Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.8/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-১৯-২০১৬

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ফিরছেন ক্লাসে

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা ফিরছেন ক্লাসে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষক নেতারা

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি- প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পাওয়ার পর নিজেরা আলোচনা করে কর্মবিরতি কর্মসূচির আপাতত ইতি টেনেছে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বৈঠকের পর ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তার কথায় আমাদের আস্থা রয়েছে। “এই কর্মসূচি একদম স্থগিত, আগামীকাল থেকে আমরা ক্লাসে ফিরে যাব।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে সোয়া এক ঘণ্টার এই বৈঠকে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটির শিক্ষক সমিতির নেতারা ছিলেন।

তাদের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নয় দিন পর বুধবার সচল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, বেতন কাঠামোর বৈষম্য নিরসনের দাবিতে গত ১১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতিতে ছিলেন যেগুলোর শিক্ষকরা।

সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরই ফেডারেশনের নেতারা কর্মসূচি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে বলেছিলেন, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন তারা। গত মাসে অষ্টম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের পর আন্দোলন জোরদার করেন আগে থেকে এনিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার বিরোধিতা করছিলেন তারা। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ সচিবদের সমান গ্রেডে উন্নীত হওয়ার সুযোগ না থাকাকে মর্যাদাহানি হিসেবে দেখছিলেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। উনি বলেছেন, উনি নিজে বিষয়টা দেখবেন।” 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-তৃতীয় গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত পদোন্নতির সোপান তৈরি করা হবে, অন্যান্য দাবি ‘যথাযথ’ বিবেচনা করা হবে।”

মঙ্গলবারের সভার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষকদের প্রধানমন্ত্রী আশ্বাসের বিষয়টি তুলে ধরেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ কামাল বলেন, “বৈঠক থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতি আমরা আস্থাশীল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। “সেই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে আমাদের মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনকে আমরা স্থগিত ঘোষণা করছি।”

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে ফেডারেশনের মহাসচিব বলেন, “যে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের আন্দোলন স্থগিত করেছি, নেতৃবৃন্দ স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের গিয়ে শিক্ষকদের  তা অবহিত করবেন।”

কর্মবিরতি স্থগিত করলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরছেন না বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের মহাসচিব মাকসুদ কামাল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “স্থগিত করা হয়েছে, কিন্তু প্রত্যাহার করা হয়নি। স্থগিত ঘোষণা করাটাও আমাদের আন্দোলনের একটি অংশ।”

মহাসচিব বলেন, তাদের দাবিগুলো পূরণে দেরি কিংবা খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়ন হলে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির পর পুনরায় বৈঠক করে আন্দোলনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে শূন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনের একটি শ্রেণিকক্ষ। শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে শূন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনের একটি শ্রেণিকক্ষ। শিক্ষকরা তাদের দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমলাদের অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করে আসছিলেন। এখনও তাদের সেই শঙ্কা রয়েছে।

মাকসুদ কামাল বলেন, “কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে, কোনো আমলার কূটকৌশলের কারণে আমাদের দাবি-দাওয়া আদায় করতে বিলম্ব হয় অথবা খণ্ডিতভাবে আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো মেনে নেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া চালানো হয়, তাহলে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন তা কোনো অবস্থায় মেনে নেবে না।”

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘প্যাকেজ প্রস্তাব’ দিয়েছেন জানিয়ে তা বাস্তবায়নে শিক্ষকদেরও সম্পৃক্ত করার দাবি জানান অধ্যাপক মাকসুদ কামাল। “আমাদের শিক্ষকদের ও ফেডারেশনের শিক্ষক নেতৃবৃন্দদের সম্পৃক্ত করে এই দাবিগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু যদি সেখানে আমাদের শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত না করা হয়, তাহলে আমরা মনে করব সেখানেও অবহেলার চোখে দেখা হয়েছে।”

শিক্ষকরা আপত্তি তোলার পর তাদের দাবি পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকও করেন।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের তিনটি দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ দিন পর প্রকাশিত গেজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি, অভিযোগ শিক্ষকদের।এরপর ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করে ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিগুলোর জোট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। মাকসুদ কামাল বলেন, দাবিগুলো নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয় যদি দেরি করে, তাহলে তার কারণ খতিয়ে দেখবেন তারা।

“তার জন্য আমরা ৩ ফেব্রুয়ারি বসব, যদি কোনো কূট-কৌশল হয়, সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা আশা করি, এই সময়ের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো পূরণ হবে। আর যদি না হয়, তবে ওই পর্যালোচনা সভায় পরর্বতী করণীয় নির্ধারণ কর

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে