Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 1.6/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print

আপডেট : ০৯-২৫-২০১৫

আগামী বছরেই রাজ্যে সিমেন্ট কারখানা তৈরি শুরু জিন্দলদের

আগামী বছরেই রাজ্যে সিমেন্ট কারখানা তৈরি শুরু জিন্দলদের

কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর- আগামী বছরের গোড়ায় এ রাজ্যে সিমেন্ট কারখানার ইট গাঁথতে শুরু করবে জিন্দল গোষ্ঠী। সব কিছু ঠিকঠাক চললে বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার আগেই শালবনিতে এই ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রস্তাবিত ৩৫ হাজার কোটি টাকার ইস্পাত কারখানা আদৌ হবে কি না, সেই সংশয় থেকেই গেল। কারণ আকরিক লোহার মতো প্রধান কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত নয় বলে গোষ্ঠীর দাবি।

বৃহস্পতিবার বণিকসভা বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন ১১০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা) ব্যবসা করা জেএসডব্লিউ গোষ্ঠীর কর্ণধার সজ্জন জিন্দল। রাজ্যের অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্রকে পাশে রেখে বণিকসভার মঞ্চ থেকে তিনি জানান, শালবনিতে ১৫০ একর জমির উপর তৈরি হবে সিমেন্ট কারখানা। ৭০০ কোটি টাকার পুঁজি ঢালা হবে প্রকল্পে। বার্ষিক ২৪ লক্ষ টন সিমেন্ট উৎপাদন করার ক্ষমতা থাকবে এই কারখানার। তিনি বলেন, ‘‘জানুয়ারি মাসে প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। এক বছরের মধ্যেই কারখানা তৈরি হয়ে যাবে।’’ এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শিলান্যাস করার আর্জি জানাতে নবান্নে যান সজ্জন জিন্দল ও সংস্থার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তা বিশ্বদীপ গুপ্ত।

সিমেন্ট কারখানার পাশাপাশি ২০০০ কোটি টাকা লগ্নিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির কথাও ঘোষণা করেন সজ্জন জিন্দল। আরও ১০০ একর জমিতে তৈরি হবে এই কেন্দ্র। ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হবে এই কারখানায়। মূলত নিজেদের কাজকর্মের জন্যই এই বিদ্যুৎ কাজে লাগাবে সংস্থা।

২০০৭ সালে বিগত বাম সরকার ও জিন্দল গোষ্ঠীর মধ্যে মউ স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে জিন্দলদের ইস্পাত প্রকল্প বারে বারে বাধার মুখে পড়েছে। ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তত্‌কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শিলান্যাসের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে প্রকল্পের অদূরেই মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা। এর পরে ২০০৯ সালে মন্দার কারণে ইস্পাতের পড়তি চাহিদার দরুন এই প্রকল্পের জন্য ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পে সব মিলিয়ে এক কোটি টন ইস্পাত উৎপাদনের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা ছিল। সেই পরিকল্পনাতেই ছিল সিমেন্ট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন।

প্রস্তাবিত ইস্পাত প্রকল্প নিয়ে নতুন সরকারের আমলে তৈরি হয় জমি-জটিলতা। প্রয়োজন ছিল ৪,৩৩৪ একর জমি। ২৯৪ একর সরাসরি কেনে সংস্থা। জমির ঊর্ধ্বসীমা আইন অনুযায়ী শিল্পের জন্য বাড়তি জমি রাখতে ১৪ ওয়াই ধারায় আবেদন করে ভূমি দফতরের অনুমোদন নিতে হয়। ২৯৪ একর কেনার আগে সংস্থা অনুমোদন না-নেওয়ায় জমির লিজ চুক্তি আটকে যায়। শিল্প দফতরের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যা অবশ্য পরে মেটে।

তবে জমি সমস্যা মিটলেও প্রকল্প চালু হয়নি। কারণ বিশ্ব জুড়েই ইস্পাতের চাহিদা কমে যায়। তার উপরে শালবনি প্রকল্পের জন্য আকরিক লোহা ও কয়লার জোগান না-থাকায় ২০১৪ সালের নভেম্বরে প্রকল্প স্থগিত করে দেন সজ্জন জিন্দল। সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে জিন্দলদের সম্পর্কে জট বাড়তে থাকে।

এর পরেই প্রকল্প শুরু হতে দেরি হওয়ার কারণ দেখিয়ে বেসরকারি জমি মালিকদের থেকে কেনা ২৯৪ একর জমি ফেরত দিয়ে দিতে বলে রাজ্য সরকার। সরকারি নির্দেশ মেনে তা ফিরিয়েও দেয় জিন্দল গোষ্ঠী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ইঙ্গিত, রাজ্য সরকারের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গোষ্ঠী।

শিল্পমহলের মতে, ভোটের আগে এ বার সিমেন্ট প্রকল্পের শিলান্যাস গোষ্ঠী ও রাজ্য সরকার, দু’পক্ষেরই মুখরক্ষা করবে। বড়, মাঝারি ও ছোট, সব শিল্পেই রাজ্যে লগ্নির খরা অব্যাহত। সেই ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দেবে এই প্রকল্প। অন্য দিকে জিন্দলদের মূল ইস্পাত প্রকল্প শুরু করতে না-পারার ব্যর্থতাও আংশিক ভাবে মুছে দেবে এই সিমেন্ট কারখানা।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে