Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০১-০১-২০১৬

কুয়াশামাখা সকালে রঙিন বই উৎসব

ফাইয়াজ আহমেদ


কুয়াশামাখা সকালে রঙিন বই উৎসব

ঢাকা, ০১ জানুয়ারী- কুয়াশামাখা, শিশিরস্নিগ্ধ সোনালি সকাল। শীতের মিষ্টি রোদের হাল্কা আঁচ নিতে নিতে যেন প্রস্ফুটিত হয়ে উঠছিল শতসহস্র মুকুল। মুকুলই বটে, তারা এখনো পড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়েই। শুক্রবার শীতের সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তারা জড়ো হয়েছে। আজ বই উৎসব। নতুন বছরের প্রথম দিনে আজ সবার হাতে হাতে উঠবে নতুন বই। তাই প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিল ছোট ছোট সেই সোনামণিরা।

শতসহস্র শিশুর পদভারে মুখরিত ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বই উৎসবের উদ্বোধক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানও ছিলেন সেই সকাল থেকেই। আগত অন্যান্য অতিথিদের একের পর এক বক্তৃতা একটু ধৈর্যচ্যুতি ঘটালেও শিশুরা সার বেঁধে বসে ছিল নতুন বইয়ের জন্য। বক্তৃতা নয়, মঞ্চে সাজানো লাল-নীল হরেক ফিতায় মোড়ানো বইগুলোর দিকেই শিশুদের মন পড়ে ছিল শেষ পর্যন্ত। কখন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে, কখন মন্ত্রী ঘোষণা করবেন বই উৎসবের, আর কখন সবার হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়বে নতুন বইয়ের বাহারি সব মলাট-এমন আনন্দমাখা প্রতীক্ষায় বেশ কিছু সময় কেটেছে সমবেত সোনামণিদের।

অবশেষে সেই আনন্দক্ষণ এলো। বেলা সোয়া ১২টায় উৎসবের প্রধান অতিথি মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান উদ্বোধন ঘোষণা করলেন বই উৎসবের। সঙ্গে উড়ানো হলো শান্তির পায়রা ও রঙবেরঙের বেলুন। শিশুদের করতালিতে সচকিত হলো স্কুল প্রাঙ্গণ। উৎসবে বইতে থাকে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের প্লাবন।

নিষ্পাপ মুখের মিষ্টি হাসির সঙ্গে রঙিন বইয়ের ঝাঁপি এনে দিল নতুন বছরের নতুন আনন্দ। নতুন বই হাতে পেয়ে শিশুরা যেমন আনন্দিত তেমনি তাদের স্বপ্ন আর কল্পনার রাজ্যও যেন নতুন নতুন পরিকল্পনায় সেজে উঠলো। কয়েকজন শিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল সেইসব বিচিত্র স্বপ্ন, সাধ, পরিকল্পনার কথা।

ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র সাকিব হোসেন এবার তৃতীয় শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। নতুন বই হাতে পেয়ে কেমন লাগছে জানতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়, ‘নতুন বই পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে।’

নতুন বই দিয়ে কি করবে? এমন প্রশ্নের উত্তরটাও যেন তার কাছে তৈরিই ছিলো। বললো- ‘বাসায় গিয়ে বইগুলো সেলাই করবো, বাঁধাই করবো, নাম লিখবো।’ সাকিব তার স্বপ্ন ও ইচ্ছের কথাও জানাল। বললো- ‘লেখাপড়া করে আমি পুলিশ হবো’।

তার মতোই বই উৎসবে নতুন বই নিতে এসেছে সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র শাহাদাত হোসেন। সে এবছর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠেছে। বই পেয়ে আনন্দিত শাহাদাত জানায়, পড়াশোনা শেষ করে সে ডাক্তার হতে চায়।

সকাল আটায় স্কুলের মাঠে নতুন বই নিতে এসেছে ন্যাশনাল প্রাথমেকর তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হাসান। আসতে নাকি তার একটুও কষ্ট হয়নি। পাশে থাকা তার মা বলেন, ‘বই উৎসবের কথা শুনে ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে আমাকে ডেকে তোলে সে। সকালে নাস্তা বানিয়েছি। খুশিতে কিছুই মুখে তুলেনি। সব কিছু পরে, আগে নতুন বই নিতে হবে।’ পাশে থাকা হাসান আবার যোগ করে- ‘পরে আসলে পুরানো বই নেয়া লাগবে। নতুন বই অনেক সুন্দর। নতুন বই পড়তে আমার ভালো লাগে।’

এরকম আরো অনেক ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা এসেছে বই উৎসবে। নতুন বই, নতুন বছর, নতুন শ্রেণি- এতো সব নতুনের সমাহারে আনন্দের আর সীমা নেই কারো।

ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদালয় মাঠে এই বই উৎসব চলে আসছে ২০১০ সাল থেকে। বই উৎসবের আয়োজন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয়।

বই উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করতে গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার সারাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে একযোগে ২ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৪২৮ শিক্ষার্থীর মাঝে ১০ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৭ বই বিতরণ হচ্ছে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩ বই ও ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩ টি অনুশীলন খাতা বিতরণ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশের ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই ইৎসব হচ্ছে। আশপাশের দুটি স্কুলসহ আমরা এখানে জাতীয়ভাবে বই উৎবের আয়োজন করেছি। আগামীতে কিভাবে আরো ভালো উৎসব আয়োজন করা যায় এ বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’

বর্তমান সরকারেরে অনেক অর্জনের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীকে স্কুলগামী করতে পারাটাই সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন বলে আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষাই একমাত্র পন্থা। শিক্ষাক্ষেত্রের বিনিয়োগ ও অর্জনকে আমি সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ও অর্জন হিসেবে দেখি। আমাদেও ছেলে-মেয়েরা যদি মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে উঠে, শুধু আঞ্চলিক বা দেশীয় গণ্ডির জন্যই নয় তারা তখন সারা পৃথিবীর জন্য উপযুক্ত হয়ে  উঠবে। সে লক্ষ্যেই আমরা বিনিয়োগ করে যাচ্ছি।’

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকার প্রতি বছর ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সত্যিকারে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হয়ে উঠছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। সামনে দিনে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবো।’

প্রাথমিক শিক্ষ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরি সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হুমায়ুন খালেদ, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এমপিসহ আরো অনেকে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আবুহেনা মোস্তাফা কামাল।

শিক্ষা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে