Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.3/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১৯-২০১৬

হাতের লেখা থেকে ধরে ফেলুন লুকোনো এই সমস্যাগুলোকে

কে এন দেয়া


হাতের লেখা থেকে ধরে ফেলুন লুকোনো এই সমস্যাগুলোকে

আমাদের চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকে স্বাস্থ্য সমস্যার বিভিন্ন উপসর্গ, একটু খেয়াল করলেই সেগুলো চোখে পড়ে। ত্বক, নখ, চোখ, জিহ্বা এসব দেখে বিভিন্ন রোগের লক্ষণ বোঝা যায়, তেমনি হাতের লেখা থেকেও কিছু কিছু রোগের আভাস পাওয়া সম্ভব। হাতের লেখা থেকে শুধু ব্যক্তিত্ব নয়, বোঝা যায় আপনার শরীরের অবস্থাও। আর হাতের লেখা থেকে শারীরিক অবস্থা বোঝার একটি জটিল বিজ্ঞান পর্যন্ত আছে, এর নাম হলো গ্রাফোলোজি।

গ্রাফোলজিতে যে পরিমাণ উন্নতি হয়েছে, তাতে বর্তমানে সিজোফ্রেনিয়া, অটিজম এবং ডিসলেক্সিয়ার মতো সমস্যাগুলো বোঝা যেতে পারে হাতের লেখা থেকে। বিভিন্ন রোগ ছাড়াও কিছু মানসিক জটিলতার আঁচ পাওয়া যায় এভাবে।

১) উচ্চ রক্তচাপ
দেখা যায়, যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের হাতের লেখা হয় অনিয়মিত এবং অসমান। লেখার ওপরে তারা সমানভাবে চাপ প্রয়োগ করেন না ফলে লেখা কোথাও গাড়, কোথাও হালকা হতে পারে। অনেক সময়ে লেখা শুরুতে গাড় থাকলেও শেষের দিকে হালকা হয়ে যেতে পারে। এমন হাতের লেখা হতে পারে উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ। এছাড়াও হাতের লেখায় কাঁপা-কাঁপা ভাব থাকতে পারে।

২) সিজোফ্রেনিয়া
অনেকেই একটু কাত করে অথবা বাঁকা করে লিখে থাকেন। কিন্তু একই বাক্য, এমনকি একই শব্দের মাঝে যখন অক্ষরগুলো বিভিন্ন দিকে কাত হয়ে থাকবে, একটি অক্ষর কাত হয়ে থাকবে আবার অন্যটি সোজা হয়ে থাকবে- এমন হলে সেই মানুষটির সিজোফ্রেনিয়ার সমস্যা থাকতে পারে। যাদের সিজোফ্রেনিয়ার ওষুধ নিতে হয়, তাদের মাঝে হাত নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, ফলে তাদের হাতের লেখা খুব দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে।

৩) গর্ভাবস্থা
গর্ভধারণের ব্যাপারটা মা বুঝতে পারার আগেই তা তার হাতের লেখা থেকে বোঝা যেতে পারে। গর্ভধারণের ৭২ ঘন্টার পর এটা বোঝা যেতে পারে। তবে এর জন্য সেই নারীর হাতের লেখার বেশ কিছু নমুনা দরকার হয়। আবার ছয় মাস গর্ভাবস্থার দিকে হাতের লেখা ব্যবহার করে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৪) ডিসলেক্সিয়া
ডিসলেক্সিয়া থাকলে সাধারণত বাচ্চাদের হাতের লেখায় অসঙ্গতি দেখা দিতে পারে। এমনকি ডিসলেক্সিয়া আছে এমন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরও হাতের লেখায় সমস্যা শনাক্ত করা যায়। অনেক সময়ে বিভিন্ন অক্ষর এবং সংখ্যা উল্টো হয়। একই শব্দ বারবার লেখা হতে পারে। বাচ্চার হাতের লেখা ঠিক করার জন্য যদি বাবা-মা চাপ দেন তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

৫) অটিজম
অটিজমের ক্ষেত্রেও বাচ্চাদের হাতের লেখা বেশ খারাপ হয়। অনেক সময়ে রীতিমতো দুর্বোধ্য হয়ে থাকে। কলম-পেন্সিল ঠিকমতো ধরতেও সমস্যা হতে পারে।

৬) আলঝেইমার্স এবং পারকিনসন্স ডিজিজ
আলঝেইমার্স থাকলে দেখা যায়, খুব সুন্দর এবং গোছানো হাতের লেখায় হঠাৎ করেই ছন্দপতন ঘটেছে এবং লেখা হয়ে উঠেছে অগোছালো। হাতের লেখায় কাঁপা কাঁপা ভাব চলে আসে, লেখা ধীর হয়ে যায় এবং অক্ষরগুলো হয়ে পড়ে অনিয়মিত। আর পারকিনসন্স থাকলে লেখার সময়ে হাত কাঁপতে থাকে ক্রমাগত, সহজে কাঁপুনি থামে না। তাদের লেখা হয় খুব ছোট ছোট এবং একসাথে জড়ানো।

৭) ডিপ্রেশন
একজন মানুষ কী কোন কারণে মেজাজ খারাপ করে আছে, নাকি তার মানসিক সমস্যাটা আসলেই গুরুতর তা জানার জন্য দেখুন তার হাতের লেখা। ডিপ্রেশনের বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যায় হাতের লেখায়। তাদের লেখার লাইন অনেক সময়ে ওপর থেকে নিচের দিকে চলে যেতে থাকে। সাইন করার সময়ে তাদের নামের ওপরে থাকতে পারে একটা কাটা দাগ। লেখার ওপরে একটা প্যাঁচানো রেখা থাকতে পারে। এগুলো হতে পারে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশনের লক্ষণ।

হাতের লেখা থেকে এসব সমস্যার আঁচ পাওয়া যেতে পারে বটে, তবে হাতের লেখা দেখেই কেউ অসুস্থ এটা বলে দেওয়া যায় না। আপনি অন্তত তা ঝট করে বলে ফেলতে পারেন না, তার জন্য গ্রাফোলজিতে বিশদ পড়াশোনা জরুরী। কিন্তু হাতের লেখা দেখে সন্দেহ হলে সেই মানুষটিকে ডাক্তারী চেকআপ করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এতে কোন সমস্যা থাকলে তা ধরা পড়বে, আর সমস্যা না থাকলে তো আরও ভালো।

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে