Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২৩-২০১৬

ভাইরাল হয়ে পড়া সেই ছবির পেছনের কথা

ভাইরাল হয়ে পড়া সেই ছবির পেছনের কথা

ওয়াশিংটন, ২৩ জানুয়ারি- বিবিসির সাংবাদিক রানা রাহিমপোর-এর জন্ম ইরানে। তিনি ইরান ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক। সম্প্রতি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ব্রিটেন থেকে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। হতাশ ও বিধ্বস্ত রানা বিমানবন্দরে শিশুকন্যাকে পাশে রেখে কাঁদছেন, টুইটারে এমন ছবি পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে গেছে। পরে বিবিসির কাছে নিজের হতাশার কারণ ব্যাখ্যা করেন এ সাংবাদিক। ব্যাখ্যাটি তুলে ধরা হলো নিচে।

গত সপ্তাহে আমি এবং আমার আরও দুই কাজিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি পারিবারিক সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করি। আমার ভাই তার ছয়মাস বয়সী শিশুসন্তানের জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। আমরা ভাবলাম, কাউকে না জানিয়ে সে অনুষ্ঠানে গিয়ে সবাইকে চমকে দেব।

আমরা তিনজনই ব্রিটেন এবং ইরানের দ্বৈত নাগরিক। আমাদের কাছে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ছিল এবং ভিসা ছাড়াই আমেরিকা ভ্রমণের অনুমতিও ছিল। কিন্তু হঠাৎই আমরা শুনলাম- ইরান, সিরিয়া, ইরাক ও সুদানের দ্বৈত নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। তাই ভিসা ছাড়াই আমরা আমেরিকা যেতে পারব কি-না, তা পুনরায় জানতে চাইলাম।

কিন্তু আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না বিষয়টি কতটা জটিল ও কষ্টকর হতে পারে! প্রথমে আমরা লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে গেলাম। তারা বলল, এ বিষয়ে তারা কিছু জানে না।

তারপর আমরা বিদেশ ভ্রমণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা আছে, ওয়েবসাইটে সেটা পড়লাম। সেখানে বলা ছিল, নতুন নিয়ম শিগগিরই কার্যকর করা হবে। 

এরপর আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওয়েবসাইট দেখলাম। সেখানে বলা আছে, তথ্য পাওয়ার পর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি যত দ্রুত সম্ভব, এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে।

নিশ্চিত হতে আমি ওয়াশিংটনে কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলি। তারা আমাকে বলল, তারা মোটামুটি ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত যে, নতুন আইন এখনও কার্যকর হয়নি। 

মোটামুটি আশ্বস্ত হওয়ার পর আমি একজন সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকের আমেরিকা ভ্রমণের জন্য যেসব আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়, সেগুলো সম্পূর্ণ করলাম। আমরা ইএসটিএ (ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথোরাইজেশন) পদ্ধতির আওতায় একটি ফরম পূরণ করলাম। এটি পদ্ধতিতে ইউরোপের অধিকাংশ দেশসহ বিশ্বের মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ভিসা ছাড়া ৯০ দিনের জন্য আমেরিকা ভ্রমণের সুযোগ আছে।

ফ্লাইটের ৭২ ঘন্টা আগে ইএসটিএ ফরমটি পূরণ করতে হয়। তারপর কর্তৃপক্ষ একটি নম্বর পাঠায়, ভ্রমণকালীন এ নম্বরটি দেখালেই আর ভিসার প্রয়োজন পড়ে না। ফরমটি পূরণ করার চতুর্থদিন সকালে আমাদের নির্ধানিত ফ্লাইট ছিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত আমরা সে নম্বরটি পাইনি। 

লন্ডনের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আমাদেরকে ওয়াশিংটনের ইএসটিএ অফিসে যোগাযোগ করতে বলল। কিন্তু সেখানে তখনও কর্মঘন্টা শুরু না হওয়ায় তারা পরামর্শ দিল, যাতে আমরা সরাসরি বিমানবন্দরে চলে যাই, যেতে যেতে যুক্তরাষ্ট্রেও কর্মঘন্টা শুরু হয়ে যাবে আর আমরাও ওয়াশিংটনের ইএসটিএ অফিসের সাথে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করতে পারব। 

বিমান ছাড়ার মাত্র তিনঘণ্টা আগে ওয়াশিংটনের ইএসটিএ অফিস আমাদেরকে জানায়, ইরানের নাগরিকত্ব থাকার কারণে আমাদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। 

ওই অফিসের কর্মকর্তা আমাকে ফোনে জানালেন, অন্য দেশের নাগরিকত্বের সাথে যাদের ইরানের নাগরিকত্বও আছে, তাদের জন্য এখন থেকে ইএসটিএ পদ্ধতি কার্যকর নয়। তাদের জন্য নতুন করে ভিসার আবেদন করতে হবে। কিন্তু আজব বিষয় হচ্ছে, তাদের ওয়াবসাইটে আমাদের আবেদনের বিষয়ে তখনও ‘বিবেচনাধীন’ লেখা!


টুইটারে দেওয়া ছবিটি।

এসব জানার পর প্রথমে আমার ভাইকে ফোন করি। তাকে বললাম, আমরা এখন বিমানবন্দরে আছি, কিন্তু কোনো বিমানে উঠতে পারছি না।  আমার কথা শুনে সে প্রথমে সে ভাবল, আমি তার সাথে মজা করছি। যাই হোক, পরে যখন সে পুরো বিষয়টি বিশ্বাস করল এবং পরিস্থিতিটা বুঝতে পারল, তার ‍মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছিল না। 

পরবর্তী কয়েকঘণ্টা ছিল আমাদের জন্য খুবই হতাশার এবং বেদনার। আমার দুই বছরের কন্যাশিশুটি খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আমি নিজেও খুব ক্লান্ত ছিলাম। কারণ আমি ৩০ সপ্তাহের গর্ভবতী। আমরা সবাই বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলাম। টেক্সি ভাড়া করে বাসায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। টেক্সির জন্য অপেক্ষা করতে করতে হতাশায় সবাই মিলে ফ্লোরে বসে পড়লাম। আমি আমার চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলাম না। অঝোরে কাঁদলাম। আমার মেয়ে তখন আমার পাশে বসা ছিল।  আমি জানতাম না আমার কাজিন এ মুহুর্তটির ছবি তুলে রেখেছিল। 

বাড়িতে ফেরার পর আমি ভাবলাম, আমার সাথে যা হয়েছে, তা জানা থাকলে অন্য দ্বৈত নাগরিকদের উপকার হতে পারে। আমার কাজিনরা আমাকে এ ছবিটি দেখাল,  এটি এমন একটি ছবি যা হাজার কথা বলে! ক্লান্তি, অবসাদ, হতাশা, আশাভঙ্গ... ওই একটি ছবিই সব বোঝাতে সক্ষম। আমি ছবিটি টেইটারে শেয়ার করলাম, মুহুর্তেই সেটি শতশত বার রিটুইট হতে লাগল। পুরো ইন্টারনেটে ছবিটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল।

উল্লেখ্য, গত বছর সম্পাদিত পারমানু চুক্তি ইরান মেনে চলায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। রানা রাহিমপোর-এর ঘটনাটি ঘটল ইরানের উপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দু’সপ্তাহের মধ্যেই!

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে