Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 4.3/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২৫-২০১৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র শিক্ষক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র শিক্ষক
প্রধান শিক্ষক নাভিদ গুল আত্মরক্ষার্থে ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় নিজের কাছে অস্ত্র রাখতে শুরু করেছেন।

ইসলামাবাদ, ২৫ জানুয়ারি- একজন প্রধান শিক্ষক পিস্তল হাতে ঢুকে গেলেন নিজের বিদ্যালয়ে। সশস্ত্র অবস্থায় সারতে লাগলেন তাঁর দাপ্তরিক কাজ। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, শিক্ষকের হাতে বইয়ের বদলে অস্ত্র কেন?

পাকিস্তানের পেশোয়ারের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক নাভিদ গুল। অনুসন্ধানের পর এএফপি জানায়, বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তালেবানের রক্তক্ষয়ী হামলার পর আতঙ্কিত শিক্ষকেরা আত্মরক্ষার্থে ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় অস্ত্র রাখতে শুরু করেছেন। এ নিয়ে অবশ্য বিতর্কও রয়েছে।

নিজের অস্ত্রটি দেখাতে দেখাতে নাভিদ গুল বলছিলেন, ‘এটি আমার পিস্তল। চীনের তৈরি। বেশ ভালো কাজ করে পিস্তলটি।’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন চিত্র অস্বাভাবিক মনে হলেও পেশোয়ারের বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ অনেকে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে চান। কারণ, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর নিজের অস্ত্রটি নিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিলেন রসায়নের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ হামিদ হুসেইন।

হামলা থেকে প্রাণে রক্ষা পাওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমাবেশে তালেবানের নির্বিচার গুলিতে ২১ জন নিহত হয়েছেন। ওই শিক্ষক প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। নিজের জীবন দিয়ে তিনি অনেক শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচিয়েছেন।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পেশোয়ারে সামরিক বাহিনীর একটি বিদ্যালয়ে তালেবানের হামলায় শিক্ষার্থীসহ দেড় শতাধিক লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই অস্ত্র রাখার ঝুঁকিতে যাননি, তবে ব্যতিক্রম ছিলেন বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ হামিদ হুসেইন। তাঁর পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা বলছেন, এমনিতে বেশ শান্ত স্বভাবের ছিলেন তিনি। তবে পেশোয়ারের বিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলায় কোমল শিশুদের মৃত্যু তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। তিনি নিজের কাছে অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

দুই সন্তানের জনক ৩৩ বছর বয়সী সৈয়দ হামিদ হুসেইনের এমন সাহসে গর্বিত তাঁর পরিবার। তাঁর ভাই সাজিদ হুসেইন বলেন, ‘কীভাবে তিনি এমন সাহসী হলেন, জানি না।’ তবে পরিস্থিতিই তাঁকে সাহসী করেছে বলে মনে করেন তিনি।

পেশোয়ারের আখুনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাভিদ গুল মনে করেন, কর্মস্থলে রাখা অস্ত্রটি তাঁকে সাহস ও আত্মবিশ্বাস দেয়। মনে হয়, অস্ত্রটা থাকলে অন্তত লড়াইটা করা যাবে। শিক্ষার্থীদের, সহকর্মীদের বা নিজেকে বাঁচানো যাবে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের প্রাদেশিক মুখপাত্র শওকত ইউসুফজাই বলেন, এখানে ৬৮ হাজার বিদ্যালয় আছে। পুলিশের সংখ্যা ৫৫ হাজার। সরকারের পক্ষে সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না। তাই শিক্ষকদের দাবির মুখে তাঁদের অস্ত্র রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে পেশোয়ার-ভিত্তিক বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সাদ খান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্র রাখার অনুমোদনের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। তিনি বলেন, তাঁদের বই নিয়ে থাকতে দেওয়া উচিত। বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, হামলার পরপরই শুরু হয় হুড়োহুড়ি, রক্তের ছড়াছড়ি। এর মধ্যে অপেশাদার এসব মানুষ অস্ত্র চালাতে পারবেন না। উল্টো তাঁদের গুলিতে হতাহত বাড়তে পারে।

আখুনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শাফি হুসেইন বলল, ‘সন্ত্রাসীরা যখন আসবে, আমাদের শিক্ষকেরা পাল্টা হামলা করবে।’ এহসানউল্লাহ নামের এক অভিভাবক বললেন, ‘শিক্ষকেরা লড়াই করলে একজন, দুজন, তিনজন বা চারজন হামলাকারীকে তো অন্তত গুলি করে মারতে পারবেন।’

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে