Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-১২-২০১৬

বিএনপির চোখে সরকারের দুই বছর

বিএনপির চোখে সরকারের দুই বছর

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি- টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের গত দুই বছরকে গণতন্ত্রহীন কালো শাসন হিসেবে চিহ্নিত করতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে দলটি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দুঃশাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির নেতারা বলছেন, সরকার নিয়ম রক্ষার কথা বলে ওই নির্বাচন করেছিল। বলেছিল শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন দেবে। কিন্তু তারা সেই প্রতিশ্রুতি রাখেনি।

বিএনপির নেতাদের প্রত্যাশা, চলমান শাসনের নতুন বছরে সরকার তাদের সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। সে ক্ষেত্রে তারা সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।আওয়ামী লীগের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের সরকারের দুই বছর পূর্তির দিনে এসব কথা বলেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপিসহ নিবন্ধিত অনেকগুলো রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় দশম সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হয়।

সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পূর্তি ঘিরে গত বছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর‌্যন্ত প্রায় তিন মাস বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের অবরোধ-হরতালের মধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। এতে পেট্রলবোমার আগুন দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় অনেক সাধারণ মানুষ। পুড়ে ধ্বংস হয় অসংখ্য যানবাহন।

এই সময়ের মধ্যে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সারা দেশে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। মামলা মাথায় নিয়ে অনেকে গ্রেপ্তার এড়াতে ঘরছাড়া। একপর‌্যায়ে আন্দোলন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

গত বছরের মাঝামাঝি থেকে রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয়ে আসে। তবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্তি ঘিরে আবার অস্থিরতা সৃষ্টির যে আশঙ্কা উঁকিঝুঁকি মারছিল, শেষ পযর্ন্ত তা আর সামনে আসেনি। শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে দুই দলের ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি।

আওয়ামী লীগের এবারের ক্ষমতার এই সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সম্প্রতি প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয় ৩৩৪টি পৌরসভা নির্বাচন। তাতে অংশ নেয় বিএনপি। যদিও সিটি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন দুপুরে নির্বাচন বর্জন করে দলটি, কিন্তু পৌর নির্বাচনে শেষ পর‌্যন্ত লড়ে যায় তারা। দুই নির্বাচনেই সরকারি দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে বিএনপি।   

সরকারের দুই বছরের মূল্যায়ন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.)মাহবুবুর রহমান বলেন, “দেশি ও আন্তর্জাতিক পর‌্যায়ে প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতার দুই বছর পার করছে। সব সরকারের মতো এদেরও ব্যর্থতার পাশাপাশি কিছু সফলতা আছে। তবে ব্যর্থতার পাল্লা অনেক ভারী। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো- সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারা। এই আমলে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে; জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে; একাধিক বিদেশি হত্যাসহ জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে। এগুলো দমনে সরকার অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে।” তবে পদ্মা সেতুসহ বেশ কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে যাকে সরকারের সফলতা হিসেবে দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেনারেল মাহবুব বলেন, “দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার যে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার কথা বলেছিল, আশা করি তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সচেষ্ট হবেন। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সব দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে এটাই প্রত্যাশা।”

বিএনপির আগামী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অতীতে হয়তো কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলনকে জোরালো করে সরকারের বিদায় ঘটিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই হবে একমাত্র লক্ষ্য।”

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, “নিয়ম রক্ষার নির্বাচনে অনির্বাচিত সরকার গণতন্ত্রহীন কালো শাসনের মধ্য দিয়ে দুই বছর পার করেছে। শুধু তাই নয়, তারা দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও দলীয়করণে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।”

হান্নান শাহ বলেন, “এ দুই বছর দেশে একদিকে যেমন আইনের শাসন ও মানবাধিকার ছিল না, অন্যদিকে বিরোধী দলের ওপর নির‌্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করেছে।” দেশে শান্তির সুবাতাস নিয়ে আসার জন্য সবার অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন হান্নান শাহ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে নতুন নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দুই বছরে তারা সেই কথা রাখেননি। উল্টো মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, নিরাপত্তা ভুলূণ্ঠিত করা হয়েছে। সবকিছুতে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে। তাই মানুষ এই রুদ্ধশ্বাস অবস্থা থেকে মুক্তি চায়।”

সরকারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নোমান বলেন, “দৃশ্যমান উন্নয়ন নিয়ে অর্থনৈতিক ভিত স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করার কথা ভাবা যায় না। এত বড় অঙ্কের বাজেট দিল, অথচ এখনো প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হয়নি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে। সরকার মধ্যম আয়ের দেশের কথা প্রচার করলেও প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষের জীবনে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। সরকারও এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছে না।”

নোমান বলেন, “আমরা হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন করছি। আগামীতে জনগণকে আবার ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন জোরালো করা হবে। তবে সরকার যদি সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নির্দলীয় হোক বা মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনের আয়োজনের ব্যবস্থা করে, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে রাজি।”

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে