Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-০৪-২০১৬

অভিনব পদ্ধতিতে দূর করা যাবে সকালবেলার মুখের দুর্গন্ধ!

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি


অভিনব পদ্ধতিতে দূর করা যাবে সকালবেলার মুখের দুর্গন্ধ!

সকালের রোদ চোখে ছুঁইয়ে খুব চনমনে একটা মন নিয়ে ঘুম থেকে উঠলেও সহজেই এত সুন্দর সকালটা মাটি হয় যেতে পারে আপনার একটি মাত্র কারণে। আর সেটি হচ্ছে মুখের দুর্গন্ধ। শুধু কি সকালটা মাটি হওয়া? মুখের এই অযাচিত দুর্গন্ধের কারণে সামনের মানুষটির কাছেও প্রচন্ড লজ্জায় পড়ে যেতে পারেন আপনি। কিন্তু আর এই মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে লজ্জায় থাকা নয়। সম্প্রতি গবেষকেরা সাত-সকালে না চাইতেই মুখের ভেতরে হানা দেওয়া এই দুর্গন্ধকে দূর করতে আবিষ্কার করেছেন সম্পূর্ণ নতুন একটি পদ্ধতি। প্রোবায়োটিক পদ্ধতি। আর এর নাম হচ্ছে- স্ট্রিপটকোক্কাস স্যালিভ্যারিয়াস কে-১২ ( বিজনেস ইনসাইডার )।

সাধারণত মানুষের শরীরে কোটি কোটি  মাইক্রোঅরগানিজম বিদ্যমান থাকে। যাদের বেশকিছু থাকে মুখে। রাতে ঘুমানোর সময় মুখ শুষ্ক হয়ে গেলে মাঝে মাঝে এদের ভেতরে কিছু ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। আর এদের থেকে উত্পন্ন গ্যাসই আমাদের মুখে সকালবেলায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। তবে অত্যন্ত সামান্য আর বিরক্তিকর এই ঝামেলাকে এড়ানোর জন্যেই কিছুদিন আগে গবেষকেরা পেয়েছেন একেবারে নতুন এক পদ্ধতি।

গবেষকদের মতানুসরে, ব্যাকটেরিয়ার পরিশোধিত একটি অংশকেই স্প্রে বা অন্যকোন মাধ্যমে ব্যবহার করে সহজেই দূর করে ফেলা যাবে মুখের দুর্গন্ধকে। আমাদের শরীরে হাজার হাজার মাইক্রোব থাকে। যাদের একত্রিত রূপ মাইক্রোবায়েম আমাদের শরীরের সব কার্যক্রমকে ঠিকভাবে পরিচালিত হতে সাহায্য করে। আমাদের জীবন প্রণালীর নানারকম পদ্ধতি এই মাইক্রোবায়োমকে সমস্যায় ফেলে দেয়।

প্রায় সময়েই আমরা অ্যন্টিবায়োটিকস ব্যবহার করি। এছাড়াও এমন কিছু অভ্যাস যেমন- মদ্যপান বা পানি কম খাওয়া ইত্যাদি গড়ে তুলি যে শরীরের এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো নষ্ট হয়ে যায় ( স্কুপ নেস্ট )। মারা যায়। ফলে এর প্রভাবটা পড়ে আমাদের শরীরের এবং বিশেষ করে আমাদের মুখে। তৈরি হয়ে দূর্গন্ধ।

কিন্তু কেমন হয় যদি এই ব্যাকটেরিয়াকেই ব্যবহার করা হয় মৃত ব্যাকটেরিয়া থেকে জন্ম নেওয়া বাজে গন্ধের বিপরীতে। গবেষকেরা আশা করছেন কাজটি হয়তো সফল হয়ে যেতে পারে এক বছরের ভেতরেই। ২০০৬ সালে এ ব্যাপারে ২৩ জন মানুষের ওপর করা একটি পরীক্ষায় দেখা যায় যে, সাধারন মাউথওয়াশ ব্যবহারের চাইতে যদি স্ট্রিপটকোক্কাস স্যালিভ্যারিয়াস কে-১২ ব্যবহার করা হয় তাহলে সকালবেলায় মুখে তৈরি হওয়া বাজে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে আসে ( ডেইলি রিডলিস্ট )।

উত্তর ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োম রিসার্চ কোরের পরিচালক আন্দ্রে আজকারাটে পেরিলের মতে আমরা এত বেশি পরিমাণ মাউথ ওয়াশ ও পরিশোধনকারী জিনিসপত্র ব্যবহার করছি আজকাল যে সেগুলো ভালোকিছু করার চাইতে ক্ষতিই করছে বেশি। তবে গবেষকদের মতে খারাপ ও ভালো উভয় ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলা মাউথওয়াশের সাথে সাথে  স্ট্রিপটকোক্কাস স্যালিভ্যারিয়াস কে-১২ ব্যবহার করলে এই সমস্যা বা বাজে প্রভাবটা একেবারেই কমে যায়। সেই সাথে কমে যায় মুখের দুর্গন্ধও।

যদিও এখনো পর্যন্ত মানব শরীরের এই ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি জানা যায়নি, আর এটাও জানা যায়নি যে এই প্রোবায়োম সবার জন্যে কাজ করবে কিনা। তবে তারপরেও আপাততঃ এই স্ট্রিপটকোক্কাস স্যালিভ্যারিয়াস কে-১২ এর দিকেই অনেকটা আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে সবাই। যেটা কিনা পরবর্তী সময়ে ক্যান্সারের প্রতিরোধকারী হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে বলে জানান গবেষকেরা।

গবেষণা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে