Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১৯-২০১৬

চলুন ঘুরে আসি কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলো

সাবেরা খাতুন


চলুন ঘুরে আসি কুমিল্লার দর্শনীয় স্থানগুলো

কুমিল্লা, ১৯ জানুয়ারি- ঢাকা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত কুমিল্লা জেলা চট্রগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। কুমিল্লার আয়তন ৩০৮৫.১৭ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ, দক্ষিণে নোয়াখালী ও ফেনী, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা, পশ্চিমে মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুর। কুমিল্লার প্রধান ৩টি নদী হচ্ছে মেঘনা, গোমতী ও ডাকাতিয়া নদী। কুমিল্লা শহর গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত। এই জেলাটি ১৭৯০ সালে ত্রিপুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সালে কুমিল্লা নামকরণ করা হয়। কুমিল্লা জেলায় উপজেলা ১৬ টি ও পৌরসভা আছে ২৭ টি। ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্র্যাঙ্ক রোড কুমিল্লায় অবস্থিত। কুমিল্লা কোর্ট রোড ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্র্যাঙ্ক রোডের বর্ধিতাংশ যা চট্রগ্রাম বন্দরের সাথে যোগাযোগ রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। কুমিল্লা ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের জন্য বিখ্যাত। আসুন আজ জেনে নিই কুমিল্লার দর্শনীয় স্থান গুলো সম্পর্কে।

১। লালমাই, ময়নামতি এবং শালবন বিহার  
কুমিল্লার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হচ্ছে লালমাই ময়নামতি এবং শালবন বিহার । এখানে অনেক টিলা আছে, এর উত্তরের অংশকে ময়নামতি এবং দক্ষিণের অংশকে লালমাই বলা হয় এবং শালবন বিহার হচ্ছে লালমাই ও ময়নামতির মধ্যস্থলে অবস্থিত। রাজা বুদ্ধদেব অষ্টম শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন। এতে ১১৫ টি কক্ষ, প্রশস্ত চত্বর এবং মধ্যখানে ক্রুশাকারের মন্দির অবস্থিত। মন্দিরের একটাই মাত্র প্রবেশ পথ যা উত্তর দিকে মুখ করা অনেকটা পাহাড়পুর মঠের মত। এই কক্ষ গুলোতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন এবং জ্ঞানার্জন ও ধর্মচর্চা করতেন। শালবন বিহার থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে কুটিলা মুড়া অবস্থিত যা বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠার নিদর্শন বহন করছে। এখানে পর পর ৩টি বৌদ্ধস্তূপ আছে যা বুদ্ধ, ধর্ম্যা ও সংঘ এই ত্রি রত্নের প্রতিনিধিত্ব করছে। কুটিলা মুড়ার উত্তর-পশ্চিম অংশে ২.৫ কিলোমিটার  দূরে ছোট আয়তকার মঠ চারপত্র মুড়া অবস্থিত। এই মঠের শুধু পূর্ব দিকেই দরজা আছে যা একটি প্রশস্থ হল রুমের দিকে গেছে। এছাড়াও আছে ইটখোলা মুড়া, রুপবান মুড়া, লটিকত মুড়া ও ভুজ বিহার আছে। ময়নামতি যাদুঘরে সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীর অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন যেমন- তাম্রফলক, স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, ব্রোঞ্জের তৈরি মূর্তি, পাথরের ভাস্কর্য ও পোড়ামাটির ফলক সংরক্ষিত আছে।     

যেভাবে যাওয়া যায়-
কুমিল্লা শহর হতে ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়। কুমিল্লা সেনানিবাস বাসস্ট্যান্ড হতে ট্যাক্সি, বাস বা রিক্সা করেও যাওয়া যায়।

২। ওয়ার সিমেট্রি
ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত ওয়ার সিমেট্রিতে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় নিহত সৈনিকদের সমাধিস্থল। বাংলাদেশ, আসাম ও মিয়ানমারে ৯টি সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয় এর মধ্যে বাংলাদেশে ২টি নির্মাণ করা হয়, একটি কুমিল্লাতে এবং অন্যটি চট্রগ্রামে। এই সমাধি ক্ষেত্রটিতে ১৯৩৯-১৯৪৫সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় নিহত বিভিন্ন দেশের ৭৩৬টি কবর আছে। সমাধিক্ষেত্রটিতে প্রচুর গাছ রয়েছে।

যেভাবে যাওয়া যায়-
কুমিল্লা শহর হতে ট্যাক্সি যোগে যাওয়া যায়।

৩। বার্ড
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী “বার্ড” নামে পরিচিত। এটি মূলত গ্রামীণ  জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে। এটি কুমিল্লা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কোটবাড়িতে ময়নামতি-লালমাই এলাকায় অবস্থিত। ১৫৬ একর জমি নিয়ে বার্ড গঠিত। এতে ট্রেনিং ক্যাম্পাস, মসজিদ, রেস্ট হাউজ, লাইব্রেরী, রেস্টুরেন্ট, অডিটরিয়াম, খেলার জায়গা, ছোট ছোট পাহাড় ও খোলা জায়গা আছে। বার্ড এর মূল পরিকল্পনাকারী ডা. আক্তার হামিদ খান। এটি চমৎকার একটি পর্যটন এলাকা।

৪। ধর্ম সাগর
বড় পুকুরকে দীঘি বা সাগর বলা হয়। ধর্ম সাগর সেই রকম একটি দীঘি। এটি কুমিল্লা শহরের মধ্যস্থলে অবস্থিত। দীঘির পাশেই একটি পার্ক আছে। ত্রিপুরার রাজা ধর্ম মাণিক্য এই দীঘিটি খনন করিয়েছিলেন। এই দীঘির বাম পাশে প্রতিবছর এই দীঘির পাশে মেলা বসে এবং পহেলা বৈশাখে নৌকা বাইচ হয়।

কুমিল্লা শহরের মধ্যস্থলে রানী কুটিরের পাশে নজরুল ইন্সটিটিউট অবস্থিত। এছাড়াও আছে রুপ সাগর, শাহ্‌ সুজার মসজিদ, পাঁচ পীরের মাজার, চান্দিমুড়া মন্দির, রাজ্যেশ্বরী কালী বাড়ি, বীরচন্দ্র গণ পাঠাগার ও মিলনায়তন, নবাব ফয়জুন্নেসার বাড়ী, সংগীতজ্ঞ শচিন দেব বর্মণের বাড়ী, রাজেশপুর বন বিভাগের পিকনিক স্পট, কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী নার্গিসের বাড়ী, জোড়কানন দীঘি, জগন্নাথ দীঘি। কুমিল্লার মাত্রিভান্ডারের রসমলাই অনেক জনপ্রিয়। কুমিল্লার খাদি কাপড় ও বাটিকের কাপড়ের সুনাম ও আছে প্রচুর।

পরিবহন ও যোগাযোগ : গাড়ী, বাস বা ট্রেনে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ ও কমলাপুর বি আর টি সি বাস কাউন্টার থেকে বাস ছাড়ে। কুমিল্লায় শাসনগাছা বা জাঙ্গালিয়া এবং ষ্টেশন রোড বি আর টি সি বাস কাউন্টার প্রধান বাস টার্মিনাল। ঢাকা থেকে কুমিল্লায় পৌঁছাতে আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা সময় লাগে।

হোটেল :  কুমিল্লা জেলা স্কুলের সামনেই আছে “বাংলা রেস্তোরা”, পদুয়ার বাজার বিশ্ব রোডে আছে “নুরজাহান হোটেল”, “চন্দুমিয়ার হোটেল”, বাদশা মিয়ার বাজারে আছে “ময়নামতি হোটেল”, “মেলোডি”, কান্দিরপারে “দিনা হোটেল”, মনোহরপুরে “ইয়াম ইয়াম” ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।     

লিখেছেন- সাবেরা খাতুন

পর্যটন

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে