Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.3/5 (3 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-০৪-২০১৬

ঠান্ডা ও ইনফেকশন প্রতিরোধের সাধারণ কিছু উপায়

সাবেরা খাতুন


ঠান্ডা ও ইনফেকশন প্রতিরোধের সাধারণ কিছু উপায়

আজকে আপনি সুস্থ আছেন, পরেরদিনই হয়তো আপনার গলা খুসখুস করছে, চোখ জলসিক্ত হচ্ছে, নাকদিয়ে পানি পড়া শুরু হয়েছে এবং এনার্জি লেভেলও কমতে থাকে। এগুলোই হচ্ছে প্রাথমিক কিছু লক্ষণ ঠান্ডা ও ফ্লু এর। ঠান্ডা এবং ফ্লু এর এই লক্ষণ গুলো আমরা সবাই জানি। খুব অল্পদিন স্থায়ী হলেও খুবই বিরক্তিকর এই উপসর্গ গুলো। শীতকাল হচ্ছে ঠান্ডা এবং ফ্লু এর ঋতু। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য পূর্বাভাস ইউনিটের চিকিৎসা পরামর্শক Dr William Bird এর মতে, “ডিসেম্বরে ইনফেকশনের প্রাদুর্ভাব হয়। আমরা কিছু উপায় অবলম্বন করে ঠান্ডা এবং ফ্লু এর ঝুঁকি কমাতে পারি”। আসুন তাহলে জেনে নেই ঠান্ডা এবং ফ্লু প্রতিরোধ করার সহজ ও প্রাকৃতিক কিছু উপায়।

১। বিশ্রাম নিন এবং চাপ কমান
ঠান্ডার সাথে যুদ্ধ করার জন্য মন ও শরীর গভীরভাবে সম্পর্ক যুক্ত। যদি আপনি ক্লান্ত অনুভব করেন, দুঃখিত বা রাগান্বিত হন ইত্যাদি আবেগ গুলো আপনার মনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। এগুলো আপনার ইমিউন সিস্টেমকে ধীর করে দেয় যখন কিনা ঠান্ডার ভাইরাসের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি নিয়ে যুদ্ধ করা প্রয়োজন।

আপনার শরীরের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন তাহলে আপনি অনুভব করবেন যে ঠান্ডায় আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন। তখন চাপ সামলে নেয়ার চেষ্টা করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমান। Estores  বলেন, “যখন আপনি মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন তখন ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়”।      

সাধারণত আপনি যখন অনুভব করেন যে ঠান্ডা আসছে তখনই আপনার ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার জন্য কাজ করে যে কোষ গুলো তাদের সংখ্যা কমিয়ে দেয় স্ট্রেস। এছাড়াও শরীরের করটিসোলের লেভেল বাড়িয়ে দেয় স্ট্রেস। এই হরমোন ইমিউন সিস্টেমকে আঘাত করে। ইমিউন সিস্টেমকে চাংগা করার জন্য গান শুনুন, মেডিটেশন করুন বা কোন কাজে ব্যস্ত হোন। বিশ্রাম নিতে ভুলবেননা যেন।

২। হাত ধোয়া বারবার
যত ঘনঘন হাত ধোবেন তত অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমবে। মনে রাখবেন ঠান্ডা ও ফ্লু ভাইরাসের জন্য হয় ব্যাকটেরিয়ার জন্য না। তাই ব্যাকটেরিয়া নাশক সাবান ঠান্ডা ও ফ্লু এর বিরুদ্ধে কাজ করেনা। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্যাকটেরিয়া নাশক সাবানের চেয়ে সাধারণ সাবান ও পানি ইনফেকশনের অসুস্থতার জন্য ভালো। এছাড়াও প্রচুর প্রমাণ আছে যে, অনেক ব্যাকটেরিয়া নাশক সাবানে ট্রাইক্লোজেন থাকে যা রেজিসটেন্ট ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন করে।

৩। মুখে হাত লাগান কমান          
২০০৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় জানা যায় যে, টিপিক্যাল মানুষরা ঘণ্টায় ১৬ বার মুখে হাত লাগান। যদি আপনি চোখ, নাক ও ঠোঁটে স্পর্শ করা কমান তাহলে আপনার শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে।

৪। উষ্ণ থাকুন
উষ্ণতা কফ, ঠান্ডা ও ফ্লু এড়াতে সাহায্য করে। কনকনে ঠান্ডার কাঁপুনি ইমিউন সিস্টেমকে দমিয়ে দেয় এবং এর ফলে খুব সহজে ঠান্ডা আক্রমণ করতে পারে। সূর্যের আলোর মাত্রা কমে গেলে এবং হরমোনের পরিবর্তিত মাত্রা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ইমিউন সিস্টেম কিভাবে কাজ করে তাঁর উপর। আমাদের শরীরের তাপমাত্রার ৩০% মাথা দিয়ে বাহির হয়ে যায়। তাই শীতের সময়ে মাথায় হ্যাট পড়ুন।

 ৫। পর্যাপ্ত সময় ঘুমান
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ক্রনিক ডিজিজ যেমন- ক্যান্সার এবং স্মৃতিশক্তি থেকে শুরু করে ইমিউন ফাংশন পর্যন্ত সব কিছুকেই দুর্বল করে দেয়। কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অপর্যাপ্ত ঘুম ঠান্ডা, ফ্লু এবং অন্য ভাইরাস দ্বারা আক্রমনের সুযোগ তৈরি করে। অন্য কিছু গবেষণায় এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, যদি আপনি ইনফেকশনের স্বীকার হন তাহলে ঘুমের মাত্রা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সুতরাং ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ      

এছাড়াও ঠান্ডা ও ফ্লু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিয়মিত শরীর চর্চা করুন, প্রচুর ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন, পুষ্টি সমৃদ্ধ সুপার ফুড গ্রহণ করুন, ভিড় এড়িয়ে চলুন, রান্না ঘর পরিষ্কার রাখুন এবং খাবার নিরাপদ রাখুন।

লিখেছেন- সাবেরা খাতুন

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে