Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১৯-২০১৬

পরাণের আফসোস, পরাণের স্বপ্ন

মনোজ বসু


পরাণের আফসোস, পরাণের স্বপ্ন
পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা, ১৯ জানুয়ারি- সার্টিফিকেটে ৭৬ বছর হলেও প্রকৃত বয়স ৭৭ বছর। এই বয়সেও প্রাণ প্রাচুর্যে তিনি ভরপুর। বয়সের ছাপ কোনোভাবেই তিনি পড়তে দিতে চান না জীবনে। সিনেমা, টিভি, থিয়েটার নিয়ে এখনো সদাব্যস্ত। সেই সঙ্গে জনপ্রিয়তাকেও সমানতালে ধরে রেখেছেন তিনি। অভিনয়ের উৎকর্ষতা নিয়ে এখনো স্বপ্ন দেখেন তিনি। চান, তাঁর স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে। নাটকের হাত ধরে নতুন প্রজন্ম স্বপ্ন দেখুক, জেগে উঠুক এই প্রত্যাশা নিয়েই এখনো উজ্জ্বল এক আগামীর পথ চেয়ে থাকেন জনপ্রিয় অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চিরনবীন এই অভিনেতা জানালেন, ‘হাতে কাজ আসা, শুটিংয়ের ব্যস্ততা থাকা যেমন লক্ষ্মী লক্ষ্মী ব্যাপারস্যাপার, তেমনি ছবি রিলিজের সময়টা কিন্তু একেবারে সরস্বতীর ব্যাপার। লক্ষ্মী-সরস্বতী জুটি সুপার ডুপার হলে তবেই পাওয়া যায় সেরা প্রাপ্তি।’

দীর্ঘ জীবনে নিজের অভিনয়দক্ষতায় ভর দিয়ে আজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই চলার পথে কঠোর পরিশ্রম আর চেষ্টাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে চান তিনি।

জীবনে বহু পরিচালকের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, কিন্তু সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাজ করতে না পারার আফসোসটা আজও রয়ে গেছে তাঁর। তবে সান্ত্বনা একটাই, বললেন, “নয়ের দশকে সত্যজিৎ রায় ‘উত্তরণ’ ছবির জন্য আমাকে সিলেক্ট করেছিলেন। কিন্তু তারপর সত্যজিৎ রায় মারা যাওয়ায় আর অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি।” আর এই আফসোসটাকে আজ ‘স্বর্গীয় ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দেন রসিক পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পরে অবশ্য সত্যজিৎতনয় সন্দীপ রায়ের অনেক ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। বললেন, ‘বাবু (সন্দীপ রায়) আমার ওপর ভরসা করেছিলেন। তাই সব সময় তাঁর ছবিতে অভিনয় করার সময় মনে হতো, বাবুর মানটা যেন রাখতে পারি।’

সিনেমার পাশাপাশি মীরাক্কেলের বিচারক হিসেবেও আজ পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাদা একটা পরিচিতি এসেছে। মীরাক্কেলে ‘ভেজ’ আর ‘ননভেজ’ রসিকতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বললেন, “ননভেজ জোকসে মাঝেমধ্যে অস্বস্তি তো হয়ই। একেবারে যে হয় না এমনটা নয়। আবার অনেক মানুষের তো স্বস্তিও হয়। আসলে আমিষ রসিকতা তো সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে। আসলে হাস্যরসকে ফিল্টারের মাধ্যমে যাঁরা সংস্কৃতির আঙিনায় পৌঁছে দিতে পারেন, তাঁরাই সফল। মীরাক্কেলে এমন অনেক দৃষ্টান্ত আছে। সবাই তো শিল্পী নয়, কেউ কেউ শিল্পী। ‘মীরাক্কেলে’র মাধ্যমে সেই খোঁজটা চলতে থাকে।”

চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পর্দায় সাবলীল পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলে দিলেন, ‘অভিনয়ের ক্ষেত্রে যাত্রা, থিয়েটার আমার মা। আমার শিক্ষক। আর সেখানে যা শিখেছি, সেটাই এখনো ভাঙিয়ে চলছি সিনেমা ও টেলিভিশনে। আমার মনে হয়, কথকতা, কৃষ্ণযাত্রা, পালাগান, থিয়েটার না থাকলে সিনেমার জন্মই হতো না। আমি যাত্রা-থিয়েটারকে বিক্রি করি না। পয়সা নিয়ে এখানে অভিনয় করতে চাই না বলেই প্রফেশনাল যাত্রাদলে নাম লেখাই না। তবে আইপিটিএর সঙ্গে আমি যুক্ত সেই ২৫ বছর বয়স থেকে। আগে যাত্রা পরিচালনা করতাম, অভিনয় করতাম, গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়াতাম। যাত্রা, থিয়েটার দুটোই করতাম। আর থিয়েটার, যাত্রা সবই করেছি শিল্প ও আদর্শের উদ্দেশ্যেই। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্যই যাত্রা, থিয়েটারকে বেছে নিয়েছিলাম।’

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে