Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-০৫-২০১৬

আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগের সামনে জবুথবু বিএনপি

সুমন মাহমুদ ও মঈনুল হক চৌধুরী


আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগের সামনে জবুথবু বিএনপি

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারি- জ্বালাও-পোড়াওয়ের আন্দোলন ঠেকিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠিকই করে ফেলেছিল আওয়ামী লীগ, তারপর এক বছর রাজনৈতিক শক্ত কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের।

সেই ভোটের বছর পূর্তিতে লাগাতার অবরোধ ডেকে ক্ষমতাসীনদের সামনে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

অবরোধে নাশকতায় আগুনে পুড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুতে ওই আন্দোলনের ফল বিএনপির বিপরীতেই গেছে বলে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ।

তিন মাস পর সেই আন্দোলন গিলতে হয়েছিল বিএনপিকে। আর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার পর সেই আন্দোলন কাটিয়ে আওয়ামী লীগের আত্মবিশ্বাস দৃশ্যত তুঙ্গে উঠেছে।

তাতে ভর করেই দলটি ২০১৩ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং পরের বছর উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির ভালো ফল দেখেও আইন সংশোধন করে ধানের শীষ প্রতীকের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছিল।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতারোহনের এক সপ্তাহ আগের সেই নির্বাচনের বৈতরণীও জাতীয় নির্বাচনের মতোই উৎরে গেছে আওয়ামী লীগ, যা স্পষ্টতই তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কিংবা তার দলের নেতারা সরাসরি যেমন বলছেন, বিএনপির আন্দোলন করার সামর্থ্য একেবারেই নেই; তেমনি ঘোষণা দিচ্ছেন, খালেদা জিয়ার বিচার করারও।  

আর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই দশম সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দুবার সরকার গঠনকারী দলটিকে গত দুই বছর ধরেই কার্যত আঁধারে পথ হাতড়াতেই দেখা গেছে।

সরকার হঠানোর আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ার পর মামলা-হামলার মুখে পৌর নির্বাচনে এসে ভরাডুবির পর ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করলেও কোনো কর্মসূচি আসেনি তাদের কাছ থেকে।

কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া আকস্মিকভাবে লাগাতার অবরোধে নামার পর পুলিশের অভিযান, শীর্ষনেতারা গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্যে বিএনপির ছিল অনেকটাই ছন্নছাড়া দশা।

মাঠের তৎপরতায় পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি দলের সর্বোচ্চ ফোরামের সমন্বয়হীনতা, কমিটিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা- সব কিছু মিলিয়ে বিএনপিকে স্থবিরই দেখাচ্ছিল।

তবে বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণেই তারা সংঘবদ্ধ হতে পারছেন না; যে দলটি সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান গড়লেও যার নেতাদের এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য সেল থেকে জানা গেছে, ৭৫ টি সাংগঠনিক জেলার দুই-তৃতীয়াংশেই পুরনো কমিটিই কাজ করছে।

অবরোধের সময় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারে সাংগঠনিক কাজের গতি আটকে যাওয়ার পর গত বছরের শেষ দিকে এসে মাঠ পর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেও এগুতে পারেনি দলটি।

এর দায়িত্বে থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান এই ব্যর্থতার পুরো দায়ই সরকারের উপরই দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, “সরকার আমাদেরকে কেবল দমন-পীড়ন করে ক্ষান্ত হয়নি, তারা দলের পুনর্গঠন কাজ যাতে এগুতে না পারে, সেই কাজটি করেছে।

“অনেক জায়গা নেতারা ঘরোয়া বৈঠক করতে গেলে পুলিশ গিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। পরিস্থিতি এমন হলে কীভাবে আমরা কাজ করব?”

মাঠে কার্যক্রম নেই কেন- জানতে চাইলে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দেশে গণতন্ত্র নেই। তারমধ্যেও আমরা সংগঠনকে এগিয়ে নিচ্ছি। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অনেকে গ্রেপ্তার, সাংগঠনিক কার্যক্রমে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এর জন্য আমি সরকারকেই অভিযুক্ত করব।”

মাঠ পর্যায়ের কমিটির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ নেতাই নিষ্ক্রিয়, যার সদস্য সংখ্যা ৩৮১। এরমধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ঘোষণা দিয়েই রাজনীতি ছেড়েছেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ফাঁসিতে ঝুলেছেন। তাকে এবং জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে নিয়েও সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বিএনপিকে। 

এই সময়ে বেশ কয়েকবার কারাগার হয়ে আসা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সরকার বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যে নীল-নকশা নিয়ে এগুচ্ছে।

“হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা। অনেকে কারাগারে বন্দি। অনেকে গুম হয়েছে, অনেককে হত্যা করা হয়েছে। এরকম একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বিএনপিকে এগোতে হচ্ছে।”

তবে বিএনপিকে এখনও দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে ফখরুল বলেন, “সব ষড়যন্ত্র ও বাধা অতিক্রম করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে বিএনপি।”

অন্যদিকে রাজনৈতিক মাঠে শূন্যতায় সেখানে জোর তৎপরতা দেখা যায়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও। বরং সরকারকে দেখা গেছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকটিতেই বেশি গুরুত্ব দিতে।

বিএনপির নির্দলীয় সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যানের সময় সরকারপ্রধানসহ দলটির নেতাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকবারই শোনা গেছে, জনগণ এখন ভোটের চেয়ে প্রত্যাশা বেশি উন্নয়নের।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই সমালোচনাও উঠেছে যে, তারা গণতন্ত্রহীন অবস্থাকে উন্নয়ন দিয়ে ঢাকতে চায়।

শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় সমালোচনা বিএনপি করছে যে, দল ও সরকারে এককাধিপত্য তাকে একনায়ক করে তুলছে।

সাংগঠনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের গতি না আসার মধ্যে গত বছর আকস্মিকভাবে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সরিয়ে দিলে দলের নেতা-কর্মীদের অনেকে হতভম্ব হয়ে পড়েছিলেন।

তবে পরীক্ষিত আশরাফকে কয়েকদিনের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফেরত এনে ওই অবস্থা সামাল দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কোনো কোন্দল প্রকাশ্য না হলেও মাঠ পর্যায়ে কোন্দলের খবর মাঝে-মধ্যেই এসেছে।

বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ না আসাও যে আওয়ামী লীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ, তা ফুটে উঠেছে আশরাফের এক বক্তব্যে।

গত ১৫ অগাস্টের এক অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেছিলেন, “তখনও (১৯৭৫) আমাদের দল ক্ষমতায় ছিল। তাহলে আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা তখন কোথায় ছিল? তখন কি আমাদের কোনো ব্যর্থতা ছিল না?

“মাঝে মাঝে আমি আতঙ্কিত হই। বহু শক্তি আছে, মঙ্গল হোক সেটা চায় না,” আশরাফের এই কথায় স্পষ্ট রাজনৈতিক আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছেন না তারা, যে কোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎই এখন তাদের ভাবনায়।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে