Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-৩০-২০১৬

বরাদ্দের বেশি কাজ, দাবির সঙ্গে মিল নেই তথ্যের

বরাদ্দের বেশি কাজ, দাবির সঙ্গে মিল নেই তথ্যের

কলকাতা, ৩০ জানুয়ারি- তাঁর সরকারের বেশির ভাগ দফতরই উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের চেয়ে বেশি খরচ করে ফেলেছে বলে দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার টাউন হলে প্রশাসনিক বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার অফিসারেরা খুব ভাল কাজ করেছেন। বেশির ভাগ দফতরে বাজেটের (পরিকল্পনা) ১০০%-এর উপরে কাজ হয়েছে। এ জন্য আমি গর্বিত।’’

কিন্তু এ দিনই অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে যে পরিসংখ্যান সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। অর্থ দফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি আর্থিক বছরে ৫৮টি দফতরের জন্য উন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ ৪৯ হাজার ৯৫৬ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা। গত ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এর মধ্যে থেকে ৩৬ হাজার ২৫৭ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা খরচের অনুমোদন দিয়েছে অর্থ দফতর। আর দফতরগুলি অনুমোদন দিয়েছে ৪০ হাজার ৯৪৭ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা খরচের। অর্থাৎ, সহজ হিসেব বলছে অর্থ দফতর রিলিজ করেছে বাজেট বরাদ্দের ৭৩ শতাংশ। অন্য দিকে দফতরগুলির রিলিজ করা টাকার পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮২ শতাংশ। তা হলে একশো শতাংশের বেশি কাজ করার দাবি আসছে কোথা থেকে!

নবান্নের বর্ষীয়ান আধিকারিকদের বক্তব্য, বাজেট বরাদ্দ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলেই আর্থিক বছরের শেষ দু’মাসে আরও ১৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা খরচের অনুমোদন দিতে হবে অর্থ দফতরকে। বর্তমান আর্থিক টানাটানির বাজারে যা কার্যত অসম্ভব। তা ছাড়া, আর কিছু দিনের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাজেটের পুরো টাকা হাতে পেলেও দফতরগুলি খরচ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বস্তুত, একাধিক দফতরের সচিবের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাওয়া যায়নি। নবান্নে গিয়ে তাগাদা দিতে হয়েছে দিনের পর দিন। যদি অর্থ দফতর ঠিক সময়ে টাকা ছাড়ত, তা হলে আরও কাজ করা যেত।

এ দিন বিলি করা সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের বাজেট বরাদ্দ ৪৫০ কোটি টাকা। তার মধ্যে এ পর্যন্ত অর্থ দফতর ১২২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছে। অর্থাৎ, ওই দফতরের মোট বরাদ্দের ৩২৭ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা এখনও মঞ্জুর করেনি অর্থ দফতর। একই ভাবে, শিশু উন্নয়ন দফতরের বাজেট বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকার। অর্থ দফতর ছেড়েছে মাত্র ৯৮১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। একই অবস্থা কৃষি, খাদ্য, ক্রীড়া থেকে শুরু করে কারিগরি শিক্ষা, নগরোন্নয়নের মতো অধিকাংশ দফতরের।

তবে ব্যতিক্রমও আছে। পূর্ত, স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত এবং মহিলা ও সমাজকল্যাণের মতো হাতে গোনা কয়েকটি দফতর বাজেট বরাদ্দের চেয়েও বেশি টাকা পেয়েছে। এমনকী, নিজেদের তহবিল থেকেও তুলনামূলক ভাবে বেশি টাকা খরচ করেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে মুখ্যমন্ত্রী কী ভাবে ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাজেটের ১০০ শতাংশের উপরে কাজ হওয়া’-র দাবি করলেন? নবান্নের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ধরা যাক খাদ্য সরবরাহ দফতর। পরিকল্পনা খাতে তাদের বাজেট বরাদ্দ ছিল ২০২ কোটি টাকা। তার মধ্যে ১২২ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করেছে অর্থ দফতর। আর সংশ্লিষ্ট দফতর কাজের বরাত দিয়েছে ১৪৫ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকার। যার মানে হল, অর্থ দফতরের রিলিজ করা টাকার থেকেও ১৮ শতাংশ বেশি টাকা খরচের অনুমোদন দিয়েছে খাদ্য সরবরাহ দফতর।’’ একাধিক সচিবের বক্তব্য, অর্থ দফতরের দেওয়া এই হিসেব দেখেই মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, তাঁর সরকার ১০০ শতাংশের বেশি কাজ করে ফেলেছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি মোটেই তা নয়।

সরকারি সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে অফিসারদের কাজের প্রশংসা করেছেন মমতা। তবে দু’এক জনের কাজ নিয়ে অল্প হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যেমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের ‘কর্মতীর্থ’ প্রকল্পের অগ্রগতিতে নিজের অসন্তোষ লুকিয়ে রাখেননি। খানিকটা অনুযোগের সুরেই ক্রেতাসুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডেকে আরও ভাল কাজ করতে বলেছেন। জেলার মধ্যে পুরুলিয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখিয়েছেন। কেন ওই জেলা আশানুরূপ কাজ করতে পারছে না, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন মুখ্যসচিবকে। সচিব বা বিভাগীয় প্রধানদের ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং’-এ অংশ নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, তা হলে উন্নয়নের কথা আরও বেশি লোকের কাছে পৌঁছবে।

তবে সরকারি আমলাদের সঙ্গে বসিয়ে মন্ত্রীদের কাজের বিচার করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান বিধায়ক মানস ভুঁইয়া এ দিন বলেন, ‘‘আমলাদের সামনে বসিয়ে ভুল-ত্রুটি খুঁজলে মন্ত্রীদের অসম্মান হয়, প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজের ধারাও ব্যাহত হয়।’’ 

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে