Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 4.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-১১-২০১৬

‘দস্যুর মতো’ এমপির হানা, প্রধান শিক্ষককে মারধর

‘দস্যুর মতো’ এমপির হানা, প্রধান শিক্ষককে মারধর
আবু হোসেন বাবলা

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি- একটি বিদ্যালয়ে সদলবলে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার বিরুদ্ধে। শ্যামপুর থানার দোলাইরপাড় স্কুল ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে বিরোধ থেকে সোমবার দুপুরে তিনি এই কাণ্ড ঘটান বলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

ওই এলাকায় সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সানজিদা খানমও বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলে বলেছেন, হামলার সময় সবাইকে বিভ্রান্ত করতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল।

তবে বাবলা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠায় তিনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন।

জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বাবলার সঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলামও ছিলেন। তিনিও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। স্থানীয়রা জানান, দোলাইরপাড় স্কুল ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি পদে আছেন সানজিদা খানম। এখন ওই পদটি পেতে চাইছেন বাবলা।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বেলা সোয়া ১২টার দিকে প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমানের কক্ষে ঢোকেন সংসদ সদস্য বাবলা। প্রধান শিক্ষক আতাউর বলেন, “এমপি (বাবলা) দস্যুর মতো দলবল নিয়ে আমার রুমে প্রবেশ করে। এরপর তার উপস্থিতিতে ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম আমার কলার চেপে ধরেন। অন্যরা আমার মাথায়, মুখে, ঘাড়ে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।” সংসদ সদস্য বাবলা মারধর করেছে কি না- জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কোনো কথা না বলে নীরব হয়ে যান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সহকারী প্রধান শিক্ষক শামীম আরা পারভীন বলেছেন,সংসদ সদস্য নিজেই প্রধান শিক্ষক আতাউরের কলার চেপে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষকের কলার চেপে ধরেছিলেন স্থানীয় সংসদ আবু হোসেন বাবলা। ওই সময় তার পাশে ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম।

“এই ঘটনাটি দেখা ফেলার পরই আমি দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের লোকজন আমাকে আমার অফিসে আটকে রাখে।” প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হওয়ার সময় বাবলার সমর্থক অর্ধশতাধিক যুবক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সামনে স্লোগান দিচ্ছিল বলে জানান শামীম আরা।

সানজিদা খানম বলেন, “বাবলা ও তার সমর্থকরা ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে মারধর করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তারা স্যাবেটাজ করার জন্য জয় বাংলা বলে স্লোগানও দিচ্ছিল। “ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশ নিয়ে সেখানে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ওই শিক্ষককে (মুক্ত করি।”

শ্যামপুর থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক বলেন, “স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির বিরোধের জের ধরে সামান্য ঝামেলা হয়েছিল। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।”

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বাবলা বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে কথা বলতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়েছিলাম। কাউকে মারধরের অভিযোগ সত্য না।”

‘রাতের আঁধারে’ নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে দাবি করে সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়েছিলাম। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।”

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে