Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২১-২০১৬

৩ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৩৩ হাজারের অধিক

সৈয়দ সোহরাব


৩ বছরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৩৩ হাজারের অধিক

ঢাকা, ২১ জানূয়ারি- শিক্ষার অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছে। শেখ হাসিনার সরকারের তিন মেয়াদের শাসনামলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক (কলেজ), মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মোট ৩৩ হাজারের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদের বিগত ৭ বছরে বেড়েছে ২৭ হাজারের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ গ্রন্থ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ প্রসঙ্গে জানান, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে প্রতিষ্ঠা করাতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, এ উপলব্ধি থেকেই শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বমানের যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে।

তিনি বলেন, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু, উপবৃত্তি প্রদান, ছাত্র-শিক্ষক সংযোগ ঘন্টা বৃদ্ধি, তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচী (পিইডিপি-৩), রিচিং আউট অব স্কুল চিল্ড্রেন প্রকল্প, দারিদ্রপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচী, সেকেন্ড চান্স এডুকেশন কার্যক্রম ইত্যাদি পদক্ষেপের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বৃদ্ধি করে চলেছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের ৩ মেয়াদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৩ হাজার ২১১টি। এর মধ্যে বিগত ৭ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ২৭ হাজার ৫৩৭টি প্রতিষ্ঠান। পৃথক বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬ হাজার ৩০৬টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪ হাজার ১১৬টি, কলেজ ১ হাজার ৮৫০টি, মাদরাসা ১ হাজার ১টি এবং বিশ্ববিদ্যালয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৮টি। এরমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে ৬টি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শতভাগ শিশুকে স্কুলমুখী করার লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে। যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্তের কারণেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে হয়েছে।

ব্যানবেইজের ২০১৪ সালের জরিপের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৩৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের বিগত ৬ বছরের শাসনামলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে ২৫ হাজার ৮৬৩টি।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০১০ সালের ব্যানবেইজের জরিপে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা উঠে আসে ৮২ হাজার ৬৭৪টি।

নাহিদ বলেন, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার যখন প্রথমবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে তখন ব্যানবেইজের জরিপে (১৯৯৭) প্রাথমিক বিদ্যালয় সংখ্যা ৭৭ হাজার ৬৮৫টি এবং ২০০১ সালের জরিপে দেখা যায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল ৭৮ হাজার ১২৬টি। অর্থাৎ শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম মেয়াদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৪৩টি। এতে তাঁর সরকারের তিন মেয়াদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ হাজার ৩০৬টি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরিতাপের বিষয় ২০০১-২০০৬ মেয়াদে জোট আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৬২টি কমে যায়। ব্যানবেইজের ২০০৫ সালের জরিপে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭৭ হাজার ১৬৪টি উঠে আসে। ১৯৭২ সালের জরিপ অনুযায়ী সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারি ও বেসরকারিসহ ৩১ হাজার ৬১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় তার শিক্ষা কার্যক্রম শুরু বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদসহ ৩ মেয়াদে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ হাজার ১১৬টি। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) এ সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ৩ হাজার ১৮৮টি।

বর্তমানে দেশে ১৯ হাজার ৬৮৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জরিপ থেকে জানা যায়, তখন দেশে যথাক্রমে ১২ হাজর ৯৭৮টি ও ১৬ হাজার ১৬৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল। ১৯৭২ সালে দেশে ৭ হাজার ৭৯১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কলেজ প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকারের ৩ মেয়াদে দেশে কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার ৮৫০টি। এর মধ্যে সরকারের প্রথম মেয়াদে বেড়েছে ১ হাজার ১৪২টি এবং বিগত ৭ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০৮টি।

দেশে বর্তমানে ৩ হাজার ৯৮৫টি কলেজ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের জরিপে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২৭৭টি। ব্যানবেইজ জরিপে আরো দেখা যায়, ১৯৯৬ সালে দেশে কলেজ ছিল মাত্র ১ হাজার ৩৬৯টি। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা ছাড়ার সময় ২০০১ সালে সে সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ৫১১টিতে। আর ১৯৭২ সালে কলেজের এ সংখ্যা ৫২৬টি ছিল বলেও তিনি জানান।

মাদরাসার কথা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে ১৯৯৬ সালে দেশে মাদরাসার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৬৫০টি। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়ার সময় এর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৫১টি। অর্থাৎ শেখ হাসিনার সরকারের প্রথম মেয়াদে মাদরাসার সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ১ হাজার ১টি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার যখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে তখন দেশে মাদরাসার সংখ্যা ৯ হাজার ৪৭৫টি। ১৯৭২ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৯৮টি।

তিনি বলেন, ব্যানবেইজের জরিপে উঠে এসেছে ১৯৭৫-৭৬ সালে দেশে মাত্র ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। তার সবগুলোই আবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আর বর্তমানে (জরিপ ২০১৫) দেশে ১২০টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে পাবলিক ৩৭টি ও প্রাইভেট ৮৩টি।

মন্ত্রী বলেন, ২০০৮-১১ সালের জরিপে দেখা গেছে, দেশে মোট ৮২টি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। তার মধ্যে পাবলিক ৩১টি ও প্রাইভেট ৫১টি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত ৭ বছরে ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে পাবলিক ৬টি ও প্রাইভেট ৩২টি রয়েছে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে