Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১৫-২০১৬

ওয়াইফাই যখন অন্যতম শত্রু

ওয়াইফাই যখন অন্যতম শত্রু

একই প্রযুক্তির দ্বৈত ব্যবহারের উদাহরণ বলতে প্রথমেই আসবে ওয়াইফাইয়ের নাম। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিভাইসে কাজ করার পাশাপাশি বৃহদার্থে সার্বিক পরিস্থিতি নিরুপন করতেও ওয়াইফাই ব্যবহার করা হয়। মাত্র দুই বছর হতে চললো ওয়াইফাই প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়েছে বিশ্ববাসী, অথচ এরই মধ্যে এর ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। এরমধ্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ওয়াইফাইয়ের কারণে মানব শরীরে ব্যাপক মাত্রার ক্ষতি হয়। আর এই ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় অন্যতম হলো বয়সে তরুণ ও গর্ভবতী নারীরা। কিন্তু আমাদের প্রাযুক্তিক সমাজ এবং সময় আজ এমন এক অবস্থায় এসে ঠেকেছে যে শারিরীক ক্ষতি জেনেও মানুষ অনেকক্ষেত্রে ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু ওয়াইফাইয়ে এই যে শারিরীক সমস্যা হচ্ছে, তার চেয়েও বড় সমস্যা হলো-ওয়াইফাই মূলত নাগরিক জীবনের সকল গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের অনেকগুলো মেগা শহরকে পুরো ওয়াইফাই সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। লন্ডন এবং নিউইয়র্কের মতো বড় শহরগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন ওয়াইফাই সংযোগ তো দেয়া হচ্ছেই, পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকেও এর আওতায় আনা হচ্ছে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে নিয়ন্ত্রনের মধ্যে প্রবেশ করছে। সরকারগুলো তার জনগণকে বিনামূল্যে প্রযুক্তি সুবিধা দেয়ার নামে ও বাণিজ্যিক প্রসারের কথা বলে আসলে তাদের নিজস্ব গোপন এজেন্ডা পূরণ করছে।

অপরাধ এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকারগুলো ইতোমধ্যেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই যুদ্ধের অংশ হিসেবে একদিকে যেমন বিভিন্ন ভূমিতে প্রত্যক্ষ লড়াই চলছে, অন্যদিকে পরোক্ষভাবে সবার উপর নজরদারি স্থাপন করে অন্য ধরণের লড়াইও চালাচ্ছে সরকারগুলো। এই লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ওয়াইফাইকে। কারও পকেটে যদি একটি ওয়াইফাই সংযুক্ত স্মার্টফোন থাকে, তাহলে চাইলে অনায়াসেই তার শরীরের গতিবিধি থেকে শুরু করে তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন তাও জানা যায়। ভাবছেন এটাতো পুরনো কথা, কিন্তু নতুন কথা হলো ওই ওয়াইফাই তরঙ্গ কাজে লাগিয়ে যেকোনো ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে অচল করে দেয়াও সম্ভব। কিন্তু আমাদের চারপাশের ওয়াইফাই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুণাক্ষরেও এই কথা তাদের ভোক্তাদের জানায় না।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম মেইল অনলাইনে রিপোর্ট মোতাবেক, ‘আঙ্গুলের ছাপ এবং ডিএনএ হলো অপরাধী ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু অপরাধ বিষয়ক গবেষকরা নিকট ভবিষ্যতেই ওয়াইফাইকে ব্যবহার করবে আইনশৃঙ্ক্ষলা ভঙ্গকারীকে খুঁজে বের করার জন্য। পুলিশ যদি ঘটনাস্থল থেকে ওয়াইফাই ডিভাইস শনাক্ত করতে পারে তাহলে তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদিও অনায়াসেই পেয়ে যাবে। এমনকি ঘটনা যে সময়ে ঘটেছিল সেই সময়কার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদিও তারা চাইলে উদ্ধার করতে পারবে। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া পুলিশের উপদেষ্টা ও এডিথ ক্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রি প্রার্থী ড্যান ব্ল্যাকম্যানের মতে, পুলিশ বাহিনী তথ্য পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সূত্রকে বরাবরই এড়িয়ে যাচ্ছে।’

প্রথমত, ওয়াইফাইকেও যে পুলিশ ব্যবহার করতে পারে সেটা কিছুটা দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছে প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলো। ২০১৩ সালে সিয়াটল পুলিশ একটি গোপন ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সিস্টেম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। কারণ ওটা হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অর্থায়নে চালু করা হয়েছিল। ওয়াইফাই সংযুক্ত আরও কিছু প্রযুক্তি রয়েছে যা দিয়ে দেয়ালের পেছনের ব্যক্তিকেও সনাক্ত করা যায়। বলা হয়, এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র জরুরী অবস্থার সময় ব্যবহার করা হয় যেমন কোনো শিশু বা বয়স্কদের রক্ষার ক্ষেত্রে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উল্টো। সরকারগুলো জনগণের স্বাধীনতা হরণের নতুন কৌশল হিসেবে গ্রহন করেছে ওয়াইফাইকে। হরেক রকমের গোপন কায়দায় জনগণের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে অনেকদিন ধরেই তাই নয়, ইদানিং সরকারগুলো মাঠ পর্যায় থেকে কৌশলে সংগ্রহ করা তথ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রিও করছে।

খেয়াল করলে দেখা যাবে, আজ সরকারগুলো যা করছে তা কিন্তু নতুন কিছু নয়। একই কায়দায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংক, পর্যটন খাত, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন ইত্যাদি খাতে জনগণের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে জনগণের অগোচরেই। প্রত্যেক মানুষের নামে আলাদা আলাদা ফাইলে জমা হচ্ছে যাবতীয় তথ্যাদি। আর এই বিশাল ডাটাবেজ এতদিন জরুরী অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারগুলো ওই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ক্ষমতা বলে তথ্য সংগ্রহ করতো। কিন্তু জার্মান চ্যান্সেলরের উপর নজরদারির বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে সরকারগুলোই এখন নিজের হাতে নিতে চাচ্ছে নিয়ন্ত্রনের সকল চাবিকাঠি, আর সেই চাবিকাঠির অন্যতম উপাদান হলো ওয়াইফাই।

ওয়াইফাই প্রযুক্তির জন্য যে রাউটার ব্যবহার করা হয় তা সহজেই স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং তারবিহীন অন্যান্য যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অথবা যদি সংযোজিত নাও হতে পারে এবং ব্যবহারকারী যখন ওয়াইফাই সুবিধা পাওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা চালান তার ডিভাইস দিয়ে তখনও গোপনে ওই ডিভাইস থেকে ডাটা চলে যেতে থাকে। রাউটারগুলো মোবাইল ডিভাইসগুলো থেকে অবিরত মিডিয়া অ্যাকসেস কনট্রোল নিয়ে নেয়, যে কারণে প্রত্যেকটি ফোনকে আলাদা আলাদা ট্র্যাক করা কোনো ব্যাপারই নয়।

প্রকৃতপক্ষে বর্তমান জামানা হলো তথ্যের। আর এই জামানায় তথ্যই হলো মূল্যবান স্বর্ণ। আমাদের ব্যক্তিগত সকল তথ্যই এখন বিভিন্ন গোষ্ঠি এবং বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করছে তাদের মুনাফার স্বার্থে। বিশ্বব্যাপী আজ যে ওয়াইফাই ঝড় শুরু হয়েছে এবং এর পক্ষে প্রতিদিন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে যত বিজ্ঞাপন বা অনুষ্ঠান হচ্ছে, তার সবগুলোই প্রকারান্তে তথ্য চুরির কাজে নিয়োজিত এবং সেই তথ্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে সকলের গোপনীয়তা ফাঁসই এর মূল লক্ষ্য।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে