Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-১০-২০১৬

মুক্তির আগে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে চেয়েছিলো ইয়াহিয়া

মুক্তির আগে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে চেয়েছিলো ইয়াহিয়া

ঢাকা, ১০ জানুয়ারী- ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট নামের অভিযানের শুরুতেই পাক হানাদাররা বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে বন্দী করে নিয়ে যায়। এরপরে দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার আগে জুলফিকার আলি ভুট্টোর কাছে তাকে (বঙ্গবন্ধুকে) হত্যার অনুমতি চেয়েছিলো ইয়াহিয়া খান।

মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইতিহাসের এই দিনটি স্বরণ করে বর্তমান বানিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ দৈনিক ইত্তেফাকে এক লেখায় বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন মিয়ানওয়ালী কারাগারে বন্দী তখন তিনি ছিলেন সেই কারাগারের প্রিজন গভর্নর ছিলেন হাবীব আলী । ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপের পরে তিনি আমাদের কক্ষে আসেন এবং আন্তরিকতার সাথে কথা বলেন।


বঙ্গবন্ধু মিয়ানওয়ালী কারাগারে কীভাবে জীবনযাপন করেছেন, কীভাবে তিনি মুক্তিলাভ করেছেন সবিস্তারে তার বর্ণনা দেন। গভীর শ্রদ্ধায় স্মৃতি তর্পণ করে একটানা বলে যান, মিয়ানওয়ালী কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে বঙ্গবন্ধুর নয় মাস চৌদ্দদিনের কঠিন কারাজীবনের কথা। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির আগের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি আমাদের বলেছিলেন—“বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বরের ১০ দিন পর ২৬ ডিসেম্বর রাতে মুজিবকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশের পরপরই একটা ট্রাক নিয়ে মিয়ানওয়ালী কারাগারের দিকে যাই। কারা ফটক খুলে তার সেলের কাছে গিয়ে দেখি তিনি একটা কম্বল জড়িয়ে বিছানার উপর ঢুলছেন। এমন সময় সেখানে যারা কয়েদী ছিল তারা শেখ মুজিবকে ফিসফিস করে বলছিল যে, ‘ওরা এসেছে।’ মুজিবও ফিসফিসিয়ে বললেন যে, ‘শেষ পর্যন্ত আমি মাথা নত করবো না।’ তার আগে মিয়ানওয়ালী কারাগারেই সেলের সামনে একটা কবর খনন করা হয়েছিল। শেখ মুজিব যখন জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এটা কী?’ তখন তাঁকে বলা হয়েছিল যে, ‘যুদ্ধ চলছে এটা বাংকার। শেল্টার নেবার জন্য।’ আসলে ছিল কবর।

তখন মুজিবকে একজন কয়েদী বলছিল যে, ‘আসলে এটা কবর। আপনি যদি আজ বের হন আপনাকে মেরে এখানে কবর দেওয়া হবে।’ তখন মুজিব আমাকে বলেছিল, ‘কবরকে আমি ভয় পাই না। আমি তো জানি ওরা আমাকে ফাঁসি দেবে। কিন্তু আমি জানি আমার বাংলাদেশ একদিন স্বাধীন হবে এবং আমি এও জানি, যে বাংলার দামাল ছেলেরা হাসিমুখে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে, সেই বাঙালি জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’

সেদিন তিনি মিনতি করে বলেছিলেন, ‘আমাকে হত্যা করে এই কবরে না, এই লাশটি আমার বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিও। যে বাংলার আলো-বাতাসে আমি বর্ধিত হয়েছি— সেই বাংলার মাটিতে আমি চিরনিদ্রায় শায়িত থাকতে চাই।’

ঐদিন ২৬ তারিখে আমি ট্রাকে করে মুজিবকে নেয়ার জন্য মিয়ানওয়ালী কারাগারে আসি। কারণ ইতোমধ্যে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। ক্ষমতা হস্তান্তরকালে ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর কাছে প্রার্থনা করেছিল যে, ‘আমার ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে শেখ মুজিবকে হত্যা করার অনুমতি দাও। আমার জীবনে যদি কোন ভুল করে থাকি তাহলে শেখ মুজিবকে ফাঁসি কাষ্ঠে না ঝুলানো।’


তখন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো আমার নিকট এই মর্মে জরুরি বার্তা প্রেরণ করেন যে, ‘শেখ মুজিবকে কারাগার থেকে দ্রুত নিরাপদ কোন স্থানে সরিয়ে ফেলা হোক।’

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান বঙ্গবন্ধু। সেখান থেকে যান যুক্তরাজ্যে। ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজে ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন বঙ্গবন্ধু। ১০ জানুয়ারি সকালেই দিল্লিতে নামেন তিনি।

১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়।

বিকাল ৫টায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সশ্রদ্ধচিত্তে সবার ত্যাগের কথা স্মরণ করে সবাইকে দেশ গড়ায় উদ্বুদ্ধ করেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে