Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-০১-২০১৬

'আওয়ামী লীগ সিল মেরে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে'

'আওয়ামী লীগ সিল মেরে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে'

ঢাকা, ০১ জানুয়ারী- ভোট ডাকাতি করে জেতার মধ্যে আনন্দের কিছু নেই জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘উত্তর বঙ্গে অনেক জায়গাই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। মানুষ অনেকদিন পর ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু সব জায়গাতে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। তারা (আওয়ামী লীগ) সিল মেরে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। জনগণ সঠিকভাবে ভোট দিতে পারলে সবগুলোতে বিএনপি বিজয়ী হতো।’

রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় খালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে হাসিনা-রকিব মার্কা নির্বাচন অচল। তাদের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, হতে পারে না- এটা পৌরসভা নির্বাচনে আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে। তাই বলে কি দেশে নির্বাচন হবে না? অবশ্যই হবে। আমি বিশ্বাস করি, যারা এত মানুষ হত্যা, গুম, খুন করেছে; এত মা-বোনের চোখের পানি বৃথা যাবে না। আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। জনগণ সুযোগ পেলে ঠিক জায়গায় তাদের ভোট দেবে।’

দেশে গণতন্ত্র নেই, রাজতন্ত্র কায়েম হয়েছে
খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র এখন নির্বাসিত। গণতন্ত্রের দরকার নেই, সরকার উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু আমরা তো উন্নয়ন দেখি না। ঢাকা শহরে ফ্লাইওভার বানানো হচ্ছে। কারণ এ থেকে বড় বড় কমিশন পাওয়া যায়। অথচ গ্রামগঞ্জে হাহাকার চলছে। তাই মানুষ ঢাকা ছুটছে। কুইক রেন্টালের মাধ্যমে লুটপাট হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ নেই।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, গণতন্ত্র তো নেই, স্বৈরতন্ত্রও নেই; হয়েছে রাজতন্ত্র কায়েম। এক ব্যক্তি যা ইচ্ছা করবেন, তার ইচ্ছাই সব। তাকে সালামি দিয়ে ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। এটাই হলো আজকের সত্যিকারের গণতন্ত্র।’

নির্বাচন কমিশন মেরুদণ্ডহীন
তিনি বলেন, ‘এরা অথর্ব, মেরুদণ্ডহীন। আমরা সেনা মোতায়েনের দাবি করলেও তারা বলেছেন সব ঠিক আছে। আর কত অনিয়ম হলে তারা সেনা মোতায়েন করবেন।’

রক্তপিপাসু সরকার পিন্টুকে বাঁচতে দিল না
ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসানসহ ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাদের মুক্তি দিতে হবে। সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কার কাছে মুক্তি দাবি করব। এই অবৈধ সরকারের কাছে? এরা তো আরও মামলা দেবে। আগামী দিনে গণতান্ত্রিক সরকার ফিরে এলে তবেই না এই দাবি হবে। তাই বিচারপতিদের কাছে দাবি করতে পারি, এদের মিথ্যা মামলা যেন প্রত্যাহার হয়ে যায়। কারণ তারা তো একটা প্রতিষ্ঠান।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে কীভাবে গুম করা হয়েছে, সেটা দেশের মানুষ দেখেছে। ইলিয়াস আলী ছিল রাজপথের একজন পরীক্ষিত নেতা। ছাত্র রাজনীতিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। ছাত্রদলের সাবেক নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর কোনো দোষ ছিল না। তাকে জেলে রাখা হলো। তাকে সাজা দেওয়া হলো। জেলে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেল ছেলেটি। ছাত্রদলে তার অবদান কোনো অংশে কম ছিল না। কিন্তু রক্তপিপাসু সরকার তাকে বাঁচতে দিল না।’

সামনে তোমাদের দিন
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়েছে। আমরা চলে যাব। তোমরা যাতে আমাদের জায়গা পূরণ করতে পার সেভাবে তোমাদের তৈরি হতে হবে। আমরা সবাইকে মূল্যায়ন করতে চাই। সবাই আমার সন্তানের মতো। কিন্তু আমাদের জায়গা কম। তাই সবাইকে বলব, পদ না পেলে কেউ গ্রুপিং করবে না। বড় ভাই পদ দেয়নি তাই বলে তার বিরুদ্ধে কিছু করা ঠিক হবে না। যারা ছাত্রদলে থাকবে না তাদের অন্য সংগঠনে সুযোগ দেওয়া হবে। তাই সবাইকে যা দেওয়া হবে তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ সব দখল করে নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ নেই। শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। কিন্তু ছাত্রলীগ শিক্ষকদের অসম্মান করছে। সেখানে তোমরা যারা ছাত্রদলের নেতাকর্মী আছ তোমাদের প্রতিবাদ করতে হবে। সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে তোমাদের প্রতিবাদ শুরু করতে হবে।’

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খালেদা জিয়া মিলনায়তনে প্রবেশ করলে মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে তাদের অভিনন্দনের জবাব দেন। এরপর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফুল দিয়ে সাংগঠনিক নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে