Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.5/5 (125 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১৫-২০১৬

কাজলের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করবো না: অজয় দেবগন

Shamima Seema


কাজলের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করবো না: অজয় দেবগন

অ্যাকশন হোক অথবা কমেডি সিনেমা, পছন্দের তালিকায় ভারতীয় অভিনেতা অজয় দেবগন একটি জনপ্রিয় নাম। ৪৬ বছর বয়সী এই তারকার চেহারায় ছিল না কোন অভিনেতা সুলভ ব্যাপার। আঁকাবাঁকা দাঁত নিয়ে সিনেমার ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন অজয়। বাবা ভীরু দেবগন অ্যাকশন সিনেমা দুনিয়ার পুরোনো মানুষ। তিনি একজন অ্যাকশন ডিরেক্টর। তাঁর অনুপ্রেরণায় বলিউডে আগমন অজয়ের।

তাকে অজয় দেবগন হিসেবেই এক নামে চিনি আমরা। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই, অজয়ের আসল নাম হল বিশাল ভিরু দেবগান। হিন্দি সিনেমার নায়ক হতে গিয়ে নিজের নাম পাল্টান তিনি। নিজের পদবীও খানিকটা বদলেছেন অজয়, ‘দেবগান’ থেকে হয়েছেন ‘দেবগন’।

নব্বইয়ের দশকের বেশ কয়েকটি সুপারহিট সিনেমার জন্য পরিচালকদের প্রথম পছন্দ ছিলেন অজয়, কিন্তু শেষমেশ কাজগুলো করা হয়নি তার। ‘ডর’ এবং ‘করণ অর্জুন’ সিনেমাতে অভিনয় করে শাহরুখ খান সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সবার অজানা বিষয় হচ্ছে এই দুই চরিত্রের জন্য নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন অজয় দেবগন।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে অ্যাকশন এবং কমেডি নায়ক হিসেবে বক্স-অফিস মাতানোর জন্যেই বেশি পরিচিত অজয়। কিন্তু দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনেতা হিসেবেও পেয়েছেন স্বীকৃতি। এখন পর্যন্ত দুবার জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ১৯৯৮ সালে ‘জখম’ ছবিতে অভিনয় করে জিতে নেন জীবনের প্রথম পুরস্কারটি। এছাড়া ‘দ্য লেজেন্ড অফ ভগত সিং’ সিনেমার জন্য দ্বিতীয়বারের মত পেয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কার।

গোপনে পুরো পাঁচ বছর প্রেম করেছেন অজয়-কাজল জুটি। ১৯৯৫ সালে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে একে অপরের প্রেমে পড়েন তারা। অবশেষে ১৯৯৯ সালে বিয়ে করেন দুজন। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে তাদের সুখের সংসার।

গত বছর ২০১৫ সালে অজয় অভিনীত ‘দৃশ্যম’ ছবিটি মুক্তি পায়। বলাই বাহুল্য, অসাধারণ অভিনয় করে সব মহলের দর্শক থেকে শুরু করে নির্মাতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। এবছর ‘শিভায়’ ছবিটি নিয়ে পর্দায় ফিরবেন তিনি। এই ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করেছেন অজয়। এই অভিনেতাকে একজন রক্ষক, পরিবর্তনশীল ও ধ্বংসাত্মক ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাবে। এই সিনেমার মাধ্যমেই অজয়ের ঝুলিতে প্রযোজকের খেতাব জমা হতে চলেছে। উল্লেখ্য, ‘শিভায়’ ছবির আগে ২০০৮ সালে ‘ইউ মি অউর হাম’ নামের একটি ছবি পরিচালনা করেছিলেন তিনি।

সম্প্রতি ‘বলিউড লাইফ’ ম্যাগাজিনে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রসিক মেজাজের অভিনেতা অজয় দেবগন। দেশে বিদেশের পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটির অনুবাদ দেয়া হল এই প্রতিবেদনে। বলিউডের বাজিরাও সিংঘাম অজয়কে ‘দৃশ্যম’ ছবিতে ভিন্নরকম এক চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। এই সাক্ষাৎকারে ছবিটির চরিত্র, আসন্ন ছবি ‘শিভায়’, এবং কাজলকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছেন তিনি।

‘দৃশ্যম’ ছবিতে মধ্যবিত্ত সংসারী পিতার ভূমিকায় দেখা গেছে আপনাকে। হঠাৎ এমন চরিত্রে কেন অভিনয় করলেন?

অজয় দেবগন: আমি আসলে এরকম একটি সাধারণ চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমার মতে চরিত্রটি খুবই চ্যালেঞ্জিং। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ এবং ‘ওমকারা’ ছবির পর অনেক দর্শক আমাকে বলেছে তাঁরা নাকি সাধাসিধে অজয়কে খুব মিস করে। এবং তাদের উত্তরে আমি সবসময় বলতাম, আমি ওই চরিত্রগুলোর চেয়েও অসাধারণ এক চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় আছি। তেমন ভূমিকা পেলেই এমন বেশে পর্দায় আসব, আর নয়তো সাধারণ চরিত্র করবো না। ‘দৃশ্যম’ সত্যিকার অর্থে তেমন একটি চিত্রনাট্য, যার আশায় আমি আমার ভক্তদের অপেক্ষায় রেখেছিলাম। ছবিটির মূল কাহিনীকার নিঃসন্দেহে অসাধারণ মেধাবী। তাঁর কারণেই চমৎকারভাবে কাজ করা সম্ভব হয়েছে।

‘দৃশ্যম’ ছবিতে একজন পারিবারিক মানুষ হিসেবে পর্দায় এসেছেন। কিন্তু ‘সিংঘাম’ ছবিতে আপনি ছিলেন একজন রাগী পুলিশ অফিসারের ভূমিকায়। এই দুই চরিত্রের মধ্যে কোন চরিত্র আপনার নিজের সঙ্গে মানিয়ে যায়?

অজয় দেবগন: আমি নিজেকে খুবই সাধারণ মানুষ মনে করি। ‘দৃশ্যম’ ছবির চরিত্রের সঙ্গে আমার মিল খুঁজে পাই। কিন্তু এই ছবির পরিচালক নিশিকান্ত কামাত একদিন আমাকে অনুযোগের স্বরে বললেন, আমার আচার আচরণ এবং কথা বলার ভঙ্গি নাকি নায়ক সুলভ হয়ে যাচ্ছে, যা ছবিটির চরিত্রের সঙ্গে মানাচ্ছে না। তখন আমি তাকে বলি, আমি সম্পূর্ণ আমার নিজের স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই রয়েছি। তারপরেও তিনি আমাকে আরেকটু পরিবর্তন করতে বলেন যাতে আমাকে আরও সাবলীল দেখায়। শুটিংয়ে আমি যখনই হাঁটছিলাম, অনেকেই বলেছে আমার হাঁটার ধরণ নাকি ‘সিংঘাম’ ছবির চরিত্রের মতো হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমি সাধারণত এভাবেই হাঁটি। তারপরেও নিজেকে হাঁটার ভঙ্গি থেকে অনেক কিছুই বদলাতে হয়েছে এই ছবির জন্য।

অভিনেতা হিসেবে আপনাকে কি প্রত্যেক চরিত্রের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে নিজেকে তৈরি করতে হয়েছিলো?

অজয় দেবগন: না। আমার তেমন আলাদা করে নিজেকে তৈরি করতে হয়নি। আমি শুটিংয়ে যেতাম, এবং সেটে গিয়ে তাই করতাম যা আমাকে করতে বলা হত। আমি আমার নির্মাতা ও পরিচালকের সঙ্গে প্রতিটি ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করি। ছবির ব্যাপারে আমি নিজের মতামত জানাই। তাঁরা আমার সঙ্গে সম্মত হওয়ার পরেই আমরা শুটিং শুরু করি। ছবিতে কাজ করার আগে আমি কোন মহড়া বা অনুশীলন করি না। কিন্তু যখন নির্দেশক আমাকে তা করতে বলত, তখন আমি আমার সংলাপ ভুলে যেতাম। আমি নিজেই বুঝতাম না আমি তখন কি করছি। যারা আমার সঙ্গে কাজ করে অভ্যস্ত, তাঁরা জানেন কিভাবে এক শটেই আমি অভিনয় করতে পারি।

‘দৃশ্যম’ ছবিতে কাজ করার জন্য কি কোন নির্দিষ্ট ব্যাপার ছিল, যা আপনাকে খুব আকৃষ্ট করেছিল?

অজয় দেবগন: এই ছবির চিত্রনাট্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই ছবিতে কাজ করার অন্যতম প্রধান কারণ এর অসাধারণ কাহিনী। এটিই আমাকে আকর্ষণ করেছিল।

‘দৃশ্যম’ ছবিটির অনেকগুলো রিমেক নির্মিত হয়েছে। আপনারটি সহ চতুর্থবারের মত রিমেক হয়েছে ছবিটি। অন্য ছবিগুলোর অভিনেতা কমল হাসান এবং মোহন লালের সঙ্গেও আপনার কাজের তুলনা হয়েছে। তাই এই ছবিতে অভিনয়ের সময় কি আপনি নিজের উপর চাপ অনুভব করেছিলেন?

অজয় দেবগন: সিনেমায় সবসময়েই তুলনা করা হয়। কিন্তু যদি আপনি ছবিতে আমার পারফরমেন্স নিয়ে বলতে চান, তাহলে বলবো, না। আমি এই ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাই না। আপনি তখনই চাপ অনুভব করবেন, যখন আপনি কোন প্রতিযোগিতা করতে চাইবেন। কমল হাসান এবং মোহন লালের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা যায় না। তাঁরা আমার সিনিয়র এবং অসম্ভব ভালো অভিনেতা। তাঁরা আমার সমসাময়িক নন। আমি সেই সিনেমাগুলো পর্যন্ত দেখিনি। আমি তাদের অভিনয় দ্বারা প্রভাবিত হতে চাই নি। কারিন নিঃসন্দেহে তাঁরা চমৎকার শিল্পী। তাঁরা যদি দুর্বল অভিনেতা হতেন, তাহলে হয়তো আমি সেই ছবিগুলো দেখতাম, বুঝতে চেষ্টা করতাম কোনটা করা দরকার এবং কোনটা না। কিন্তু আমি যদি পর্দায় মোহন লালকে দেখতাম, তবে অবশ্যই এই চরিত্রে আমি প্রভাবিত হতাম।

‘দৃশ্যম’ ছবিটির তামিল এবং মালায়ালাম সংস্করণ থেকে হিন্দি সংস্করণ কিরকম আলাদা বলে আপনি মনে করেন?

অজয় দেবগন: হিন্দি সংস্করণে আমরা শহুরে ভাব আনার চেষ্টা করেছি। আমাদের যে বিষয়টি মনে হয়েছে বাদ দিতে হবে, সেটিই আমরা বাদ দিয়েছি। মূল কাহিনীতে আমরা হাত দেই নি। কিন্তু ছবিতে নাটকীয়তা বাড়ানো হয়েছে।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গ। গত কয়েকবছর ধরে দেখা যাচ্ছে, প্রথম সারির নায়কদের ছবি যেকোনো বড় উৎসবের দিন মুক্তি দেয়া হয়। এই একক অধিপত্য নিয়ে আপনার মতামত কি?

অজয় দেবগন: আমরা আমাদের ছবির জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখের বুকিং দিতে পারি না। আমরা শুধু আমাদের ছবি মুক্তির তারিখের ঘোষণা দেই। কিন্তু তার মানে এই না যে আমাদের ছবির সঙ্গে অন্য কেউ তাদের ছবি মুক্তি দিতে পারবে না। আমরা কারো সিনেমা আটকে রাখতে পারি না। উৎসবের দিন সবাই নিজেদের সিনেমা মুক্তি দিতে পারে। আমি আগেও বলেছি, কারো কারো ছবি উৎসবের দিনে সিনেমা মুক্তি দেয়া নিয়মে পরিণত হয়েছে, এবং এটি চলতেই থাকবে। ব্যবসায়িক দিক থেকেও এর চাহিদা আছে। সবাই চায় নিজেদের সিনেমা উৎসবের দিনে মুক্তি দিতে। এর প্রধান কারণ এমন সিনেমাগুলো ২০০ কোটি থেকে অধিক ব্যবসাসফল হয়। তাই এই দিনগুলোতে ছবি মুক্তি দেয়ার অধিকার প্রত্যেকের রয়েছে। এর আগেও বক্স অফিসে এই ব্যাপারে অনেক ছবির মধ্যে বিরোধ হয়েছে। কিন্তু তারপরেও সিনেমাগুলো ভালো ব্যবসা করতে পেরেছে। তাই এটিকে আমি কোন বড় ইস্যু বলে মনে করি না।

অনেক অভিনেতারাও আজকাল নিজেদের বয়স মেনে নিয়ে বয়স্কদের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। আপনিও কি এই ব্যাপারে একমত?

অজয় দেবগন: অবশ্যই, কেন নয়! সিনেমায় ৬০ বছর বয়সী সাজতে আমার কোন আপত্তি নেই। এটি আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হবে। আমি জানি আমার দর্শকরাও বিষয়টি বুঝে আমাকে সাপোর্ট করবেন। আমি আমার নিজের বয়স নিয়ে আনন্দিত। আমি মনে করি আমার বয়স যখন ২৫ ছিল, সেই সময় থেকে এখন আমি অনেক পরিপক্ক।

আমি অতি শীঘ্রই আপনার স্ত্রী কাজলকে নিয়ে একটি সিনেমা বানাবেন বলে জানিয়েছিলেন। সিনেমাটি কবে দর্শকরা দেখতে পাবে?

অজয় দেবগন: হ্যাঁ। আমি কাজলের জন্য একটি সিনেমা বানাবো। এবং সেটির কাজ এই বছরের শেষের দিকে শেষ করার ইচ্ছা আছে। যেহেতু পরিচালনা ও প্রযোজনার সঙ্গে অভিনয়ে মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয় না। তাই কাজলের সঙ্গে এই সিনেমাটিতে আমি অভিনয় করব না।

আপনার আসন্ন ছবি ‘শিভায়’ নিয়ে কিছু বলুন?

অজয় দেবগন: ‘শিভায়’ আমার জন্য খুবই উচ্চভিলাসী একটি প্রজেক্ট। সম্প্রতি এটি নিয়ে অনেক ব্যস্ততা চলছে। ছবির প্রি প্রোডাকশনের কাজে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখন বর্তমানে ছবিটির জোরেশোরে শুটিং চলছে।

আপনার এবং পরিচালক রোহিত শেঠির সঙ্গে নতুন কোন সিনেমার পরিকল্পনা আছে?

অজয় দেবগন: হ্যাঁ অবশ্যই। আমাদের কথাবার্তা চলছে। ‘গোলমাল ৪’ অথবা ‘সিংঘাম ৩’ নিয়ে আমাদের পরবর্তী প্রজেক্ট শুরু হতে পারে। এখনও কোন কিছু চূড়ান্ত হয় নি।

সাক্ষাৎকার

আরও সাক্ষাৎকার

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে