Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-০৬-২০১৬

জানুন আনারস খাওয়া-না খাওয়ার কারণগুলো

জানুন আনারস খাওয়া-না খাওয়ার কারণগুলো

স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী আনারস খুবই পুষ্টিকর এবং সুমিষ্ট ফল। আনারস সারা বছরই বাজারে পাওয়া যায়। কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও মিনারেলের চমৎকার উৎস এই আনারস। এতে প্রোটিনের পরিমাণ খুব কম থাকে এবং এতে ব্রোমেলাইন নামক এনজাইম থাকে যা বিভিন্ন প্রকার রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।   

আনারসের স্বাস্থ্য উপকারিতা সমূহ :

১। চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায়
আনারস চোখের জন্য খুবই ভালো যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করে। বয়স বৃদ্ধির ফলে চোখের সমস্যা ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হয় একে প্রতিরোধ করতে পারে আনারসে উপস্থিত পুষ্টি উপাদান। আনারস খেয়ে আপনার দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে পারেন।

২। সুস্থ হাড়  
আনারস কপার ও ম্যাঙ্গানিজের মত খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। এই খনিজ উপাদান সমূহ হাড়কে সুস্থ রাখে এবং বিভিন্ন প্রকার হাড়ের অসুখ প্রতিরোধ করে। বয়সজনিত হাড়ের দুর্বলতা প্রতিরোধ করে আনারস। বাড়ন্ত শিশুর হাড়ের জন্যও আনারস ভালো। ১৯৯৪ সালের একটি গবেষণার ফলাফলে জানা যায় যে,ম্যাঙ্গানিজ অন্য খনিজ উপাদানের সাথে মিলিত হয়ে মহিলাদের মেনোপোজ পরবর্তী অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে পারে। Oregon State University এর Linus Pauling Instituteএর মতে, “আনারস আপনাকে লম্বা ও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে, দৈনিক চাহিদার ৭৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ সরবরাহ করে এই ফল, যা অস্থি ও সংযোগ কলার উন্নয়নে অত্যাবশ্যকীয়”।      

৩। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
আপনার দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি করতে পারে আনারস। আনারসে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে যা ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে। তাই আনারস খেলে ইমিউনিটি শক্তিশালী হয় এবং জীবাণুর আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

৪। এনার্জি প্রদান করে  
অনেক মানুষ আছেন যারা এনার্জি কমে যাওয়া, অবসাদ ও ক্লান্ত অনুভব করা ইত্যাদি সমস্যা গুলোয় ভোগে থাকেন। আনারসের ম্যাঙ্গানিজ এনার্জি উৎপাদনে শরীরকে সাহায্য করে। আমাদের শরীরে যে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এনার্জি উৎপন্ন হয় তার জন্য ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। আর আনারস এই প্রয়োজনীয়তা কে পূরণ করতে পারে। এতে ভিটামিন বি থাকে যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

৫। শ্লেষ্মা বা সর্দি পরিষ্কার করে
যারা দীর্ঘ দিনের কফের সমস্যায় ভুগছেন তারা আনারসের জুস খেলে পরিত্রাণ পেতে পারেন। আনারসে ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে যা গলা থেকে মিউকাস সরে যেতে সাহায্য করে। আনারস ফুসফুসের মিউকাস দূরীকরণেও সহায়তা করে।

৬। মুখের সুরক্ষায়  
আনারসের পুষ্টি উপাদান মাড়িকে শক্তিশালী করে ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করে। দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া রোধ করে। আনারসের অ্যাস্ট্রিনঞ্জেন্ট উপাদান মাড়িকে শক্ত ও টান টান করে।

৭। ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায়
আনারস ত্বকের জন্য উপকারী। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন- ব্রণ প্রতিরোধ করতে পারে আনারসের পুষ্টি উপাদান। আনারসের ভিটামিন সি ত্বকের ইনফ্লামেশন প্রতিরোধ করে। আনারসের পুষ্টি উপাদান কোলাজেন উৎপাদনে সহায়তা করে যা ত্বককে স্বাস্থ্যবান ও তরুণ রাখে। এছাড়াও আনারসের পুষ্টি উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করে ত্বকের শুষ্কতা রোধ করে।

৮। স্বাস্থ্যবান চুলের জন্য  
আনারসে ভিটামিন সি থাকে যা চুল পড়ার সমস্যা দূর করতে পারে। আনারস খেলে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং মাথার তালুর ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে। ঘন ও শক্তিশালী চুল পেতে চাইলে আনারস খাওয়া উচিৎ।   

৯। ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
যারা ওজন কমানোর জন্য সংগ্রাম করছেন তারা আনারস ক্ষেতে পারেন। কারণ আনারসে ক্যালরি কম থাকে এবং কোন ফ্যাট থাকেনা। আনারস কোলেস্টেরল মুক্ত এবং প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ। তাই ওজন কমানোর জন্য আনারস চমৎকার খাদ্য।

স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী আনারস আরো যে রোগ সমূহের নিরাময়ে কাজে লাগে তা হল- রক্তচাপ কমিয়ে হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণ করে, আনারসের ব্রোমেল্যাইন শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সাইনাস ইনফেকশন ও ব্রংকাইটিস প্রতিরোধে কাজ করে, নেজাল ইনফ্লামেশন কমায়, ব্রোমেল্যাইন এনজাইম খাদ্য হজমে সহায়তা করে, আনারসের পুষ্টি উপাদান রক্ত জমাটে বাঁধা প্রদান করে তাই রক্তক্ষরণের সমস্যা প্রতিরোধে কাজ করে, আনারসে পটাসিয়াম থাকে যা রক্ত সংবহনকে উন্নত করতে পারে, আনারসে ক্যান্সার বিরোধী উপাদান আছে যা বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার যেমন- কোলন কেন্সার, মুখ ও গলার ক্যান্সার এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে।

সতর্কতা : সব খাবারের ক্ষেত্রেই কিছু সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন হয়, আনারস ও এর ব্যাতিক্রম নয়।  আনারসের ব্রোমেল্যাইন মূলত মাংস নরমকারী এনজাইম, তাই এটা কঠিন খাবার হজমে সতায়তা করে। এই এনজাইমের উপস্থিতির জন্য বেশী পরিমাণে আনারস খেলে ঠোট, মাড়ি ও জিহবা নরম ও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ব্রোমেল্যাইন শক্তিশালী রাসায়নিক, ভিটামিন সি ও একই রকম। আনারসে এই দুটি উপাদানই উচ্চ মাত্রায় থাকে। তাই অনেক বেশী পরিমাণে আনারস খেলে মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া এবং বমি হতে পারে। এছাড়াও ব্রোমেল্যাইন স্ত্রীরজ কে উদ্দীপিত করে, তাই গর্ভবতী মহিলাদের বেশী পরিমাণে আনারস খাওয়া ঠিক নয়। উচ্চ মাত্রার ব্রোমেল্যাইন এনজাইম গর্ভপাত ঘটাতে পারে, তবে এটা বিরল।  

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে