Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.3/5 (4 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-১১-২০১৬

কোনো কিছুতে বাঙালিকে খুশি করা যায় না

কোনো কিছুতে বাঙালিকে খুশি করা যায় না

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি- ‘আমরা বেতন দুইগুণ বাড়িয়েছি। তারপরও কেন ক্ষোভ? পেটের ক্ষুধার টান কমিয়েছি, এখন প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি। এই হলো বাঙালি জাতির স্বভাব। কোনো কিছুতেই খুশি করা যায় না।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। কর্মবিরতিতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,  ‘বেতন ১২৩ শতাংশ বাড়িয়েছি। তারপরও কোনো অসুবিধা হলে আমরা সেটা দেখব। কিন্তু ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করা উচিত হবে না, ছাত্র-ছাত্রীরা তা মেনে নেবে না।’

তিনি বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা অনেক উপরে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও রকিব স্যার আমার শিক্ষক। তাদের সন্মান অনেক উপরে। আন্দোলন করে সন্মান রক্ষা হবে না। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করলে সন্মান বাড়বে না।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, তাহলে আপনার শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে সচিব হয়ে যান। বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকুরিজীবি হয়ে যান। আমি নিজ উদ্যোগে শিক্ষকদের চাকুরির বয়সসীমা ৬৫ করেছি। এখন আপনারা কি চান সেটা ৫৯ বছর করি? দয়া করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করবেন না। 

১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে ১৯টি ক্যু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময়ে প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া শুরু হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। উচ্চ আদালত সেই বিষয়ে রায় দিয়েছেন। ফলে উচ্চ আদালতের রায় মানলে জিয়াউর রহমানকে এখন আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে গণ্য করা উচিত হবে না। একইসঙ্গে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় গিয়ে যে দল গঠন করেছেন, সেই দলকে অবৈধ বলে গণ্য করা উচিত।’

আগওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ২২ হাজার লোককে বন্দী করা হয়। এর মধ্যে ১১ হাজারের সাজা হয়। সে সময় গোলাম আযম পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। সে সময় যুদ্ধাপরাধীদের ভোটের অধিকার ছিল না। সেই গোলাম আযমকে জিয়াউর রহমান দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। আর খালেদা জিয়া তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গোলাম আযমকে নাগরিকত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।’

আওয়ামী লীগের জনসভায় বিএনপিনেত্রী প্রায়ই বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠন করলাম। দুই মাসের মধ্যে শুধু পিলখানায় নয়; সমগ্র বাংলাদেশে সেই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। আমরা মাত্র দুই দিনে কন্ট্রোল করি।’

নতুন সেই সরকার কেন একটা বাহিনীতে বিদ্রোহ ঘটাবে- এমন প্রশ্ন রেখে খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি তখন ক্যান্টনমেন্টের বাসায় থাকতেন। বিডিআর বিদ্রোহ ৯টার দিকে শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৭-৮টর মধ্যে কেন বাসা থেকে বের হয়ে উনি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেলেন? এর জবাব জনগণকে দিতে হবে।’

বিদ্রোহের আগের রাতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফোন করেন দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার পুত্র লন্ডন সময় রাত ১-২টার মধ্যে ৪৫ বার ফোন করে তার মাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলে। কেন তার মাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেছে? তারও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।’

‘২০০৯ সালের ফ্রেব্রুয়ারির ওই বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সেনা অফিসারের মধ্যে ৩৩ জনই আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান- একথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তাদেরকে কেন সেখানে পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল- সেটাও একটা প্রশ্ন। আমরা তখন মাত্র দুই মাস ক্ষমতায়।’

হাই কোর্টে এই হত্যামামলার বিচার চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন একদিন করব।’ অনুষ্ঠানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কথা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করবো। আমরা সেই কাজ শুরু করেছি’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু করে। ২০০৯ সালে এসে যুদ্ধপরাধীদের বিচার শুরু করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করার পর অনেক মহল এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। কিন্তু কোনো মহলের ষড়যন্ত্রই সেই বিচারকাজ বন্ধ করতে পারবে না।’

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘১০ জানুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন। সারা বাংলার মানুষের জন্য তিনি আপন মাটিতে ফিরে এসেছিলেন। ওই দিন জনসভা করিনি কারণ বিশ্ব ইজতেমা ছিল।’ 

এর আগে বক্তব্যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেন, শেখ হাসিনাকে আরও সময় দিতে হবে। তাকে আরও এক টার্ম নয়, কয়েক টার্ম সময় দিতে হবে। আরও কয়েকটা টার্ম তার প্রধানমন্ত্রী হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, ‘এটি শেখ হাসিনার জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের  মানুষের জন্য, উন্নয়নের জন্য। বঙ্গবন্ধুকে কেউ দমাতে পারেনি আর শেখ হাসিনাকেও কেউ দমাতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন একজন ব্যক্তি যিনি একটি জাতিকে তৈরি করেছেন। তিনি যখন বলেছেন তখনই ভারতীয় সৈন্য এদেশ ছেড়ে চলে যায়। এটি তিনি পেরেছিলেন।

আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বঙ্গবন্ধুকে দেখে লিখেননি। কিন্তু তিনি অনাগত ভবিষ্যত দেখতে পেয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখেছেন।

বিএনপি ও দলের চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, দল ভাঙ্গে আপনার, জোট ভাঙ্গে আপনার, আর বলেন দেউলিয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগ। যত দিন আপনি (খালেদা জিয়া) এবং আপনার ছেলে (তারেক রহমান) দল (বিএনপি) থেকে সরবেন না ততদিন আপনাদের লাইন বদলাবে না।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, দেশে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, শেখ হাসিনা দেশে আসার পর থেকেই তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সব ষড়যন্ত্র দূর করে সোনার বাংলা গরবো।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জনসভাস্থল পূর্ণ হয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে। পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফেরেন। এই দিনটির স্মরণে রোববার আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। ওই দিন ইজতেমার আখেরি মোনাজাত থাকায় আজ জনসভা করছে আওয়ামী লীগ।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে