Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

Login
ইউনিজয়
ফনেটিক
English

গড় রেটিং: 3.1/5 (58 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

print
আপডেট : ০৮-০৮-২০১৫

কে অবাঞ্ছিত

আকতার হোসেন


যে মানুষ নিজেই প্রতিনিয়ত বিচারের কাঠগড়ায়, যাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে একদিন তাঁকে কে দিল বিচারকের অধিকার? মানুষের বিচার ভুল হতে পারে। আজ না হয় কাল ক্রুটি ধরা পড়তে পারে। অথচ তোমাদের বিচার চূড়ান্ত। ভুল ধরা পরলে সংশোধনের সুযোগ নেই। বিচার শুধু তাঁরই সাজে যে কখনো কাঠগড়ায় দাঁড়াবে না। তুমি তোমার বিচারের আসন ছাড়। যে আসন জবরদখল করেছ অন্যায় ভাবে। নিশ্চয় বেদখল একটি নিকৃষ্ট কর্ম। 

কে অবাঞ্ছিত

ভাল করে বলতে গেলে আসলে তুমি কেউ না। তোমার উচ্চারিত নিষেধমালা গলায় পড়ে আমরা নাচবো এমন আশা করা ভুল। কেন না, তুমি আসলে কেউ না। তুমি শুধু তুমি। অন্যকে দলে ভেড়াতে পারবে না। কাজেই তাকে ‘তুমি’ বানাতেও পারবে না। সে কখনো  তুমি হবে না। সে বিচ্যুত নয়। যদিও তুমি সেটাই প্রচার করছ। আসলে সে রয়েছে তোমার থেকে অনেক দূরে। তুমিও তাঁর কাছের কেউ না। চোখের সামনে থেকেও মানুষ যে দূরের হয়ে যায় তা শুধুই সহিষ্ণুতার অভাবে। তুমি যা বল বা কর সেসব থেকে সে সম্পূর্ণ মুক্ত। সে যা করে বা বলে তুমি সেসব বিশ্বাস কর না। তুমি বললেই কেন সে বর্জনীয় হবে। তুমি বললেই সে কেন স্খলিত হবে। কাউকে অবাঞ্ছিত বলার তুমি কে? 

ভাল করে বলতে গেলে আসলে তুমি কেউ না। পেছনে কিছু লোক রেখে তুমি কথা বল অথচ সে শক্তি পায় ভেতর থেকে। তুমি দুর্বল তাই অন্যর পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বল, যদিও সেই পক্ষ তোমার সামান্যতম সাহায্য কামনা করে না। এদিকে তুমি যাকে বর্জনের ঘোষণা দাও তাঁকে শক্তি দেয় তাঁর শিক্ষা। সে জ্ঞানের উপর দাঁড়িয়ে আছে। একথা সত্য যে তোমাদের মধ্যে কখনো লড়াই হবে না। দুর্বলে সবলে লড়াই হয় না। যদিও তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ পশ্চাৎ থেকে আঘাত কর এবং সেই আঘাতের জন্য অনুপ্রেরণার অংশটুকু ভুল ব্যাখ্যা কর। যে ব্যক্তি নিরস্ত্র কিংবা যুদ্ধে লিপ্ত নয় অথবা যার হাতে অস্ত্র নেই তাঁকে পেছন থেকে আক্রমণ করার অনুমোদন নেই। যুদ্ধ কালীন অবস্থা এবং টিকে থাকার সংগ্রামে অতীতে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছিল সেখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তোমরা শান্তিপূর্ণ সহবস্থানকে অশান্ত করছ। পাহাড়ের মত দাঁড়িয়ে থাকা শক্ত অবস্থানকে বাঁচাতে এমন মায়া কান্না করছ যেন শক্ত জিনিসটা মোটেও পোক্ত নয়। যদিও ইচ্ছে করলে তোমারা আদি নির্দেশে ফিরে যেতে পারতে। তোমরাও পড়তে পারো। কি পড়বে? যাকিছু সম্মুখে আছে সেটা পড়বে। চোখের ভাষা পড়বে। মনের কথা পড়বে আর সম্ভব হলে ভুলকে মেনে নেবে। অথচ তোমারা মোটেও পড়তে চাও না। তাই অবুঝের মত বলছ যারা আলো দেয় তাঁরা অবাঞ্ছিত। 

ওদের অবাঞ্ছিত করার অধিকার কোথায় পেলে তোমরা? এটা কি অধিকার হরণ নয়। তোমরা কি রাজদণ্ড চুরি করেছ অথবা না বুঝেই বসে পড়েছ সিংহাসনে? হাত রেখেছ বিচারের নথিতে যা তোমাদের জ্ঞানের বাইরে। শুধুই বকে যাচ্ছ, শুধু নাড়াচ্ছ পুচ্ছ টিকা। কাকের মত ময়ূর হবার বাসনা রেখেছ মনে অতঃপর এ-কূল ওকূল দুকূলই হারাতে পার। ‘অবাঞ্ছিত’ ‘অবাঞ্ছিত’ শব্দটা বারবার শুনে শিশুরাও আজ বলতে শুরু করেছে –‘তুই অবাঞ্ছিত’। 

সকল নাগরিকের অধিকার সমান। এখানে বৈষম্যের কোন সুযোগ নেই। কারো ক্ষমতা নেই অন্যের অধিকার খর্ব করার। ভেবে দেখ তোমাকেও যদি কেউ অবাঞ্ছিত বলে দেয় তখন কি পেছনের লোকগুলো তোমাকে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে? মনে কর একটি সংবাদ পরিবেষণ করা হল। আজ থেকে সমস্ত অবাঞ্ছিত ঘোষকদের অবাঞ্ছিত করা হল। শুধু তুমি একা নয়। তোমার মত কথায় কথায় অবাঞ্ছিত ঘোষকেরাও আজ থেকে অবাঞ্ছিত। এমন সম্ভাবনার কথা হেসে উড়িয়ে দিও না, যদিও তোমারা হাসতে ভুলে গেছ। তোমাদের রায়ে ওরা অবাঞ্ছিত। ওদের রায়ে তোমরা। এবার আসল অবাঞ্ছিত কে সেটা বিচার করবেন প্রধান বিচারক।

সমাজ সংসারে দুটি প্রতিবেশী মুখোমুখি বসবে না। তারা কেউ কারোর মুখ দেখবে না। যতদিন বেঁচে থাকবে পাশ কেটে যাবে। ভাই-ভাই হবার সম্ভাবনা পায়ে দলে কেউ কেউ মানুষের মৃত্যু কামনা করবে। এইতো হয়ে আসছে হাজার যুগ ধরে। খুব কম মানুষই আজ পর্যন্ত মানুষ হতে পেরেছে। মোটা দাগের মানুষ আজও রয়েছে গেছে অন্ধকার যুগে। যদিও আলোতে না আসার কোন কারণ নেই। আসবো না, থাকবো না তোমাদের দলে শুধু এই অভিযোগ তুলে মানুষ আজ দুভাগে বিভক্ত। 

যে মানুষ নিজেই প্রতিনিয়ত বিচারের কাঠগড়ায়, যাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে একদিন তাঁকে কে দিল বিচারকের অধিকার? মানুষের বিচার ভুল হতে পারে। আজ না হয় কাল ক্রুটি ধরা পড়তে পারে। অথচ তোমাদের বিচার চূড়ান্ত। ভুল ধরা পরলে সংশোধনের সুযোগ নেই। বিচার শুধু তাঁরই সাজে যে কখনো কাঠগড়ায় দাঁড়াবে না। তুমি তোমার বিচারের আসন ছাড়। যে আসন জবরদখল করেছ অন্যায় ভাবে। নিশ্চয় বেদখল একটি নিকৃষ্ট কর্ম। 

যদি পার, ওদের মত একটি পদ লিখে দেখাও। সেটা হয়তো মৃত্যুর পর তোমাদের সাক্ষী হয়ে কথা বলবে। তোমাকে ভাষা দেয়া হয়েছে নিজ ভাষায় কথা বলার জন্য, সত্য প্রকাশ করার জন্য। নিজে যা করতে পারছ না অন্যরা করলে তাঁকে গাল মন্দ করছ কেন। যে শব্দ তৈরি করে, যে বাক্য দাঁড় করায় যে কেতাব লেখক তাঁকে তুমি অবাঞ্ছিত করার অধিকার কোথায় পেলে। যে লিখতে পারে, বলতে জানে সে যদি কোন কিছু না বলে যায়, না লিখে যায় তাহলে যারা পড়বে বলে আশা করে থাকে তারাই সত্যিকারের বঞ্চিত। অথচ তোমাদের হাত দিয়ে দুকলম লেখা বের হয় না। কিছু না রেখে মরে গেলে কিছুই হারাবার নেই তোমাদের। কাজেই যে ব্যক্তি কিছু লিখে যেতে পারে সে যদি সুযোগ না পায় তবে দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। যারা কলম ধরেছে তাদের বাঁচতে দাও। হুকুম আসার আগ পর্যন্ত তারাও বেঁচে থাকার অধিকার রাখে, এভাবে ভাবতে শেখ।  

মুক্তমঞ্চ

  •  1 2 > 
Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে