Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 4.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-২১-২০১৬

ভারত-পাকিস্তান নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে

ভারত-পাকিস্তান নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে

ভারত-পাকিস্তান নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে
নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারী- পাকিস্তানের পেশোয়ারের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পরস্পরকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করতে বাধ্য করবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাংশের ধারণা এমনই। এই মহলের মতে, দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা শিগগিরই সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আলোচনায় বসবেন। ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের পর যেকোনো দিন এই আলোচনা হতে পারে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেশোয়ারের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হামলায় নিহতদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মহলের মতে, ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশকেই এই বিপদের যৌথ মোকাবিলায় নামতে হবে। সে জন্য সন্ত্রাসকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাকি বিষয়গুলি থেকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে। সন্ত্রাসের মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিও ভাবনায় রয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের স্থগিত বৈঠক কবে আবার শুরু হবে তা এই মুহূর্তে অনিশ্চিত হলেও ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের পাঠানকোট হামলার তদন্তের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি দলকে ভারত স্বাগত জানিয়েছে। ইসলামাবাদ এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি, তাদের দেশের বিশেষ তদন্তকারী দল কবে ভারতে আসবে। পাঠানকোট-কাণ্ডের তদন্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এই বিশেষ দল গঠন করেন। ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দ্রজিৎ সিং অবশ্য গত মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের বিশেষ দলের তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করা হলেও তাদের পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে যেতে দেওয়া হবে না। পাক সীমান্তের মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার দূরত্বের এই বিমান ঘাঁটিতেই আত্মঘাতী জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল।

পাঠানকোট ঘাঁটিতে যেতে না দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান অবশ্য আপত্তি করেনি। তারা জানিয়েছে, ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) আগে তাদের তদন্ত শেষ করুক। তার পর তারা দল পাঠাবে। সেই দল এনআইএর সঙ্গে প্রাথমিক কথা বলবে। তথ্য বিনিময়ও তারা এনআইএর সঙ্গেই করবে।

এনআইএর তদন্ত কবে শেষ হবে তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ, দুটি বিষয় তদন্তকারী দলকে এখনো ভাবাচ্ছে। হামলাকারীরা মোট কতজন ছিল এবং অভ্যন্তরীণ কোনো সাহায্য তারা পেয়েছিল কি না। এই সংশয়ের কারণ, নিহত সন্ত্রাসীরা দুটি দলে ভাগ হয়ে দুই ভাবে ঘাঁটিতে ঢুকেছিল। চারজনের দলটির সবার মৃতদেহ পাওয়া গেলেও বাকি দুজনের মৃতদেহ নিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারছে না তারা। এই দলটি আবার একদিন আগেই বিমান ঘাঁটিতে ঢুকে লুকিয়ে ছিল।

পাঞ্জাবের যে জায়গা দিয়ে সন্ত্রাসীরা এসেছিল তা গুরুদাসপুর জেলায়। ওই জেলারই পুলিশ সুপার সালবিন্দর সিং এখনো নিজেকে সন্দেহের ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারেননি। এনআইএ তাঁকে বিভিন্নভাবে জেরা করছে। তাঁকে একাধিকবার ‘লাই ডিটেক্টর’ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে মাদকের কারবার প্রচণ্ড। আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হয়ে এই মাদক পাঞ্জাব হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে যায়। এই মাদকের কারবারিদের সঙ্গে পাঞ্জাব পুলিশের একাংশের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা পাঠানকোট-কাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, এনআইয়ের তদন্তের প্রধান বিষয়ই তা। এই সন্দেহ থেকে সালবিন্দর সিং এখনো মুক্ত নন।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে