Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২৬-২০১৬

টাকা বিদেশে না নিয়ে দেশে খাটান: পরিকল্পনামন্ত্রী

টাকা বিদেশে না নিয়ে দেশে খাটান: পরিকল্পনামন্ত্রী
বিনিয়োগ সম্মেলনের শেষ দিন একটি অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি- অবকাঠামো সমস্যা এবং রাজনৈতিক অস্থিতির কথা তুলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যথকন বিদেশে বিনিয়োগের জন্য দেন-দরবার করছেন, তার বিপরীত আহ্বান এসেছে ঢাকায় বিনিয়োগ সম্মেলন থেকে।

‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পলিসি সামিট’- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল শিল্পোদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আমি বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ জানাব, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। দয়া করে টাকা বিদেশে নিয়ে যাবেন না।”

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাংলাদেশ যে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় স্থান তা তুলে ধরতে পেরেছেন তারা।

গত কয়েক বছরে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে উন্নতির পরও বিনিয়োগে খরা নিয়ে হতাশার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকায় এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়, যার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বদলে যাওয়া’ বাংলাদেশে পুঁজি খাটাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ লগ্নি করার আহ্বান জানান।

র‌্যাডিসন হোটেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী মুস্তফা কামাল অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির স্থিতিশীলতা ধরে রাখার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। ২০৪০ সালে বাংলাদেশ ধনী দেশের কাতারে চলে যাবে।”

“এজন্য আমি বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ জানাব, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। এতে আপনাদের মূলধন হারাবেন না। দয়া করে টাকা বিদেশে নিয়ে যাবেন না। কারণ বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার।”

ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমে থাকার পরও দেশে বিনিয়োগ না করার কারণ হিসেবে গ্যাস-বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফের জটিল হওয়ার শঙ্কার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন দেশের বাইরে বিনিয়োগের অনুমতি চেয়ে আসছে সরকারের কাছে। ব্যবসায়ী নেতারাও নানা সময়ে এই অনুরোধ জানাচ্ছেন।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো দাবি করে পরিকল্পনামন্ত্রী বিদেশে বিনিয়োগে আগ্রহীদের উদ্দেশে বলেন, “টাকা বিদেশে নিয়ে গেলে ১০ বছর পরে এসে দেখবেন, যে সুযোগ এখন তৈরি হচ্ছে, তা অন্য কেউ নিয়ে গেছে।”

দেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলে তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে বলে এর উপর জোর দিচ্ছেন মন্ত্রী। “এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের আস্থা তৈরি হয়েছে। অবিশ্বাস করার আর জায়গা নেই। তবে দেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ না করলে বিদেশিরা করবে না।”

সমাপনী অনুষ্ঠানের পর এফবিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসে মুস্তফা কামাল বলেন, “টাকায় টাকা আনে। এ সম্মেলনে ১১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব আরও বিনিয়োগ নিয়ে আসবে, যদি আমরা ওই বিনিয়োগকে বাস্তবে পরিণত করতে পারি।”

সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনেই ভারতের আদানি গ্রুপ ৮ বিলিয়ন ডলার এবং রিলায়েন্স গ্রুপ ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। তাদের পথ ধরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের বড় বিনিয়োগকারীও বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহী হবে বলে আশাবাদী এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমেদ। “এ সম্মেলনে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় প্রস্তাব পাওয়া গেছে। আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি, বাংলাদেশ বিনিয়োগের ভালো জায়গা।”

সংবাদ সম্মেলনে আইএফসির প্রতিনিধি মাশরুর রিয়াজ বলেন, “এই সম্মেলনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের মনোভাব সম্পর্কে সঙ্কেত পেয়েছে, এটাই সফলতা।” “এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিবাচক দিক বিনিয়োগকারীদের দেখাতে পেরেছি,” বলেন বিল্ডের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক এই সভাপতি বলেন, সম্মেলনে পুঁজিবাজারে নিবন্ধন সহজ করা, কারখানা স্থাপনে উপযুক্ত জমির অভাব দূর করা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, দীর্ঘ মেয়াদি অর্থায়নের জন্য ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, চুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করা, কর অবকাশের প্রক্রিয়া সহজ করা, বিদেশি বিনিয়োগের আইন যুগোপযোগী করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ এসেছে।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে