Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০২-০২-২০১৬

আইওয়ার নির্বাচন মনোনয়ন দৌড়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ

আইওয়ার নির্বাচন মনোনয়ন দৌড়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ

আইওয়া, ০২ ফেব্রুয়ারী- মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়নপ্রত্যাশিদের যোগ্যতা যাচাইয়ের দৌড়ে আইওয়া রাজ্যে দলীয় প্রতিনিধিদের দেয়া মতামতটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটে এ মতামত দেয়। মনোনয়ন পাবার দৌড়ে এটিই প্রথম রাজ্য যেখানে ভোটাভুটি দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হলো এবং এই রাজ্যের দলীয় প্রতিনিধিদের মতামত অন্যান্য রাজ্যের নির্বাচনেও বেশ প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এ বিশ্লেষণ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের।

আইওয়ায় কাউন্সিল থেকে প্রার্থী হিসেবে নিজেকে জয়ী হিসেবে বের করে আনাতে বেশ ব্যয়ও করেছেন প্রার্থীরা। জনসমক্ষে বিতর্ক থেকে শুরু করে বিশাল বিলবোর্ডে প্রচারণা কোনো কিছুতেই পিছিয়ে ছিলেন না কেউ। কিন্তু কাউন্সিল শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত রিপাবলিকান দলের ট্র্যাম্প এবং ডেমোক্র্যাট দলের হিলারিকে বেশ শক্তিশালী প্রার্থী মনে হলেও, শেষ বিচারে দেখা যাচ্ছে রিপাবলিকানদের ভেতর থেকে ট্র্যাম্পকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন সিনেটর টেড ক্রুজ। আইওয়াতে রিপাবলিকান শিবিরে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না হলেও ডেমোক্রেট শিবিরের হিলারি ক্লিনটন ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করলেও তার ঘাড়ের উপর ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।

মার্কিন নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, আইওয়ার নির্বাচন বৃহদার্থে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের মোট ১,৬৮১টি বিচ্ছিন্ন স্থানে ছোটো ছোটো রাজনৈতিক সভার মধ্য নিয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পার্টির সদস্যরা যেমন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অভ্যন্তরীণ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করেন, এই ভোটটিও অনেকটা সেরকম। পার্টিতে যেমন, যিনি সর্বাধিক সংখ্যক কর্মীর ভোট পান তিনিই প্রার্থী হিসেবে মনোনিত হন, এখানেও তেমনি সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীই অন্যান্য রাজ্যগুলোতে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু এখানে ভোটদান মানে শুধু আচ্ছাদিত ঘরে প্রবেশ করে পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদান নয়। উপরন্তু স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয় কিংবা নির্ধারিত কোনো স্থানে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশিদের আলোচনার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হয়।

এসকল আলোচনার টেবিলে যখন ভোটারা ভোটদানে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন তখন তাদের পাশে এগিয়ে আসেন প্রার্থীদের পক্ষে নিযোজিত প্রতিনিধিরা। আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিনিধিরা ওই ভোটারদের সাহায্য করার চেষ্টা করেন। আর এই কারণেই প্রাইমারির সঙ্গে কাউন্সিলের পার্থক্য। মূলত ১৯৭০ সাল থেকেই আইওয়া কাউন্সিল দেশের ব্যালট রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। আর এখানেও ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণ নাগরিকরা নির্বাচিত করে প্রতিনিধিদের, প্রতিনিধিরা নির্বাচিত করে মনোনীত ব্যক্তিদের এবং ওই মনোনীত ব্যক্তিদের থেকেই একজন প্রেসিডেন্ট হয়।

রিপাবলিকানদের শিবিরে কাউন্সিল বেশ সোজাসাপটা। ভোটাররা বক্তব্য শুনতে আসে এবং বক্তব্য শেষ হলে তারা গোপন ভোট প্রদান করেন। সেই ভোটগুলো রাজ্য পর্যায়ে গণনা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ে জয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট শিবিরে এই প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। প্রথমে কক্ষের সদস্য সংখ্যা গননা করা হবে এবং প্রথম রাউন্ডে যে প্রার্থী একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট পাবে না, তাকে অযোগ্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। ভোটারদের মধ্যে যারা ওই অযোগ্য ঘোষিত প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিল তাদেরকে পুনরায় নতুন প্রার্থী পছন্দ করতে বলা হয়। শেষমেষ যে ফলাফল দাঁড়ায় সেটা রাজ্য পর্যায়ে ঘোষণা করা হয়।

আইওয়া কাউন্সিলকে ঘিরে নানান জটিলতা থাকলেও এই প্রক্রিয়ার মূল প্রভাবটি একেবারে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কারণ রাজ্যের ভোটারদের প্রদত্ত ভোটের ফলেই নির্বাচিত হচ্ছেন প্রতিনিধিরা এবং ওই প্রতিনিধিরাই আবার জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচিত করবে। তাই এক্ষেত্রে প্রান্তিক পর্যায়ে যদি প্রতিনিধি নির্বাচন সঠিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী না হয়, তখন তার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনের উপরেও পড়ে।

আইওয়া রাজ্যের জনগণের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত গণতন্ত্রের চর্চা করে বিধায় রাজনীতিকদের আলোচনা এবং রাজনীতি করার সুযোগ দেয় তারা। যদিও অনেকেই মনে করেন কাউন্সিলের এই দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া বর্তমান সময়ের জন্য কার্যকর নয় এবং জলদিই এই প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করা উচিত। আইওয়া রাজ্যের এই কাউন্সিল ভোটের উপর অতিরিক্ত জোর দেয়ার কিছু জটিলতাও আছে। আর যাই হোক, জনসংখ্যার দিক দিয়ে আইওয়া পুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ এই অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শেতাঙ্গ হলেও, মোট জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশই হলো জাতীয়।

ওয়াইয়োর হিরাম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক জ্যাসন জনসন আইওয়ার নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, ‘আইওয়ার নির্বাচনী গুরুত্ব ঐতিহাসিক, বাস্তবিক পর্যায়ে এর গুরুত্ব অতটা নয়। অন্যান্য রাজ্যগুলো জনসংখ্যার দিক দিয়ে এবং অর্থনৈতিকভাবেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণই শুধু নয়, জাতীয় পর্যায়ে ওই নির্বাচনগুলোর ফলাফলও প্রভাব বিস্তার করে। আর আইওয়াতে যেটা হচ্ছে সেটা হলো নির্বাচনী গুরুগাম্ভীর্যের একটা ঐতিহ্য ধরে রাখা মাত্র। কেউ এটা পরিবর্তন করেনি বিধায় পরিবর্তনও হয়নি।’ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জ্যাসন জনসন রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট উভয় দলেরই প্রচারাভিযানের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, আইওয়া যদি এতটাই ক্ষুদ্র রাজ্য এবং প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা সম্পন্ন নয় হয় তাহলে নির্বাচনী দৌড়ে এর কেনই বা এত প্রভাব? এটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এই রাজ্য থেকেই প্রথম নির্বাচনী দৌড় শুরু হয় এবং এখানে পার্টিকর্তৃক নির্বাচিত হয়েই প্রার্থীরা অন্যান্য রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শুরুর দিকেই যদি কোনো প্রার্থী আইওয়া এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের মতো অঞ্চলে ভালো ফলাফল না করতে পারে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তীতে ভোটের মাঠে ভাটা পরবে। আর এই কারণেই আইওয়াকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী দৌড়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। যেমনটা বললেন জনসন, ‘এই রাজ্যের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই প্রথম দুই দলেরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্তাব্যক্তিরা এবং ওয়াশিংটন ডিসির ধনীরা উপস্থিত থাকেন। যেহেতু সবগুলো গণমাধ্যম এই নির্বাচনকে গুরত্বের সঙ্গে নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে এবং যাবতীয় ঘটনাবলী সরাসরি প্রচার করা হয়, তাই দুই দলের নেতাদের কাছেই এটা একটা মহাসুযোগ যখন গোটা জাতির কাছে তাদের প্রার্থীকে তারা ভোটে জেতার মাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন।’

১৯৭৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচন প্রত্যক্ষ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিল শিণ্ডারস। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ‘আইওয়ার নির্বাচনে যারা পার্টির সমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হন তাদের পক্ষে পরবর্তী ভোটগুলোতে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা সর্বাধিক। কারণ মার্কিন জনগণ সর্বদা বিজেতার পক্ষেই দাড়ায়। আপনি খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, আইওয়ার নির্বাচনের পরেও অনেক পরাজিত প্রার্থী নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন নির্বাচনী দৌড় থেকে। রিপাবলিকান শিবিরে ধর্মপ্রচারকদের প্রভাব অনেকটাই বেশি, কিন্তু তারা পুরো পার্টির মুখপাত্র নয়। কিন্তু ডেমোক্রেট শিবিরের নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনেক বেশি উদার এবং জনসম্পৃক্ত হওয়ায় এর প্রান্তিক পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও পার্টির মুখপাত্র হিসেবেই কথা বলে।’

সন্দেহাতীতভাবেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, প্রার্থীরা এবং প্রতিনিধিরা আইওয়ার নির্বাচন পরবর্তী হিসেব মেলানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরবেন। কারণ আগামী সপ্তাহেই আছে নিউ হ্যাম্পশায়ারের নির্বাচন। জনগণের পাশাপাশি শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোও নিউ হ্যাম্পশায়ারের দিকেই তাকিয়ে আছেন। তবে বিশ্লেষকরা এও মনে করছেন যে, আগামীতে ৫২টি রাজ্যের ভোটের ফলাফলে এতদিন যাদের এগিয়ে রাখা হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে ভোটাররা নতুন করে ভাবনা শুরু করবেন। অর্থাৎ, ডেমোক্র্যাট শিবিরে হিলারি ক্লিনটনকে যতটাই শক্তিশালী মনে করা হোক না কেন বার্ণি স্যান্ডার্স কিন্তু অনেকটাই এগিয়ে। আমেরিকার মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবিদের সমর্থন পাওয়া স্যান্ডার্স মার্কিন রাজনীতিতে অঘটন ঘটাতেও পারেন। অন্তত আইওয়ার ফলাফল দেখে তাই মনে হচ্ছে বিশ্লেষকদের।

উত্তর আমেরিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে