Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 2.6/5 (70 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৫-০৩-২০১২

ওরা ফতোয়াবাজ!

ওরা ফতোয়াবাজ!
শ্বশুরের সঙ্গে পুত্রবধূর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে শ্বশুর আবদুর রশিদ (৫০) ও পুত্রবধূ সালমা বেগমকে (২০) বেদম মারধরের পর মাথা ন্যাড়া করে (চুল কেটে দিয়ে) তাতে কালো রং মাখিয়ে সারা গ্রামে ঘুরিয়েছেন গ্রাম্য মাতব্বররা। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মাঝিহট্ট ইউনিয়নের সৈয়দ দামগারা গ্রামে। গত রবিবার সন্ধ্যায় সালিসি বৈঠকের পর সোমবার রাতে গ্রাম্য মাতব্বরসহ বৈঠকে উপস্থিত ৩৭ জনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ওই গ্রামের মৃত আবদুল মান্নান মণ্ডলের ছেলে আবুল কাসেম মণ্ডল (৩০), আবদুল হামিদ মণ্ডলের ছেলে তোফাজ্জল মণ্ডল (৩৫) এবং একই গ্রামের মৃত আবদুুল হামিদের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪০)।
থানা পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের সৈয়দ দামগারা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে ট্রাকের হেলপার জাকির মণ্ডল সাত মাস আগে আদমদীঘি উপজেলার বিনসারা গ্রামের আবদুুস ছালামের মেয়ে সালমা বেগমকে বিয়ে করেন। স্বামী ট্রাকের হেলপার হওয়ায় কাজের জন্য প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। এ সুযোগে গ্রামের কতিপয় বখাটে নববধূ সালমাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। এমনকি নানা রকম কুপ্রস্তাব দিত। সালমা বিষয়টি তাঁর স্বামী জাকিরকে জানালে তিনি বখাটেদের ডেকে তাঁর স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর পর থেকেই তারা নানাভাবে ওই পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য ফন্দি করছিল।
ঘটনার ১৫ দিন আগেও গ্রামের কতিপয় মাতব্বর সালমার সঙ্গে তাঁর শ্বশুর আবদুর রশিদের অবৈধ সম্পর্ক আছে দাবি করে তাঁদের বাড়িঘর ভেঙে অন্যত্র চলে যেতে বলেছিলেন। তা না হলে বাড়িঘর উচ্ছেদের হুমকিও দেন তাঁরা।
এ ঘটনার জের ধরে গত ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ওই গ্রামের মাতব্বর ওবায়দুল্লাহ (৫০), ইছাহাক আলী (৩২), রজিব উদ্দিন (৪০), জাহিদুল ইসলাম (৩৫), ধলু মুন্সীসহ (৩৮) অন্তত ৩৫ জন লোক আবদুর রশিদের বাড়িতে গিয়ে শ্বশুর ও পুত্রবধূর অবৈধ সম্পর্ক আছে দাবি করে জোর করে সালিস বসান। সালিসের নামে প্রথমে তাঁরা উভয়কে কিলঘুষি মারেন এবং একপর্যায়ে লাঠিপেটা করেন। এতে তাঁরা দুজন আহত হন। পরে অবৈধ সম্পর্কের শাস্তি হিসেবে রশিদ ও নববধূ সালমা বেগমের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন। এতেই তাঁরা ক্ষান্ত হননি, শ্বশুর-পুত্রবধূর মাথায় কালো রং লাগিয়ে পুরো গ্রাম ঘুরে নিয়ে বেড়ান। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে সালমার স্বামী জাকির মণ্ডলকেও মারধর করা হয়। সেখান থেকে বৈঠককারীরা উল্লাস করতে করতে তাঁদের টেনে-হেঁচড়ে দুই কিলোমিটার দূরে ত্রিমোহনী এলাকায় ইসাহার আলীর দোকানের সামনে আটকে রাখেন। এ বর্বরোচিত ঘটনা দেখে গ্রামের কিছু লোক থানায় খবর দেয়। রাত ১০টার দিকে পুলিশ আসছে শুনে সালিসকারীরা পালিয়ে যান। পরে অসুস্থ শ্বশুর ও স্বামী-স্ত্রীকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আবদুর রশিদের ছোট ভাই ভ্যানচালক আবদুুল জলিল মণ্ডল বাদী হয়ে সালিসকারী গ্রাম্য মাতব্বরদের ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপন করায় তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে কথা হলে জাকির মণ্ডল বলেন, 'মাতব্বর ও এলাকার কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমার বাবা ও স্ত্রী সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।' শিবগঞ্জ থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, গৃহবধূ সালমা বর্তমানে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েচিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিবগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। তাদের পরিবার থেকে দায়ের করা অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে