Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.5/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-০৫-২০১৬

কোনো ক্ষোভ নেই, সংলাপে আসুন

কোনো ক্ষোভ নেই, সংলাপে আসুন

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারি- গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আবারো সংলাপের আহ্বান জানালেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, আসুন আমরা আলোচনায় বসি, সংলাপে বসি। কোনো রাগ ক্ষোভ দুঃখ নেই। আসুন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে একসাথে কাজ করি। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আসুন আমরা একসাথে কাজ করি।

মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসের সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা চাই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। গণতন্ত্রের জন্য এক সঙ্গে কাজ করতে।’ অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বানও জানান তিনি। বলেন, ‘তারা জোর করে ক্ষমতায় আছে, তাই তাদেরই এটা করতে হবে।’

এই সরকার অবৈধ, সংসদও অবৈধ
খালেদা জিয়া বলেন, ‘১৫৪ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। এরা যে ভোট ছাড়া নির্বাচিত হলো এদেরকে কীভাবে জনপ্রতিনিধি বলা হবে? এই সরকার অবৈধ, এই সংসদও তাই অবৈধ।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) মেরুদণ্ডহীন বলে আবারো মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ ‘মেরুদণ্ডহীন’ নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই কমিশন অথর্ব। এরা কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি।’

২০০৯-২০১৩ সালের মধ্যে কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে খালেদা বলেন, ‘একটু ফেয়ার ইলেকশন হলেই বিএনপি তাতে জয়লাভ করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের অধীনে “কোনোদিন” জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে না।’

আমরা দুর্নীতি করি না বলেই সংবিধান পরিবর্তন করিনি
সরকার দুর্নীতির সুযোগ করতে এবং কারচুপির ভোটে ক্ষমতায় টিকে থাকতেই এককভাবে সংবিধান সংশোধন করেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেত্রী। তিনি বলেছেন, ‘এই সংবিধানে জনগণের কল্যাণের কিছু নেই। তারা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ইচ্ছে মতো সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছেন। আমরাও করতে পারতাম কিন্তু করিনি কারণ, আমরা দুর্নীতি করি না।’

সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকাকালে আমাদেরও দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু আমরা সংবিধান সংশোধন করিনি কারণ আমরা দুর্নীতি করি না। আর আওয়ামী লীগ এককভাবে সংবিধান সংশোধন করে কারচুপির মাধ্যমে বিএনপিকে শুধু পরাজিতই করেনি, ক্ষমতায় গিয়ে ইচ্ছে মতো সংবিধান কাটাছেঁড়া করেছে।’

টকশোতে কারা যাবে বলে দিচ্ছে সরকার
বিভিন্ন টেলিভিশনে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান টকশো’তে কারা যাবে তা সরকার আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া। এই সরকার বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে উল্লেখ করে খালেদা বলেন, ‘আজ কে টকশোতে যাবে কে যাবে না তা বলে দেয়া হয়। কে টকশো করবে এজেন্সিগুলোকে আগে থেকেই নির্ধারণ করে দেয়া হয়। আর সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে বন্দি করা হচ্ছে। এই হলো সত্যিকারের অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘টকশোতেও আজকে কেউ কথা বলতে পারে না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা হয়েছে, মামলা হয়েছে বলে দেশ ছাড়া হয়েছে। তারা দেশেও থাকতে পারছে না।’ বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেদের বাড়িতে থাকতে পারছে না। মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

প্রশাসনকে অভয় দিলেন খালেদা
খালেদা অভিযোগ করেন, বিরোধীদের ‘হয়রানি-নির্যাতনের’ জন্য সরকার পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করছে। ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাইয়েরা এখানে আছেন। তাদের প্রতি বলবো, এরা তো এই বাংলাদেশেরই ছেলে। এতো অত্যাচার, এতো কষ্ট, গুম খুন করা .. এটা কি ঠিক?’ প্রশ্ন রাখেন খালেদা। 

‘আপনাদের দিয়ে অন্যায় কাজ করাচ্ছে। আমি বলছি না পুলিশবাহিনী খারাপ, কিন্তু আপনাদের নষ্ট করছে।’ এসব বন্ধ করার দাবি জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই। বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। আমরা যদি সকলে মিলেমিশে থেকে কাজ করি, বাংলাদেশকে আমরা একটি সুন্দর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো।’

গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি নিয়ে খালেদার ব্যাখ্যা
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে বলে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পর্ক রয়েছে।’ জঙ্গি নিয়ে তিনি নিজের ব্যাখ্যাও দেন। খালেদা জিয়া বলেন, ‘কিছুদিন পর পর আওয়ামী লীগ বলে, জঙ্গি ধরেছি। রাস্তা থেকে কিছু লোককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদেরকে র‌্যাবের হেড কোয়াটারে রেখে দেয়া হয়। তাদেরকে ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না, গোসল করতে দেয় না, দাঁড়ি কামাতে দেয় না। ফলে দাঁড়ি বড় হয়ে যায়। দাঁড়ি যখন বড় বড় হয়ে যায়, তখন দেখায়- এই যে আমরা জঙ্গি ধরেছি। এই হলো তাদের কারবার।’

বেগম খালেদা জিয়া দাবি করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়। কারণ, জঙ্গিবাদ আওয়ামী লীগের তৈরি এবং জঙ্গিবাদ মানেই আওয়ামী লীগ।’ 

দেশে গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র না থাকলে জঙ্গিবাদের উত্থান হবেই। ছিয়ানব্বই সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। তখন আব্দুর রহমান, বাংলা ভাইদের উত্থান ঘটেছিল। যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়েছিল। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলেও বোমা হামলা হয়েছিল। কিন্তু তখন সরকার কাউকে ধরেনি। কারণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জঙ্গিদের একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশ জঙ্গিবাদের আস্তানা হয়।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপি জড়িত- এমন অপপ্রচার চালিয়ে আওয়ামী লীগ বিদেশিদের ভয় দেখিয়ে বলে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ জঙ্গিবাদের আস্তানা হবে। ধর্মনিরপেক্ষতা চলে যাবে। কিন্তু এটি ঠিক নয়। বরং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকে না। দেশের মানুষের কোনো নিরাপত্তা থাকে না, জঙ্গিবাদের উত্থান হয়। কেননা, জঙ্গিবাদ আওয়ামী লীগের তৈরি এবং জঙ্গিবাদ মানেই আওয়ামী লীগ।’

রাজতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা ভালো ফল দেবে না
দেশে গণতন্ত্র নেই, রাজতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা চলছে এমন দাবি করে খালেদা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কেবল ‘গণতন্ত্রই হত্যা’ করেনি, ‘মানুষ হত্যা’ করে দেশে ‘রাজতন্ত্র কায়েম করার’ চেষ্টায় আছে। মানুষ গুম করে, খুন করে রাজতন্ত্র কয়েম করার যে চেষ্টা আপনারা করছেন, আমার মনে হয় তা কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।’

সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘ফাঁদে ফেলার’ জন্য ‘কথায় কাথায়’ নতুন আইন করছেন বলে অভিযোগ করেন খালেদা। তিনি বলেন, ‘জনগণকে কখনো আটকানো যায় না। যে আইনে জনগণের কোনো কল্যাণ করে না সেটা মানুষ কোনোদিন গ্রহণ করে না।’ গুমখুন করে কেউ কোনোদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি বলে সরকারকে সতর্ক করেন বিএনপি নেত্রী।

ছাত্রদলকে জেগে উঠার আহ্বান
দেশটা শেষ হয়ে যাচ্ছে- এমন অভিযোগ করে এ অবস্থার পরিবর্তনে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের জেগে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া। জনসভায় উপস্থিত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের একটা কথা বলি। তোমাদেরকে শুধু কথা শুনলে, হাততালি ও স্লোগান দিলে হবে না; দেশপ্রেম থাকতে হবে। দেশটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তোমাদের জেগে উঠতে হবে। তবে এজন্য তোমাদের মারামারি-গোলাগুলি-বোমাবাজি করতে বলি না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে, সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন তার বক্তব্যের একপর্যায়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতিবাদ সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে, নিয়ন্ত্রণে থাকবে না- এমন ভয়ে তখন ভ্যাট প্রত্যাহার করবে সরকার।’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছিলেন- বাঘে ধরলেও ছাড়ে, কিন্তু ছাত্ররা ধরলে ছাড়ে না।’

সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘তোমরা যখন ধরবা, তারপর আর যেন না ছাড়, একেবারে বিদায় করে ছাড়বা।’

ঢাবিতে সহাবস্থান চাইলেন খালেদা
শিক্ষার স্বার্থে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি বলেছেন, ঢাবিসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন গুণ্ডালীগ ছাড়া অন্য কেউ থাকতে পারে না। তারাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই ঢাবি কর্তৃপক্ষকে বলবো, হলগুলো থেকে অছাত্র ও অস্ত্র বের করুন। সকল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের হলে থাকার পরিবেশ সৃষ্টি করুন। তারা সবাই একসাথে মিলেমিশে হলে থাকবে।

সমাবেশ নিয়ে উৎফুল্ল খালেদা
দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে সমাবেশ করতে পেরে অনেকটাই উৎফুল্ল ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। নয়াপল্টনে বক্তব্যের শুরুতেই খালেদা জিয়া তার আনন্দের কথা প্রকাশ করেন।

গত সপ্তাহে পৌর নির্বাচনে ভরাডুবির পর এটাই বিএনপির প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি। আর দুই বছরেরও বেশি সময় পর রাজধানীতে উন্মুক্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। নয়াপল্টনে খালেদা জিয়া ২০১২ সালে সর্বশেষ জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন।

এদিকে এতোদিন পর এই সমাবেশকে ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যায় উৎসাহ-উদ্দীপনা। দুপুরের আগে থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা জড়ো হতে থাকেন নয়াপল্টনে সভামঞ্চের সামনে। একপর্যায়ে নয়াপল্টন সড়কের পূর্বে ফকিরেরপুল মোড় এবং পশ্চিমে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল রেস্তোরাঁ পর্যন্ত সড়কে সমাবেশের বিস্তৃতি ঘটলে পুলিশ যানচলাচল বন্ধ করে দেয়।

বেলা ২টার পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে সভার কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।খালেদা জিয়া বেলা ২টা ৫২ মিনিটে জনসভা মঞ্চে এলে নেতাকর্মীরা করতালি ও শ্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। খালেদাও হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, জমিরউদ্দিন সরকার, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, হারুন আল রশীদ, মোহাম্মদ শাহজাহান ও রুহুল কবির রিজভীও সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে