Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.0/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০২-০২-২০১৬

নালিতাবাড়ীতে আরো পাঁচ হাজার ২০০ গুলি উদ্ধার

নালিতাবাড়ীতে আরো পাঁচ হাজার ২০০ গুলি উদ্ধার

শেরপুর, ০২ ফেব্রুয়ারী- শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা সীমান্তে র‍্যাবের অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে আরো পাঁচ হাজার ২০০ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার উপজেলার কালাপানি এলাকার চেংবান্ধা পাহাড়ি টিলা থেকে এসব গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ নিয়ে গত দুই দিনে ওই পাহাড়ি টিলার মাটি খুঁড়ে লুকিয়ে রাখা ৪৮ হাজার ২০০ গুলি ও ৬০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব গুলির মধ্যে বিমান বিধ্বংসী কামানের গুলি, মেশিনগান, পিস্তল ও বিভিন্ন ধরনের রাইফেলের গুলি রয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে বিমান বিধ্বংসী স্পেয়ার ব্যারেল একটি, ভারী মেশিনগান দুইটি, মেশিনগানের স্পেয়ার ব্যারেল পাঁচটি, স্নাইপার রাইফেল দুইটি, একে-৫৬ রাইফেল একটি, ৭.৬২ এমএম পিস্তল দুইটিসহ মোট ৬০টি অস্ত্র রয়েছে। উদ্ধারকৃত সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ম্যাগজিন ৩৭টি, ওয়াটিটকি ছয়টি, ক্লিন সেন্টার ক্রানভাস, ক্রানভাস দুইটি, কম্পাস তিনটি, ডিসি চার্জার এক ভোল্টের দু্‌ইটি, স্যাটেলাইট ফোন পাঁচটি, টেলিস্কোপিক সাইট পাঁচটি, এইচএফ সেট চারটি, ড্রাম ম্যাগজিন সাতটিসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামাদি।

অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী র‍্যাব-৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে জানান, বুরুঙ্গা সীমান্তে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান প্রায় শেষের পথে। আজ আরো পাঁচ হাজার ২০০ গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত দুই দিনে ৪৮ হাজার ২০০ গুলি উদ্ধার হলো। এখন উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের সিজার লিস্ট তৈরির কাজ চলছে। গতকাল সোমবার ভোর ৩টা থেকে র‍্যাব-৫ ও র‍্যাবের ইন্টিলেজেন্স উইং এ গোলাবারুদ ও অস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে।

গতকাল সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে র‍্যাবের লিগ্যাল এইড অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, "সারা দেশেই র‍্যাব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা সীমান্তের কালাপানি এলাকার চেংবান্ধা রিজার্ভ ফরেস্টের পাহাড়ি টিলায় অভিযান চালানো হয়। দুই দিন ধরে গোয়েন্দা তৎপরতা শেষে পাহাড়ি টিলা এলাকা সুইপিং করে চারটি স্পটে নিশ্চিত হয়ে এ অভিযান চালায় র‍্যাব-৫। অভিযানকালে প্রায় ৪৩ হাজার গোলাবারুদসহ ৬০টি অস্ত্র ও নানা ধরনের বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। ভোর ৩টা থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এখনও অভিযান চলছে।''

অস্ত্র ও গোলাবারুদ কাদের হতে পারে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে মামলা হবে। মামলার পর তদন্তে সেটা বেরিয়ে আসবে।'' এখনই এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযানকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও পুলিশ এলাকাটি ঘেরাও করে রাখে। জনগণের চলাচলের ওপর আরোপ করা হয় বিধি-নিষেধ। র‍্যাব এসব অস্ত্রশস্ত্র কাদের হতে পারে তা নিশ্চিত করে না বললেও স্থানীয় অধিবাসীরা বলেছেন, এসব অস্ত্রশস্ত্র ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার ফেলে যাওয়া গোলাবারূদ ও অস্ত্র হতে পরে। একসময় ওই এলাকায় উলফাদের বিচরণ ছিলে বলেও জানান তারা।

এদিকে, এর আগেও ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ঝিনাইগাতীতে ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৫০ হাজার গুলি, রকেট, মাইন ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ২০১০ সালে ঝিনাইগাতির বাকাঁকুড়া গুচ্ছগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয় ১৩ হাজার রাইফেলের গুলি। ২০১২ সালে নালিতাবাড়ীর এক গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয় একে-৪৭ রাইফেল ও গুলি। মাইন উদ্ধারের পর ২০১০ সালে বিজিবির পক্ষ থেকে ধারণা করা হয়েছিল, সেগুলো ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন 'সংযুক্ত মুক্তি বাহিনী অসম' বা ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফার) ফেলে যাওয়া গোলাবারুদ।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে