Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-০৫-২০১৬

বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে ১৮১ কোটি টাকা

বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে ১৮১ কোটি টাকা

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারী- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে ১৮০ কোটি ৫৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে চার জেলার ১৩ উপজেলায় সদ্যবিলুপ্ত ১১টি ছিটমহলের বাসিন্দা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অর্থনৈতিক ও শিক্ষার উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘বিলুপ্ত ছিটমহলসমুহের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, “প্রতিবেশী ভারতের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ১১টি ছিটমহলের মাধ্যমে বিশাল এলাকা আদায় করা বর্তমান সরকারের প্রধান সফলতার একটি। এখন বাংলাদেশের নতুন এ ভূখণ্ডে বসবাসরত মানুষের উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

সরকারি ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

বৈঠকে উপস্থিত সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “প্রকল্পটি উপস্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘ওই এলাকাকে আর ছিটমহল বলা বা লেখা যাবে না।”

এ প্রকল্পের অধীনে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের যোগাযোগের জন্য উপজেলা পর্যায়ে ছয় কিলোমিটার সড়ক, ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৫ কিলোমিটার সড়ক, ১৬৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক, ২০ কিলোমিটার মাটির সড়ক, ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৭ মিটার সেতু, প্রায় ৭০০ মিটার গ্রাম সড়ক সেতু, আটটি নদীর ঘাট নির্মাণ ও সাড়ে ১০ কিলোমিটার খাল উন্নয়ন করা হবে।

ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে ১২টি বাজার নির্মাণ করা হবে। ১৫টি মসজিদ, সাতটি মন্দির, চারটি কবরস্থান ও তিনটি শ্বশানঘাট তৈরি করা হবে।

এছাড়া আটটি কমিউনিটি সেন্টার ও তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হবে।


লালমনিরহাট জেলার ৭ নম্বর উপেনচকি ছিটমহল।

নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দিয়ে ৩১ জুলাই মধ্যরাতে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহলের বিলুপ্তি ঘটে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের পাশাপাশি সরকারি সেবার অধিকারপ্রাপ্ত হয় ছিটবাসী।

৩৭ হাজার বাসিন্দাসহ নিজেদের সীমানায় ভারতের এ ধরনের ১১১টি ছিটমহল পেয়েছে বাংলাদেশ। একইভাবে ১৪ হাজার বাসিন্দাসহ ভারতের ভেতর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল পেয়েছে প্রতিবেশী দেশটি।

ছিটমহল বিনিময় চুক্তির পর পরই প্রধানমন্ত্রী ওইসব অঞ্চলের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বিশেষ করে দ্রুত সময়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও রাস্তাঘাট উন্নয়নের নির্দেশনা দেন। প্রয়োজনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেন তিনি।

সম্প্রতি কুড়িগ্রামে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেসময় বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের ‘ফুলকুঁড়ি’ অভিহিত করে তাদের কল্যাণে ‘যা যা দরকার’ সব করার আশ্বাস দেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।

বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছিটমহলের বাসিন্দাদের জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে