Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১৯-২০১৬

সিরিয়ায় আইএস হত্যালীলা, হত ৩০০, অপহৃত ৪০০

সিরিয়ায় আইএস হত্যালীলা, হত ৩০০, অপহৃত ৪০০

বেইরুট, ১৮ জানুয়ারী- ন্যাটো বাহিনী এবং রাশিয়ার জঙ্গিনিধন অভিযানকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেলাগাম রক্তপাত জারি রইল সিরিয়ায়! এ বার জঙ্গি নিশানায় পূর্ব সিরিয়ার দেইর এল-জৌর। সেনাকে কোণঠাসা করে শহরের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে রাতারাতি ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের হাতে নিহত হল সিরিয়ার অন্তত ৩০০ নাগরিক। অপহৃত আরও চারশো!

পূর্ব সিরিয়ার দেইর এল-জৌর প্রদেশের বালিঘিয়া শহরের দখল নিতে শনিবার থেকেই ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলা চালাতে শুরু করেছে। সিরিয়ার সরকারি সংবাদ মাধ্যম সানা জানাচ্ছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সেনার কর্মী-আধিকারিকেরাও। তবে বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। মহিলা ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। রেয়াত করা
হয়নি বয়স্কদেরও। বেলাগাম এই রক্তপাতের পর শনিবার রাতেই বালিঘিয়ার মাটি কব্জা করে
ফেলেছে জঙ্গিরা। ওড়ানো হয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠীর পতাকাও।

পূর্ব সিরিয়ার দেইর এল-জৌর প্রদেশের বেশির ভাগ এলাকাই বর্তমানে জঙ্গিদের দখলে রয়েছে। সেনা-জঙ্গি দীর্ঘ লড়াইয়ে সেখানে আগেই কোণঠাসা হয়েছে শাসকের নিয়ন্ত্রণ। ওই প্রদেশের রাজধানীও রয়েছে আইএস-এবালিঘিয়ার নিয়ন্ত্রণেই। তবে উত্তরের বেশ কয়েকটি এলাকা এবং সংলগ্ন সেনা বিমানঘাঁটি এখনও নিয়ন্ত্রণেই রেখেছে সরকার। তবে শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই লাগাতার হামলার পরে দেইর এল-জৌরের পশ্চিম এবং উত্তর পশ্চিমের বিস্তীর্ণ এলাকাও দখল করে ফেলল জঙ্গিরা। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং সর্বেক্ষণ সংস্থার মাধ্যমে এই গণহত্যার খবর সামনে আসে। সরকারি সংবাদমাধ্যম তো বটেই এমনকী, আইএসের সঙ্গে যুক্ত সংবাদ সংস্থা আমাক-এর প্রতিবেদনেও এই হত্যাকাণ্ডের খবর সম্প্রচারিত হয়েছে। জানানো হয়েছে, শনিবার প্রথমে চলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। তার পর শুরু হয় হত্যা। সিরীয় সরকারের ঘনিষ্ঠ লেবাননের একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত খবর অনুসারে, এই গোটা ঘটনাটি ঘটেছে বালিঘিয়া শহর এবং তার আশপাশের এলাকায়। সূত্রের খবর, নিহতদের বেশির ভাগেরই মুণ্ডচ্ছেদ করেছে জঙ্গিরা। আর বাকিদের মাথায় গুলি করা হয়েছে। তার পর দেহগুলো ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে ইউফ্রেটিস নদীতে। নিহতদের মধ্যে ১১০ জন সেনা রয়েছেন। অপহৃতদের মধ্যে অন্তত ৫ জন সেনা আধিকারিক রয়েছেন বলেও খবর।

ব্রিটেনের একটি মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা অবশ্য রবিবার জানিয়েছে, সিরিয়ায় কাজ করা ত্রাণকর্মীদের দেওয়া তথ্য বলছে, শনিবার সন্ধের পরে অন্তত পক্ষে ১৩৫ জনকে হত্যা করার খবর পাওয়া গিয়েছে। শুধু সেনাকর্মী নয়, খুন করা হয়েছে সরকারি কর্মী থেকে সরকারপন্থী বহু মানুষকেও। তবে নিহতের সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে ধন্দ থেকেই যাচ্ছে।

ইসলামিক স্টেটকে ঠেকাতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরাক এবং সিরিয়ায় লাগাতার বিমান হানা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন সেনার নেতৃত্বে ব্রিটেন, ফ্রান্স-সহ ন্যাটো দেশগুলো জারি রেখেছে বিমান হানা। সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পক্ষ সমর্থন করে জঙ্গিনিধনে ঘুঁটি সাজিয়েছে রাশিয়াও। তবে তা সত্ত্বেও জঙ্গিদের গণহত্যা অব্যাহত। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এই জঙ্গি তাণ্ডবে রং পাল্টেছে ইউফ্রেটিসের জল। সিরিয়ায় রক্তগঙ্গা বইছেই।

এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে