Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২২-২০১৬

২৬ জনের মধ্যে ১৪ জন আনছারুল্লাহর ‘অনুসারী’ : পুলিশ

২৬ জনের মধ্যে ১৪ জন আনছারুল্লাহর ‘অনুসারী’ : পুলিশ

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি- সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত পাঠানো ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ১৪ জনই জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের অনুসারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি দাবি করেছে পুলিশ।

সিঙ্গাপুর সরকার ওই বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত অভিযোগ প্রকাশ করার পর বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য তুলে ধরেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারকৃতরা বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুরের মোস্তফা মার্কেটের পাশে এ্যাঙ্গুলিয়া নামক একটা মসজিদে নিয়মিত একত্রিত হতো। প্রতি রোববার তারা সেখানে সমবেত হয়ে  জিহাদী বয়ান, ওয়াজ ও জিহাদী ভিডিও দেখতো। সেখানেই তারা সদস্য ও অর্থ সংগ্রহ এবং জিহাদী বই প্রকাশনাসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।’

ফেরত জঙ্গিরা হলেন, মো. জাফর ইকবাল, গোলাম জিলানী, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নুরুল আমিন, মাহমুদুল হাসান, মো. আমিনুর, আব্দুল আলিম, মো. শাহ আলম, আকরাম হোসেন, আলম মাহাবুব, আব্দুল আলী, পারভেজ ডলার, মো. জসীম, মো. আশরাফুল। বাকি ১৩ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আটকদের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, সিঙ্গাপুর পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তাদের আটক করে। তাদের বাসা তল্লাশি করে মোবাইল ফোন জব্দ করে। তাদের মোবাইলে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীম উদ্দিন রাহমানী, ড. জাকির নায়েক, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসূফ, শায়েখ মতিউর রহমান মাদানী, আমান উল্লাহ বিন ইসমাইল এবং দেলওয়ার হোসাইন সাইদীর ওয়াজ পাওয়া গেছে।

তারা জানিয়েছে, আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে। বাংলাদেশ থেকেও আনসারুল্লাহর নেতারা সিঙ্গাপুরে যেতেন তাদের জিহাদী কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সিঙ্গাপুর পুলিশ তাদের আটক করে ২০/২৫ দিন রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।  এরপর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা যেন সিঙ্গাপুরে আর প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য তাদের ‘রেডলিস্টভুক্ত করে রেখেছে সেদেশের সরকার।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, জঙ্গিরা ২ থেকে ৮ বছর ধরে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। তারা ‘লা-মাযহাব’, অর্থাৎ কোনো মাজহাব অনুসরণ করে না। তারা জসীম উদ্দিন রাহমানী, আবুল কালাম, ড, জাকির নায়েক প্রমুখ ব্যক্তিদের বক্তৃতা শুনে আহলে হাদিসের অনুসারী হন।

তারা জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সহযোগিতার কথা বলে এবং মসজিদ মাদ্রাসার নামে তারা নিয়মিত চাঁদা ওঠাতো। এই টাকা তারা বাংলাদেশে জিহাদী বই প্রকাশের জন্য পাঠাতো। এদের মধ্যে বৈঠকে নিয়মিত বয়ান করতো আমিনুর, নুরুল হক ও আশরাফ। বয়ানে তারা জিহাদ, আল্লাহর রাস্তায় আত্মোৎসর্গ করা এবং ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে উদ্বুব্ধ করতো সদস্যদের।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এরা সকলেই জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে আরো সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।’

এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বলেন, “সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে এদের প্রায় কেউই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে জামায়াতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কয়েকজন আছেন।"

সিঙ্গাপুরে তারা কোনো জঙ্গি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কিনা- সে তথ্য বাংলাদেশের পুলিশের কাছে নেই। তবে ওই বাংলাদেশিরা সিঙ্গাপুর থেকে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে টাকা পাঠিয়েছেন বলে জানান মনিরুল।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে