Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-৩০-২০১৬

পাঁচশ’ মিলিয়ন ডলারে ৫৩ নদীপথ খননের পরিকল্পনা

পাঁচশ’ মিলিয়ন ডলারে ৫৩ নদীপথ খননের পরিকল্পনা

নারায়ণগঞ্জ, ৩০ জানুয়ারী- বাংলাদেশের নদী রক্ষায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচশ’ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের ৫৩টি নৌপথ খনন হবে। চলতি বছরের মার্চ মাসে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন পাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

‘নদী-সমুদ্র, আমরা ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক এক সেমিনারে শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানান বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক।

কাঁচপুরে ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে মেঘনা নদী ঘুরে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর পর্যন্ত বিআইডব্লিউএ-এর ভিভিআইপি জাহাজ সন্ধানীতে এ ভাসমান সেমিনারের আয়োজন করে ‘নোঙ্গর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের বিষয়ে কমোডর মোজাম্মেল জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন করিডর এবং বরিশাল-চাঁদপুরসহ ঢাকা-আশুগঞ্জ নদী পথগুলো প্রথম দিকে এই প্রকল্পের আওতায় আসবে। এগুলো করা হবে মেইনটেইন্যান্স ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে। বাকি নদীপথগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

মেইনটেইন্যান্স ও ড্রেজিংয়ের বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রথাগত ড্রেজিংয়ের পরিবর্তে নতুন ধারার ড্রেজিং হবে এটি। আগে আমরা যেখানে প্রয়োজন হত সেখানে ড্রেজিং করতাম। পরে আবার প্রয়োজন হলে নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে ড্রেজিং করতে অনেক সময় লেগে যেত।’

‘কিন্তু মেইনটেইন্যান্স ড্রেজিংয়ের আওতায় একটি নির্দিষ্ট নদীর জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সেখানে তারা কমপক্ষে ৬-৭ বছর সেই নদীর ড্রেজিং কাজ করবে। এর জন্য নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করতে হবে না। ফলে নদীর নাব্যতা নিয়মিত রক্ষা হবে।’ এই পদ্ধতিটি অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে বলে প্রত্যাশা বিআইডব্লিউটির চেয়ারম্যানের।

মোজাম্মেল হক জানান, নদী নিয়ে ইঁদুর বিড়াল খেলার দিন এখন শেষ। সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই উদ্যোগ হঠাৎ করেই বড় কোনো সাফল্য এনে দিবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, লন্ডনের টেমস নদী দূষণমুক্ত করতে আশি বছর লেগেছিল। কোরিয়ার সাংহাই নদীর লেগেছিল ৩০ বছর।

আমাদের উদ্যোগ মাত্র শুরু হয়েছে। আশা করি অন্তত দশ বছরের মাথায় ভালো ফল আমরা দেখাতে পারব। আর সেটা হলে তা হবে মিরাকল।

নিজেদের ক্ষমতার বিষয়ে আক্ষেপ করে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সঠিক ক্ষমতা থাকলে আমরা আরও বেশি কাজ করতে পারতাম। জরিমানা করার ম্যাজেস্ট্রিসি পাওয়ার আমাদের হাতে নেই। কারখানা বন্ধ করার ক্ষমতা অন্যদের হাতে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সেগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ফলে আমরা চাইলেও অনেক কিছু করতে পারি না। কারণ, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হয় আমাদের।’

সেমিনারে আরও জানানো হয়, দেশে মোট ২৪ হাজার নদীপথ ছিল। এখন আছে মাত্র ৬ হাজার কিলোমিটার। বাকি ১৮ হাজার কিলোমিটার নদীপথ বিলীন হয়ে গেছে।

নদী নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নোঙ্গর’-এর চেয়ারম্যান সুমন শামস’র পরিচালনায় সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরা উপস্থিত আছেন।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে