেন, অটোরিকশার দৈনিক জমা ও ভাড়া তাঁদের মনঃপূত হয়েছে। কয়েক দিন মোটামুটি ভালো চললেও এই খাতে আবার নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য ভাড়া বৃদ্ধির আগেও চালক-মালিকেরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে অটোরিকশা চালাননি। দীর্ঘদিন ধরে চালকেরা অভিযোগ করে আসছেন, মালিকেরা সরকারনির্ধারিত হারের দ্বিগুণ জমা নিচ্ছেন। এই সমীক্ষাতেও এ অভিযোগ আবার এসেছে।

এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, উড়ালসড়কের টোল ও বিভিন্ন মোড়ে শ্রমিক ইউনিয়নের বা অন্য নানা ছুতোয় যে চাঁদায় আদায় করা হয়, তা-ও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। মালিক-চালকদের এই নৈরাজ্য বন্ধ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই নৈরাজ্য বন্ধে ট্রাফিক পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) একসঙ্গে অভিযান শুরু করতে হবে। প্রতিটি অটোরিকশা নির্ধারিত ভাড়া ও অভিযোগ করার ফোন নম্বর-সংবলিত নোটিশ টাঙানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। এটাও নিশ্চিত করতে হবে, যাত্রী অভিযোগ করার পর এর প্রতিকার পাওয়া যাবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু কিছু চালক মিটারে যাত্রী বহন করেন। তবে তাঁদের ৮১ শতাংশই যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বকশিশ আদায় করেন। এ ছাড়া ৩৮ শতাংশ অটোরিকশায় মিটার নেই। এগুলো ‘ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট’ ও ‘ঢাকা জেলায় চলাচল করবে’—এই শর্তে নিবন্ধন নেওয়া।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা যেসব এলাকায় পর্যবেক্ষণ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে সদরঘাট, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, পল্টন, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা, মতিঝিল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, খিলগাঁও চৌরাস্তা, ফকিরাপুল, ফার্মগেট, মালিবাগ, মিরপুর-১০, ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ, বিমানবন্দর ও মহাখালী এলাকা। তাঁদের পর্যবেক্ষণের সময় (সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত) উল্লিখিত এলাকাগুলোতে বিআরটিএ বা অন্য সরকারি সংস্থার তৎপরতা দেখা যায়নি। এ সময় যাত্রীরা অভিযোগ করেন, রাত নয়টার পর এবং সকাল আটটার আগে মিটার অনুসারে অটোরিকশায় চড়া যায় না।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গত বছর ১ ও ২ নভেম্বর একইভাবে রাজধানীর পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, গুলিস্তান, মতিঝিল, ফার্মগেট, মহাখালী, মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অটোরিকশার চলাচল পর্যবেক্ষণ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সে সময় ২২৫টি অটোরিকশার চালক ও ২৪৭ জন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন পর্যবেক্ষণকারীরা। এতে দেখা যায়, ১৯৮টি অটোরিকশার চালক মিটারে যাত্রী বহন করেছিলেন। বাকি ২৭টির ১০টিতে মিটার ছিল না। ১৭টিতে চালক কিংবা যাত্রীর ইচ্ছায় চুক্তিতে চলাচল করেছে। সে হিসেবে নভেম্বরের তুলনায় অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।

জানতে চাইলে সড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ‘মালিক-শ্রমিক নেতারা বৈঠক করে সরকারের ঠিক করে দেওয়া ভাড়া ও জমা মেনে নিয়েছিলেন। এখন রাস্তাতেও মানতে বাধ্য করা হবে। সরকারের লোকজন যাত্রী সেজে বাণিজ্য মেলায় ও টার্মিনালগুলোতে অনেক চালককে এক মাস করে সাজা দিয়েছেন। ২৫-৩০টি দল এভাবে কাজ করছে। সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।’

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে