Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২৭-২০১৬

মন্দিরে ঢোকার অধিকার নিয়ে সংঘর্ষে মহিলারা

মন্দিরে ঢোকার অধিকার নিয়ে সংঘর্ষে মহিলারা
রাস্তায় শুয়ে চলছে প্রতিবাদ।

নয়াদিল্লি, ২৭ জানুয়ারি- এক দল ঐতিহ্য রক্ষার পক্ষে। অন্য দল বৈষম্য দূর করার চেষ্টায় অনড়। আর তা ঘিরেই বাধল খণ্ডযুদ্ধ। মহিলা বনাম মহিলা! ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে মঙ্গলবার দু’পক্ষের দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মহরাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার শনি শিঙ্গনাপুর মন্দির চত্বর।

বিরোধের শুরু গত বছর নভেম্বরে। ৪০০ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে শিঙ্গনাপুর মন্দিরের অন্দরমহলে প্রবেশ করেছিলেন এক মহিলা। উপাসনাস্থল ‘অপবিত্র’ করার অভিযোগে তুমুল ভর্ৎসনা করা হয় ওই মহিলাকে। দুধ, তেল দিয়ে ধোয়া হয় মন্দির প্রাঙ্গণ।

২০০০ সাল থেকেই বম্বে হাইকোর্টে শিঙ্গনাপুর মন্দিরে লিঙ্গ বৈষম্যের এই ধারার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। নভেম্বরের ঘটনার পর নতুন করে সরব হন প্রতিবাদীরা। ‘ভূমাতা রণরঙ্গিনী ব্রিগেড’ নামে স্বেচ্ছাসেবী ব্যানারের আওতায় একজোট হন তাঁরা। প্রজাতন্ত্র দিবসে মন্দিরের ভিতর অন্তত ৪০০ মহিলা ঢুকিয়ে রেওয়াজ ভাঙার অঙ্গীকার করেন তখনই। আজ সকালে পুণেতে জড়ো হন ওঁরা সকলে। ছ’টি বাস, বেশ কয়েকটি জিপে ৩৫০ মহিলা সমাজকর্মী আহমেদনগরের উদ্দেশে রওনা হন।

তৈরি ছিল মন্দির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কমিটিও। ৪০০ মহিলা ঠেকাতে ২০০০ মহিলাকে পথে নামানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা। জানিয়েছিল, ঐতিহ্য রক্ষার জন্য যা যা দরকার তার সব কিছু করা হবে। গণ্ডগোল যে হবে আগে থেকেই তার আঁচ পেয়েছিল পুলিশ। মন্দির চত্বর তো বটেই, আশপাশের প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাও ঘিরে ফেলা হয়েছিল। স্থানে স্থানে ব্যারিকেড আর নজরদারির জন্য ছিল কয়েকশো মোবাইল ভ্যান। মন্দির চত্বরে জারি করা হয়েছিল ৩৭ নম্বর ধারা (প্রতিরক্ষার জন্য সহযোগিতা)।

পুলিশি তৎপরতার খবর আগেই পেয়েছিল রণরঙ্গিনী ব্রিগেড। প্রেসিডেন্ট ত্রুপ্তি দেশাই তার প্রেক্ষিতে বলেছিলেন, ‘‘অপেক্ষা করুন, দেখুন আমরা কী করি।’’ পুলিশ তাঁদের আটকালে হেলিকপ্টার থেকে মইয়ে করে মন্দিরের ভিতরে মহিলাদের নামার কথা জানিয়েছিলেন।

আজ শেষমেশ তা হয়নি। শিঙ্গনাপুর মন্দিরের কিছু আগে সুপা নামের একটি গ্রামের কাছে আটকানো হয় রণরঙ্গিনী ব্রিগেডকে। পুলিশ তো বটেই, হাতে হাত ধরে রাস্তা অবরোধ করে শিবসেনা, হিন্দুসেনার মহিলাকর্মী-সহ বহু স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আর এগোনো যাবে না।

বাধা পেয়ে তেতে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তায় শুয়ে অবরোধকারীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। বলছিলেন, ‘‘এ বারের প্রজাতন্ত্র দিবস মহিলাদের জন্য কালো দিন।’’ অবরোধকারীদের সরিয়ে মন্দিরের দিকে এগোতে গেলেই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি। প্রেসিডেন্ট দেশাই ঘটনাস্থলেই সত্যাগ্রহের ডাক দেন। জানান, মন্দিরে ঢুকতে না দেওয়া হলে জলও খাবেন না। এর পরই দেশাইদের আটক করা হয়। দিনের শেষে ছাড়াও পেয়ে যান তাঁরা।

দেশাই পরে দাবি করেন, পুলিশ তাঁদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। সন্ধেয় মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের তরফে জানানো হয় বিক্ষোভকারী এবং মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার আশ্বাস দিয়েছেন ফডণবীস।

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে