Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-০৪-২০১৬

বিএনপিকে সংগঠিত হতে দেবে না সরকার

বিএনপিকে সংগঠিত হতে দেবে না সরকার

ঢাকা, ০৪ জানুয়ারি- বিএনপিকে দলীয়ভাবে সংগঠিত হওয়ার কোনো সুযোগ দিতে চায় না সরকার। এ জন্য তাৎক্ষণিকভাবে মাঠের রাজনীতিতে নিজেরা সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারিতে ‘গণতন্ত্রের হত্যা দিবস’, ‘ভোটাধিকার হরণ দিবস’—এসব স্লোগান বাদ দিয়ে ঘরোয়াভাবে করতে চাইলে বিএনপিকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সে ক্ষেত্রে সরকারি দল আওয়ামী লীগও বড় ধরনের শোডাউনে যেত না। দলীয় সূত্র জানায়, এবার আগে থেকে আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি ঠিক করেনি। পৌর নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে এ নিয়ে খুব একটা আলোচনাও হয়নি। গতানুগতিকভাবে দিবসটি পালন করার পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে আবার রাজনীতির বাতাস গরম হয়ে ওঠে। অবশ্য আওয়ামী লীগ সাংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, তাদের কাছে খবর আছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউকেই পুলিশ কর্মসূচি পালন করতে দেবে না। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সরিয়ে নেওয়া হবে। ঢাকার অন্য ১৭টি শোভাযাত্রা ও সমাবেশ ঘোষিত স্থানেই হবে।
বিএনপি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বদলে নয়াপল্টনে জনসভার অনুমতি দিলেও তাদের আপত্তি নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, একই জায়গায়, একই তারিখে জনসমাবেশ করার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তা পেলে চূড়ান্তভাবে দুই দলকে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমি সুস্পষ্টভাবে বলছি, সাংঘর্ষিক কোনো কর্মসূচি, যেখানে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, যেটা নিকট অতীতে আমরা অনেকবার দেখেছি—এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের অনুমতি আমরা দেব না।’

কোনো দল তাদের কর্মসূচির জন্য যদি বিকল্প স্থান চায়, সে ক্ষেত্রে করণীয় কী হবে—এমন প্রশ্নে আছাদুজ্জামান বলেন, কেউ যদি শান্তিপূর্ণভাবে কোনো কর্মসূচি করে, তাতে পুলিশের বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে কর্মসূচি যদি সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা করতে দেবে না পুলিশ। এ ব্যাপারে উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।

তবে সরকার ও আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে বিএনপির পিছু হটা ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ পুরো ঢাকার ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশমুখে আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। নয়াপল্টনে সমাবেশ করলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেসব পথ ধরে আসবেন, সেগুলোতে আওয়ামী লীগেরও নেতা-কর্মীদের জমায়েত থাকবে। সে ক্ষেত্রে সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যায়। আর সারা দেশে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আবার দলের বিদ্রোহী মেয়ররাও চাইবেন সক্রিয় কর্মসূচি দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে। এতে ঢাকার বাইরেও উত্তেজনা থাকবে।

গত বছরের ৫ জানুয়ারিতে বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের লক্ষ্যে নয়াপল্টনে সমাবেশ ডেকেছিল। একই দিন সরকারি দল আওয়ামী লীগও ঢাকায় ১৬টি স্থানে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রা ও সমাবেশের ঘোষণা করে। অবশ্য ওই দিন বিএনপি সমাবেশ করতে পারেনি। পরে দলটি প্রায় তিন মাস হরতাল-অবরোধ পালন করে। এতে ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা কথা বলেন। সন্ধ্যায় ওই নেতা আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে গণভবনে যান। রাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে রাজধানীতে ১৮টি স্থানে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করার কর্মসূচি জানানো হয় গণমাধ্যমে। সারা দেশও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, গত বছর যেসব স্থানে আওয়ামী লীগ অবস্থান নিয়েছিল, এবারও সেসব স্থানে অবস্থান থাকবে। ঢাকার দুই মেয়রের জন্য বাড়তি দুটি স্থান ঠিক করা হয়েছে। সবগুলো কর্মসূচিতেই দলের জ্যেষ্ঠ ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

ওই নেতা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি এমনভাবে নেওয়া হয়েছে, যাতে বিএনপি মাঠে নামার সুযোগই না পায়। এ জন্য মহানগরের প্রবেশমুখ, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পথ ও মাঠে শোভাযাত্রা ও সমাবেশের স্থান ঠিক করা হয়েছে। পাশাপাশি মতিঝিলে শ্রমিক লীগ, প্রেসক্লাবের সামনে যুবলীগ, হাইকোর্টের সামনে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, শাহবাগে ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ আলাদা অবস্থান নেবে।

আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এই মুহূর্তে সংঘাতে জড়ালেও বিএনপিরই ক্ষতি হবে বেশি। কারণ গত বছরের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও দেশে-বিদেশে সমালোচিত হয়েছে। এবার তেমন কিছু করলে আরও বেশি সমালোচনায় পড়বে দলটি।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—আওয়ামী লীগ যেভাবে কর্মসূচি দিয়েছে, তাতে বিএনপি মাঠে নামলে সংঘাত তৈরি হতে পারে কি না। জবাবে হানিফ বলেন, গত বছর সংঘাত-সহিংসতা করে তারা সমুচিত জবাব পেয়েছে। এবার একই কাজ করলে আরও কঠোর জবাব দেবে জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এবার বিএনপি সহিংসতায় জড়াতে চায় না। দলটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সরকারের অগণতান্ত্রিক চরিত্র ফুটিয়ে তোলা। সোহরাওয়ার্দীর পর নয়াপল্টনেও যদি কর্মসূচি পালনের অনুমতি না মেলে, তাহলে দেখানো যাবে সরকার ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচিও পালন করতে দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত কোথাও সমাবেশের অনুমতি না পেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে দলটি। সেই সঙ্গে এর প্রতিবাদে রাজধানীর কোনো মিলনায়তনে প্রতিবাদ সভা অথবা থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়ারও চিন্তা রয়েছে।

গতকাল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যৌথ সভা হয়। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে গত বছর এই দিবসটি পালন করেছে। এবারও করবে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত আরেকটি জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রতিবছরই দিবসটি পালন করব।’

বিএনপির কর্মসূচির বিষয়ে হানিফ বলেন, ‘তারা কিসের জন্য কর্মসূচি দিয়েছে? গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে? তারা ভুল রাজনীতির দিবস বা অনুতপ্ত দিবস পালন করতে পারে। তাহলে হয়তো জনগণ তাদের সহায়তা করলে করতে পারে।’

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন: গতকাল বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘এবার দেখব আপনারা কতটুকু শান্তির পক্ষে, আপনারা কতটুকু স্বস্তি, কতটুকু গণতন্ত্রের পক্ষে।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা নয়াপল্টন—দুই জায়গার কোথাও সমাবেশের অনুমতি না পেলে বিকল্প হিসেবে বিএনপি কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, তা ৫ তারিখে জানানো হবে। তাঁরা অপেক্ষা করছেন এবং জনসভার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি ঘোষণা করে সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দেউলিয়াত্ব ফুটে উঠেছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে