Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.3/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-০৫-২০১৬

‘বেলতলা’ নয়, সহাবস্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

খালিদ হোসেন


‘বেলতলা’ নয়, সহাবস্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারী- সদ্য বিদায়ী বছরজুড়ে দাবানল জ্বললেও নতুন বছরের শুরুতে রাজনীতিতে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধান দুই দলের যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল আপাতত তার অবসানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর দুই দলের ‘কঠোর ও উগ্র’ অবস্থান থাকলেও এবার তা নেই। কঠোর অবস্থানের কারণে এর আগে বহু মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এ জন্য, ন্যাড়া যে বারবার বেলতলায় যেতে চাইছে না, সে ব্যাপারটি সুস্পষ্ট।
 
যে নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিতে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট সেটাকে সাংবিধানিক রক্ষার জন্য বললেও বিএনপি জোট নির্বাচন বর্জন করে রাজপথে অনির্দিষ্ট কালের কর্মসূচি দেয়। নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা না গেলেও বিএনপি জোটের কর্মসূচিতেও জনগণের অংশগ্রহণ ছিল না।

২০১৫ সালে ৫ জানুয়ারি সরকারের বর্ষপূতিতে আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তুতি নেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষ কঠোর অবস্থানে যায়। বিএনপি জোটের আন্দোলন চলাকালে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্লোগান ওঠে, ‘নামাইতে না পারলে ছেড়ে দেন, থামাইতে না পারলে ছেড়ে দেন।’

এবারের ৫ জানুয়ারি দেশবাসীকে স্বস্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের জন্য প্রথমে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার আগ্রহ দেখায়। পরে একই স্থানে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালনের কথা জানানো হয়। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আগ্রহ দেখায়। পরে আওয়ামী লীগও গুলিস্তানে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালনে সম্মত হয়। তাই গত ৫ জানুয়ারি আর এবারের ৫ জানুয়ারির মধ্যে পার্থক্য অনেক।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জানান, গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি জোট যে অপতৎপরতা দেখিয়েছিল এবার তাদের সেই সাংগঠনিক ক্ষমতা নেই। সমাবেশ নিয়ে দুই দলের যে অবস্থান তা সমঝোতা কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শান্তিতে বিশ্বাস করে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘সমঝোতা থাকতেই হবে। গণতন্ত্র মানেই সমঝোতা, একসাথে কাজ করা, সংলাপ করা।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কথা জানান। বলেন, গতবছর দু’দলের যে ‘উগ্রতা’ ছিল এবার তা নেই।

পৌর নির্বাচনকে ‘অসম্পূর্ণ’ বললেও নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানানোর কথা উল্লেখ করে এমাজ উদ্দিন বলেন, ‘এবার একটা সমঝোতার ভাব আছে। দু’দলই সামনে সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখতে চায়।’

‘কোনো দলই জেদ করছে না। মাত্র ক’দিন আগে নির্বাচন শেষ হলো। নির্বাচন যা-ই হোক, বিএনপি অংশ নিয়েছিল। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলনের দিকেই এখন তাদের মনোযোগ। গতবার ছিল মুখোমুখি, এবার না,’ বলেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

গতবছর উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর ছিল নানামুখি তৎপরতা। ক্ষমতাসীন দলকে তারা বলেছিল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনে সুযোগ দেয়ার জন্য। আর বিরোধী দলকে তারা সহিংসতা এড়াতে বলেছিল।

ওইসবের কোনো প্রভাব এবার পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. এমাজ উদ্দিন বলেন, ‘না, না। গতবছর শীর্ষ নেতাদের যে মানসিকতা দেখা গিয়েছিল এবার তা দেখা যাচ্ছে না। এটাই তো হওয়া উচিত। গত বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলীয় নেতাকে টেলিফোনে দাওয়াত দিয়েছিলেন। এবার এমনও হতে পারে প্রধানমন্ত্রীকে তিনি দাওয়াত দেবেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত মনে হচ্ছে। দুই দল যদি মুখোমুখি অবস্থানে থেকে সংঘাতে না যায়, তা হলে ঠিক আছে। এখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ক্যালকুলেশনের বিষয়, আবার আমরা পেট্রোল বোমার যুগে ফিরে যাব কি না।’

অধ্যাপক শান্তনু বলেন, ‘এটাও মনে রাখতে হবে, এর আগে তারেক জিয়া শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিএনপি বিতর্কিত মন্তব্য করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে ছিল। বিএনপি আন্দোলন করে কী গেইন করেছে? আর আওয়ামী লীগও যদি তাদের মাঠে নামতে দিতে না চায় তাহলে তো এভাবে তাদের ভোট কমাতে পারবে না।’

দু’দলের পারস্পরিক অন্তর্ঘাতমূলক আচরণ নয়, এমনটাই আশা করছেন শান্তনু  মজুমদার। ‘এখন কেউ যদি ইগো না দেখায়’ তাহলেই রক্ষে, মনে করছেন অধ্যাপক শান্তনু।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে