Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২৪-২০১৬

রওশনকে এরশাদের চিঠি

রওশনকে এরশাদের চিঠি

ঢাকা, ২৪ জানুয়ারী- জাতীয় পার্টিতে চলমান মতদ্বন্দ্বের মধ্যে রওশন এরশাদকে লেখা এক চিঠিতে দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ দাবি করেছেন, স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই ভাই জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করেছেন তিনি।

জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান এবং এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মহাসচিব করার সমালোচনা করে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রওশনের বিবৃতির এক দিনের মধ্যেই এই চিঠি দিলেন এরশাদ।

স্ত্রী রওশনকে ‘প্রিয় সহকর্মী’ সম্বোধন করে লেখা এরশাদের চিঠিটি রোববার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের মুখপাত্র সুনীল শুভরায়ের পাঠানো একটি বিবৃতিতে সংযুক্ত করে সংবাদ মাধ্যমে আসে।

এতে স্ত্রীর অনুরোধ রাখতে না পারার জন্য ‘দুঃখ’ প্রকাশ করে এরশাদ রওশনকে নিয়েই জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

“আপনি সংসদীয় দলের নেতৃত্বে আছেন, আমি পার্টির নেতৃত্বে আছি। আমাদের উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয় পার্টি আগামী দিনে এগিয়ে ‍যাবে ইনশাল্লাহ।”

এরশাদ গত ১৭ জানুয়ারি নিজের জেলা রংপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জি এম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান এবং উত্তরসূরি ঘোষণার পর থেকে জাতীয় পার্টিতে ঝড় চলছে।

এরশাদের ঘোষণার পাল্টায় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশনের গুলশানের বাড়িতে এক বৈঠকের পর দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সাংবাদিকদের বলেন, রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

‘ওই সিদ্ধান্ত অবৈধ’- তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় একথা বলার পরদিনই রংপুর থেকে ঢাকা ফিরে বনানীতে নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাবলুকে মহাসচিব পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে বারিধারার নিজের বাড়িতে ওঠেন এরশাদ।

এরপর দুজনে দলের পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠকে একসঙ্গে অংশ নিলেও নিজের সিদ্ধান্তে এরশাদ অটল থাকার ঘোষণা দেওয়ার পর রওশন এক বিবৃতিতে বলেন, তাকে না জানিয়ে অগণতান্ত্রিকভাবে দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দুটি নিয়েছেন চেয়ারম্যান।

তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রোববার রওশনকে চিঠি পাঠান এরশাদ। সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তনের জন্য আলোচিত সাবেক এই সামরিক শাসক তাকে বলেন, তার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই।  

স্ত্রীর বিবৃতি গণমাধ্যমে দেখার কথা জানিয়ে এরশাদ লিখেছেন, “আপনি দুটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন।

“প্রথমত পার্টিতে সম্প্রতি জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান ও মহাসচিবের পদটি রদবদলের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বিগত মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু যে আপনাকে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন, তা নাকচ করেছেন।”

“দ্বিতীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। প্রথম বিষয়টি আপনাকে স্পষ্ট করতে চাই। জিএম কাদেরকে পার্টির কো চেয়ারম্যান করার ব্যাপারে আপনারও সম্মতি ছিল।”

গত ২৩ জানুয়ারি পাঠানো বিবৃতিতে রওশন বলেছিলেন, “একটি সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের চেয়ারম্যান হিসেবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এমপি, পার্লামেন্টারি পার্টি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কো চেয়ারম্যান অর্থাৎ ভবিষ্যৎ পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদসহ পার্টির যে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে পরিবর্তন এনেছেন, তা রাজনৈতিক দলের নীতিসিদ্ধ নয় ও অগণতান্ত্রিক।”

এর জবাবে দলের গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানকে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে এরশাদ বলেন, “আমি গঠনতন্ত্র বহির্ভূত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি নাই। ৩৯ ধারাটি গঠনতন্ত্রের অংশ।”

“এ ধারাটি আমার সৃষ্টি করা নয়। গঠনতন্ত্র আমি নিজে প্রণয়ন করি নাই। এটি একটি কমিটি দ্বারা প্রণীত ও পার্টির জাতীয় কাউন্সিল দ্বারা অনুমোদিত,” বলেন অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর রাজনৈতিক দল গঠনকারী এরশাদ।

জিয়াউদ্দিন বাবলুকে ৩৯ ধারা অনুযায়ীই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রওশনকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে এরশাদ বন্দি হওয়ার পর যিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

“আপনাকে অবগত করতে চাই যে, জিয়াউদ্দিন বাবলুকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মহাসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছি। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে মিডিয়ার কাছে আপনাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এটা ছিল দলকে বিভক্ত করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র।”

‘জাতীয় পার্টির ইতিহাসের সঙ্গে ৩৯ ধারা যুক্ত’– তুলে ধরে স্ত্রীকে রওশনকে তিনি লিখেছেন, “আপনার নিশ্চয়ই জানা আছে, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠার পরে যে কয়েকজন মহাসচিব দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা সবাই এই ধারা মতেই নিয়োগ লাভ করেছেন।

“দু-একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য এখন ৩৯ ধারা নিয়ে বিতর্ক করছেন, তারাও কিন্তু এই ধারা মোতাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন। বলা প্রয়োজন যে, অধিকাংশ প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও প্রথম মহাসচিব বাদে সকল মহাসচিবই কোনো না কোনো সময় এই ধারা বলে দায়িত্ব লাভ করেছেন। তখন কিন্তু এই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন আসেনি।”

নানা নাটকীয়তার পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কয়েক মাস পরই হাওলাদারকে সরিয়ে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাসচিব করেন এরশাদ। এই বাবলুকে কটাক্ষ করে এক মন্তব্যের জন্য দুই বছর আগে ভাই জি এম কাদেরকে সতর্ক করে নোটিস পাঠিয়েছিলেন এরশাদ।

নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে এরশাদ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেয়। এরশাদ সংসদ সদস্য হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতও মনোনীত হন।

তারপর বিএনপিবিহীন সংসদে রওশন বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব নিয়ে বলেন, যা কিছু ঘটেছে, এরশাদের ‘সম্মতিতেই’ হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় এরশাদের উত্তর ছিল, ‘সময় হলে’ সব জানাবেন তিনি।         

বিরোধীদলীয় নেতা রওশনের বাড়িতে বৈঠকে মূলত জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সদস্যরাই ছিলেন উল্লেখ করে এরশাদ বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে পার্লামেন্টারি কমিটির মতামত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

“আপনি আমাদের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে অবগত আছেন যে সংসদীয় কমিটি দলের নীতি-নির্ধারণী কোনো শাখা নয়। একমাত্র দলের প্রেসিডিয়ামেরই পার্টির নীতি নির্ধারণের বা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার রয়েছে।”

‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে শুরু করা এই চিঠিতে দলের একজন ‘শীর্ষনেতা’ হিসেবে রওশন দলীয় চেয়ারম্যানের কাছে কোনো আবেদন, নিবেদন বা বিবেচনার আহ্বান জানাতে পারেন স্বীকার করে নিয়েই তা রাখতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এরশাদ।

“আপনার প্রস্তাবটি বিবেচনা করতে পারলাম না বলে দুঃখিত। আশা করি, আপনিও পার্টির সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করবেন।”

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে