Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 4.0/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-১২-২০১৬

বিমান বহরে যুক্ত হল ‘ময়ূরপঙ্খী’ ও ‘মেঘদূত’

বিমান বহরে যুক্ত হল ‘ময়ূরপঙ্খী’ ও ‘মেঘদূত’

ঢাকা, ১২ জানুয়ারী- রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হলো নতুন দু’টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে উড়োজাহাজ দুটিকে বিমান বহরে সংযোজনের ঘোষণা দেন।

বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যে উন্নয়ন করে দিয়েছি, তার ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। বিমানকে নিয়ে যেনো আমরা গর্ব করতে পারি।”

প্রধানমন্ত্রী নিজেই নতুন এই উড়োজাহাজ দুটির নাম ঠিক করে দিয়েছেন ‘মেঘদূত’ ও ‘ময়ূরপঙ্খী’।

এর আগে গত কয়েক বছরে বিমানের বহরে যুক্ত হয় বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ‘পালকি’, ‘অরুণ আলো’, ‘আকাশ প্রদীপ’ ও ‘রাঙাপ্রভাত। সব মিলিয়ে বিমানের নিজস্ব অর্থে কেনা সুপরিসর বোয়িং উড়োজাজাজের বিমানের সংখ্যা এখন ছয়টি।

২০১৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে চারটি বোয়িং ৭৮৭ ‘ড্রিমলাইনার’ বিমান বহরে যুক্ত হবে বলে কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে জানিয়েছে।

বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি চাই এ বিমানগুলো সাড়া বিশ্বে বিভিন্ন জায়গায় যাবে।”

১৯৭২ সালের ৪ মার্চ একটি ভাড়া করা উড়োজাহাজ দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইট শুরু হয়। ৭ মার্চ সিলেট ও চট্টগ্রামে যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা।

নতুন দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণে বিমান কর্মীদের যত্নবান হওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেন দীর্ঘদিন সার্ভিস দিতে পারে। আমরা কষ্ট করে করে দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু রক্ষা করতে হবে আপনাদের।”

রাষ্ট্রীয় এই বিমান পরিবহন সংস্থাকে ‘আরও লাভজনক’ করতে হলে আকাশপথে মালামাল পরিবহনের ব্যবসা বাড়ানো এবং নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমানে যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “মালপত্র নেওয়ায় কালক্ষেপণ হয়, সময় নষ্ট হয়, যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। সেগুলো যাতে না হয়। তার জন্য যা যা করার আমরা করব।”

বিমানকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিমান শুধু জীবন-জীবিকার ব্যবস্থাই করছে না, বিমান বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।… বিদেশ থেকে যারা বাংলাদেশে আসে, তাদের বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণাটা পরিবর্তন হওয়া দরকার।”


আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে দুটি ডিসি-১০ উড়োজাহাজ বিমান বহরে যুক্ত করে। অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক ফ্লাইটের জন্য তিনটি এফ-২৮ বিমান সংগ্রহ করা হয়।

পরে চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিমানে নিউ ইয়র্ক, ব্রাসেলস, প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মুম্বাই, নারিতা এবং ইয়াঙ্গুন ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন।

২০০৯ সালে আবারও ক্ষমতায় এসে রাজধানীর সঙ্গে সাত জেলার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করে আওয়ামী লীগ। অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর জন্য মিশর থেকে দুটটি ড্যাশ উড়োজাহাজ ভাড়া আনা হয়। চালু হয় ঢাকা-দিল্লি, ঢাকা-ইয়াঙ্গুন ও ঢাকা-হংকং রুটে ফ্লাইট।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা যখন সরকার গঠন করি, তখন দেখলাম বিমান এক রকম মৃত অবস্থায়। আজ বিমান যে উন্নতি করেছে, বলতে পারেন যে, মরা লাশকে আমরা জীবন্ত করেছি। মরা লাশের ভেতরে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছে।”

প্রবাসী বাঙালিরা সব সময় বিমানেই যাতায়াত করতে চান মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাঙালিরা যেখানে যেখানে আছে, সেখান থেকে যেন বিমানে আসতে পারে সে ব্যবস্থাটা আমরা করব।”

বিমান পরিবহন ব্যবসায় বাংলাদেশ যে ভৌগলিক অবস্থানের সুবিধা কাজে লাগাতে পরে, সে দিকেও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

“আমরা পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে একটা সেতু হতে পারি। এই সুযোগটা বাংলাদেশের রয়েছে। আমরা এই সুযোগটা ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে চাই।”


প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যবহারের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার কথাও শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন অনুষ্ঠানে জানান, আগমন ও বর্হিগমনে সময় ঠিক রাখায় সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বিমানকে ছয় হাজার ডলার পুরস্কার দিয়েছে।

অবশ্য যাত্রী সেবার আশনুরূপ উন্নতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে মেনন বলেন, “গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। অভ্যন্তরীণ রুটেও অভিযোগ রয়েছে।”

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও গ্রাহক সেবার মান নিয়ে অভিযোগের কথা বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আসাদুজ্জামানও স্বীকার করেন।

পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ জানান, আগামী এপ্রিল থেকে কলম্বো, মালে এবং চীনের ক্যান্টন ও গোয়ংচু’তে বিমানের ফ্লাইট চালু করবে বিমান।

অন্যদের মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খুরশীদ আলম, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডেভিড মিল, বোয়িংয়ের আন্তর্জাতিক বিপণন বিভাগের পরিচালক সাবিতা গওড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে