Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-১৬-২০১৬

বছরে ২০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে ডিএনসিসি

সামছুর রহমান


বছরে ২০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে ডিএনসিসি

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ডিএনসিসির কর্মকর্তারা এসব তথ্য দিয়ে বলছেন, এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক নিবন্ধন দিলে বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হতো।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(রাজউক) যেসব এলাকাকে আবাসিক হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেসব এলাকায় গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ধানমন্ডি, বনানী, বারিধারা, গুলশান ও উত্তরা আবাসিক এলাকার বাস্তব অবস্থা দেখে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মমতাজ উদ্দিন। মো. মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘রাজউক আবাসিক হিসেবে প্লট দিল। কিন্তু প্রায় পাঁচ হাজার হোল্ডিং পাওয়া গেছে, যেগুলো বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা রাজউকের বন্ধ করা উচিত। আর যদি বন্ধ না করতে চায়, তাহলে আমাদের লাইসেন্স দেওয়ার অনুমতি দিক।’

কমিটি এলাকাগুলো সমীক্ষা করে দেখতে পায়, অনেক ভবনের বেসমেন্ট বা ভূতলে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে আসা যানবাহন সড়কের ওপরে পার্কিং করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে গেস্টহাউস, বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টার, বিউটি পারলার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লিনিক, কলেজ, কোচিং সেন্টার, বুটিক ও সাধারণ দোকান।

ইংরেজি সাপ্তাহিক প্রোব নিউজ ম্যাগাজিনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, আবাসিক এলাকা বলে পরিচিত ধানমন্ডির ৪৮ ভাগ ভবনেই রয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। গত বছরের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এই জরিপ চালানো হয়। জরিপে দেখা যায়, ১ হাজার ৫৯২টি ভবনের মধ্যে আবাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ৮২৩টি। আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ৫৩২টি ও শুধু বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ২৩৭টি ভবন। অর্থাৎ মোট ভবনের শতকরা ৫২ ভাগ আবাসিক আর আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ও বাণিজ্যিক মিলে শতকরা ৪৮ ভাগ ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় একই চিত্র আবাসিক হিসেবে পরিচিত অন্য এলাকাগুলোর।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১২ আগস্টের পর ডিএনসিসি কোনো ট্রেড লাইসেন্স দেয়নি। ২০০৭ সালের আগে ডিএনসিসির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় মোট ১৩ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ডিএনসিসি শুধু ২০০৭ সালের আগে দেওয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন নবায়ন করছে। নতুন করে কোনো লাইসেন্স দিচ্ছে না।

ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, এসব নিবন্ধনবিহীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে ফি নির্ধারণ করা হতো। সর্বনিম্ন এক হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় হতো। সব মিলিয়ে এগুলো থেকে অন্তত ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো।

আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিষয়ে রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) গোলাম মোস্তফা বলেন, আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আবাসিক অনুমতি নিয়ে বাণিজ্যিক কাজ চালাচ্ছে যারা, তাদের বিরুদ্ধে রাজউক পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে উচ্ছেদ শুরু হবে।

তবে নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম মনে করেন, বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থায় শতভাগ আবাসিক এলাকা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারেই এলাকাগুলো বাণিজ্যিক হয়েছে। সরকার চাইলে আইন পরিবর্তন করে পরিকল্পিতভাবে আবাসিক-বাণিজ্যিক মিলিয়ে এলাকাগুলো গড়ে তুলতে পারে।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে