Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 4.0/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-৩১-২০১৬

স্বাধীনতা আর সাম্যের প্রতীক স্ট্যাচু অফ লিবার্টি

স্বাধীনতা আর সাম্যের প্রতীক স্ট্যাচু অফ লিবার্টি

স্ট্যাচু অফ লিবার্টির নাম জানি আমরা সবাই। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের পাতায়, টেলিভিশনে, বিভিন্ন সিনেমা, খবরের কাগজে এ ছবি দেখেছি অসংখ্যবার। আসুন জেনে নিই এই বিখ্যাত ভাস্কর্যটি সম্পর্কে কিছু তথ্য।

স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, একটি বিশাল মূর্তি। এটি ফ্রান্স ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে দিয়েছিল। ভাস্কর্যটি দাঁড়িয়ে আছে নিউয়র্কের লিবার্টি আইল্যান্ডে হাডসন নদীর মুখে যেখানে জাহাজ নোঙর করে, যা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনকারী এবং অন্য দেশ থেকে ফিরে আসা আমেরিকানসহ সকল পর্যটকদের স্বাগত জানায়। এই তামার মূর্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের শতবর্ষপূর্তিতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ফ্রান্সের বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে উৎসর্গ করা হয়েছিল ১৮৮৬ সালের ২৮ অক্টোবর। ভাস্কর্যটির ভিতরের কাঠামোটির নকশা তৈরি করেছিলেন ফেড্রিক বারথোল্ডি এবং গুস্তাভ আইফেল, যিনি আইফেল টাওয়ার নকশা করেছিলেন।

গঠন
ভাস্কর্যটি মূলত ঢিলা জামা ও মাথায় সূচালো কাঁটাওয়ালা মুকুট পরিহিত একটি নারী মূর্তি, যা লিবার্টাস নামক রোমান দেবীর আদলে করা। মূর্তিটির বাম হাতে রয়েছে একটি আইনের বই যাতে ‍‌আমেরিকার স্বাধীনতার তারিখ "৪ জুলাই, ১৭৭৬" খোদাই করে লেখা এবং ডান হাতে উঁচিয়ে ধরা প্রজ্বালিত অগ্নিশিখার মত টর্চ। মূর্তিটির পায়ে পড়ে থাকা ছেঁড়া শিকল পরাভূত স্বৈরশাসনের প্রতীক। মূর্তিটি সাম্য, স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। তামা ও লোহা দ্বারা নির্মিত ৩০৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উঁচু এই মূর্তিটি সমুদ্রের বহুদুর থেকে দেখা যায়। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক উপহারটি দেখতে প্রত্যহ অসংখ্য দর্শনার্থী দ্বীপটিতে ভিড় জমান।  

তৈরীর ইতিহাস
ফ্রান্সের রাজা তৃতীয় নেপোলিয়ানের সময়ে এডওয়ার্ড রিনি লাবুলাহ নামে এক ফরাসি পন্ডিত প্রথমে প্যারিসে বসে চিন্তা করেন যে, একটি বিরাট সিভিল ওয়ারে জিতে আমেরিকানরা প্রভূত সম্পদশালী জাতিতে পরিণত হতে চলেছে। তাই ওদের মধ্যে এমন কিছু একটা করা দরকার যা হবে ফরাসি ও আমেরিকান মৈত্রীর বন্ধন। এ লক্ষ্যে তিনি তদানীন্তন একজন বিখ্যাত ভাস্কর ফ্রেডারিক আগষ্টে বারথোল্ডির সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি ১৮৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন মনুমেন্টের প্রস্তাব নিয়ে ও স্থান নির্বাচনের জন্য। সে হিসেবে নির্বাচিত হয় নিউইয়র্ক শহরের লিবার্টি দ্বীপটি।  

এটি তৈরির জন্য ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যদের নিয়ে ১৮৭৫ সালে ফ্রান্স-আমেরিকান ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমেরিকা বহন করবে ভিত ও বেদি তৈরির খরচ এবং ফ্রান্স বহন করবে মূল মূর্তি তৈরির খরচ। সে মতে আইফেল টাওয়ার খ্যাত ইঞ্চিনিয়ার আলেকজান্ডার গুস্তাভ আইফেলের জটিল ডিজাইনে প্রায় ২ বছর ফরাসি ও আমেরিকান ভাস্কররা এটি তৈরির জন্য পরিশ্রম করেন। এটি ৩০০ খন্ডে তৈরি করা হয় এবং এর উপরেও ২.৫ মিমি প্রস্থ তামার শীট দিয়ে জড়িয়ে দেওয়া হয়। এভাবে ১৮৮৪ সালে জুন মাসে তৈরির কাজ সম্পন্ন হলে ফ্রান্সের প্যারিসে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে ১৮৮৫ সালে মূর্তিটির বিভিন্ন অংশ খুলে ২১৪টি বাক্সে ভরে জাহাজে করে আমেরিকায় পাঠানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড ১৮৮৬ সালের ২৮শে অক্টোবর এটির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

আভ্যন্তরীন মাপ, ওজন
মূর্তিটির উচ্চতা ১৫২ ফুট ২ ইঞ্চি। পায়ের গোড়ালী থেকে মাথা পর্যন্ত উচ্চতা ১১১ ফুট, হাতের দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট ৫ ইঞ্চি, তর্জনী ৮ ফুট, নখের সাইজ ১৩ ইঞ্চি, নাক ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি, ডান বাহু ৪২ ফুট, দুই চোখের ব্যবধান ২ ফুট ৬ ইঞ্চি, কোমর ৩৫ ফুট, মুখের প্রস্থ ৩ ফুট, এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত দূরত্ব ১০ ফুট এবং নখের ওজন ১ কেজি ৫০০ গ্রাম। মূর্তিটি ওজন ২৫৪,০০০ কেজি।

ভ্রমণ
লিবার্টি আইল্যান্ডে প্রবেশের জন্য কোনো টিকেট প্রয়োজন হয় না। তবে লিবার্টি দ্বীপে ফেরিতে পৌঁছতে হয়, যার ভাড়া দিতে হয়। ফেরির সাথে মিউজিয়ামে প্রবেশের টিকেট কিনতে হয়। যে ফেরিগুলো এই রুটে চলাচল করে সেগুলো ভ্রমণকারীর নিরাপত্তাসহ যাবতীয় সুবিধা দিয়ে থাকে। ভাস্কর্যটির সিড়ি তে চড়া এবং মুকুটে আরোহনের জন্য আলাদা বিশেষ টিকেট অগ্রিম সংগ্রহ করতে হয় ১ বছর আগেই। প্রতিদিন ২৪০ জন মানুষকে ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয় যার প্রতি গ্রুপে ১০ জন মানুষ থাকতে পারবে এবং প্রতি ঘন্টায় ৩টি গ্রুপ প্রবেশ করতে পারবে। ভ্রমণকারীরা শুধুমাত্র পথ্য এবং ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। অন্যান্য জিনিসের জন্য তাদের একটি লকার দেয়া হয়। প্রবেশের সময় অবশ্যই একটি সিকিউরিটি স্ক্যানিং এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
১৯৮৪ সালে ইউনেস্কো 'স্ট্যচু অফ লিবার্টি'কে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা দেয়। ইউনেস্কোর 'স্টেটমেন্ট অফ সিগনিফিকেন্স' এ ভাস্কর্যটিকে উল্লেখ করা হয় 'মাস্টারপিস অব হিউম্যান স্পিরিট' হিসেবে

পর্যটন

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে