Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০১-০১-২০১৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৩৮ শতাংশ : ক্যাব

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬.৩৮ শতাংশ : ক্যাব

ঢাকা, ০১ জানুয়ারি- ২০১৫ সালজুড়ে পণ্য ও সেবামূল্যের দরদাম উঠানামার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। তবে তুলনামূলকভাবে ২০১৪ এর চেয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম অনেকটা স্থিতিশীল ছিল বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।  

বৃহস্পতিবার ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে ২০১৫ ভোক্তার ঝুলিতে যেসব পণ্য ও সেবা আছে সেসব পণ্য বা সেবা পরিবারের মোট ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করে পণ্য বা সেবার ওজনের ভিত্তিতে জীবনযাত্রা ব্যয়ের এ হিসাব করা হয়েছে। এ হিসাব শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় বর্হিভূত।

ক্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সদ্য সমাপ্ত ২০১৫ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে শতকরা ৬ দশমিক ৩৮ ভাগ। পণ্য মূল্য ও সেবা সার্ভিসের মূল্য বেড়েছে শতকরা ৪ দশমিক ৮১ ভাগ। ২০১৪ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ অর্থাৎ ২০১৫ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ২০১৪ সালের চেয়ে শুন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ কম বেড়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০১৫ সালে দেশে দ্রব্যমূল্য অনেকটা স্থিতিশীল ছিল।’

ক্যাব তাদের বিশ্লেষণে বলছে, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ বা অধিক হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তার প্রভাব তেমন পড়েনি। ভোগ্য পণ্যের আমদানি গুটিকতক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করায় এবং তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে বাজার বিভাজনের অদৃশ্য সমঝোতার ফলে ভোক্তা সাধারণ বিশ্ব বাজারে মূল্য হ্রাসের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দরপতন অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকার তা দেশের তা বাজারে সমন্বয় করেনি। অন্যদিকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সিএনজির দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বাস-মিনিবাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়াও বাড়ানো হয়।’

সারা বছরের পণ্যমূল্যে পর্যালোচনায় ক্যাব দেখিয়েছে, ‘দেশি ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের মূল্য সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ শতকরা ৭৬ দশমিক ১৭ শতাংশ ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ বেড়েছে ৭৪ দশমিক ০২ শতাংশ এবং কাঁচামরিচে বেড়েছে ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।‘

এছাড়া, পণ্যমূল্য স্থিতিশীল থাকার কথা বললেও সমাপ্ত হতে যাওয়া এ বছরটিতে, ২০১৪ সালের তুলনায় মাংসের দাম বেড়েছে ২৫ দশমিক ১০ শতাংশ, মশলার দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, শাকসবজিতে বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ডিমে বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ, ডালে বেড়েছে ৮ দশমিক ০২ শতাংশ, ফলে বেড়েছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, পান-সুপারিতে বেড়েছে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, গুড় ও চিনিতে বেড়েছে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ, চা পাতায় বেড়েছে ১ দশমিক ০২ শতাংশ এবং নারিকেল তেলে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গৃহস্থালীতে গ্যাসের মূল্য বেড়েছে শতকরা ৪৪ দশমিক ৪৪ ভাগ, বিদ্যুতের গড় দাম বেড়েছে গড়ে শতকরা ২ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ওয়াসার পানি প্রতি হাজার লিটারে বেড়েছে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আবর দেশি থান কাপড়ে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, শাড়িতে ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং গেঞ্জি তোয়ালে ও গামছায় ২ দশমিক ৭১ শতাংশ দাম বেড়েছে বলেও ক্যাবের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তবে দাম কমেছে এরকম কয়েকটি পণ্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে ডালডা ও ঘি-তে, যা ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আটা-ময়দায় কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, চালে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ, ভোজ্য তেলে ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ, সুগন্ধি চালে কমেছে ৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, গুঁড়ো দুধে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং লবণে কমেছে ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া বেড়েছে গড়ে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাসা ভাড়া সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বস্তি এলাকায় ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ফ্ল্যাট বাসায় ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নব নির্মিত ১০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট বাড়ি অবিক্রিত অবস্থায় খালি পড়ে আছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় বিশেষ করে বনানী, গুলশান, উত্তরায় বহু আবাসিক ফ্ল্যাট মাসের পর মাস খালি থাকা সত্ত্বেও বাড়ির মালিক ভাড়া হ্রাস করছেন না।

তবে বরাবরের মতই স্বাস্থ্যখাতে সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ ও ব্যয়বহুল ছিল বলে জানিয়েছে ক্যাব। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ডাক্তারের ফি ছিল নিয়ন্ত্রণহীন। ব্যবস্থাপত্রে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট প্রদানের এবং মানহীন টেস্ট, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের অভিযোগ বরাবরের মতই উঠেছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে সবকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হয়েছে। অন্যদিকে, ফরলিনের ব্যবহারে হ্রাস টানা সম্ভব হলেও বাজারে নিম্নমান ও ভেজাল পণ্য অতীতের মতই বিক্রি হচ্ছে বলে জানায় ক্যাব।

শিক্ষর বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তবে ঝরে পড়ার হার এবং শিক্ষার মান এখনও দুশ্চিন্তার কারণ। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেতন ও নানা ধরনের ফি অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ অতীতের মতই অভিভাবকদের জন্য বাড়তি বোঝার কারণ ছিল। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বরাবরের মতই প্রশ্নবিদ্ধ থেকেছে।

দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে বেশকিছু সুপারিশ করেছে ক্যাব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হচ্ছে : আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য হ্রাসের সুফল ভোক্তা যাতে পেতে পারে সে লক্ষ্যে আমদানি বাণিজ্যকে অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করার প্রযোজনীয়তা বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। প্রয়োজনে বাস্তবতার ভিত্তিতে টিসিবির মাধ্যমে ‘লোকসান-নয়, লাভ-নয়’ ভিত্তিতে মানসম্পন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য নিয়মিত আমদানি ও বাজারজাতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা। গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের দাম সহনীয় মাত্রায় রাখাসহ আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনা।

২০০৭ সালে জারিকৃত পণ্যের মোড়কজাতকরণ বিধিমালা সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করা ও এ বিধিমালা দেশব্যাপী কার্যকর করা। বর্তমান গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো। পরিবহন সহজলভ্য করতে বাস, ট্যাক্সি-ক্যাব ও বেবি-ট্যাক্সির সংখ্যা বৃদ্ধি ও আইনের প্রয়োগ ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের ব্যবস্থা জরুরী ভিত্তিতে গ্রহণ করা। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।

পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন সড়ক, মেট্টোরেলসহ যোগাযোগ খাতের সব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা। যানজট নিরসন এবং যোগাযোগখাতে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করে পণ্য পরিবহন ব্যয় কমিয়ে আনা। শিক্ষা-চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালে রাখার উদ্যোগ নেয়া এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় দ্রুত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়া। আর্থিকখাতে বিশেষ করে ব্যাংকিংখাতকে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত রাখার পদক্ষেপ জোরদার করা। ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা দ্রুততর করে সাধারণ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা। কঠোর হস্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে দেশে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখা।

উল্লেখ্য, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সংগৃহীত ঢাকা শহরের ১৫টি বাজার ও বিভিন্ন সেবা-সার্ভিসের এর মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রি এবং ১৪টি সেবা সার্ভিসের তথ্য পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে